হরমুজ প্রণালিতে ইরানি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ দুর্বল বা বিলুপ্ত করার মার্কিন প্রচেষ্টার জবাব দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি ৩০ আগস্ট সিরিক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর ইরানের পাল্টা সামরিক অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
আকরামিনিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে ইরান প্রথম দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ করে। এ সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা চারটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয় বলে ইরনার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।তিনি জানান, ওই অভিযানে ফাতেহ সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র এবং আরাশ-২ যুদ্ধ ড্রোন ব্যবহার করে ইরানি বাহিনী। এসব অস্ত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন ব্যবস্থা সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ইরানি সেনাবাহিনীর মুখপাত্র বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে এসব অস্ত্র প্রতিহত করা প্রতিপক্ষের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে সেগুলো আঘাত হানতে সক্ষম হয়।
সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে ইরানের অস্ত্র ও সরঞ্জাম আধুনিকায়নের কাজ অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান আকরামিনিয়া।
তার দাবি, ইরানের সামরিক অভিযানে অসম যুদ্ধকৌশল ও সমন্বিত কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে, যা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে কার্যকর ফল দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ১২ দিন ও ৪০ দিনের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরানের সেনাবাহিনী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবার আরও বেশি প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও উদ্দীপনা নিয়ে সংঘাতে অংশ নিয়েছে।
এদিকে ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইরানের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আকরামিনিয়া। তার দাবি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের জন্য ইসরাইলের দিকে যাওয়ার পথ এখন তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ভবিষ্যতে যেকোনো ইসরাইলি আগ্রাসনের জবাব আরও দ্রুত ও কঠোরভাবে দেওয়া সম্ভব হবে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই