সরকারি চাকুরেদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে আগামী দুই বছরে সরকারের প্রয়োজন হবে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এ অর্থের জোগান দিতে সরকারকে সবচেয়ে বেশি বেগ পেতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে এজন্য সরকারের সামনে তিনটি পথ খোলা রয়েছে। এগুলো হচ্ছে রাজস্ব বাড়ানো, অন্য খাতের ব্যয়সংকোচন এবং ঋণ নিয়ে চাহিদা মেটানো। এতে অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করতে গিয়ে অস্বস্তি বাড়বে রাজস্ব খাতে। অন্যথায় অন্য কোনো খাতের অর্থ আনতে হবে বেতন-ভাতা পরিশোধে। সবশেষ এ দুটি পন্থায় সফল না হলে সরকারকে দেশি কিংবা বিদেশি উৎস থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিতে হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করতে পারে। এসব দিক বিবেচনায় নতুন পে-স্কেল নিয়ে আপত্তি করছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গিয়ে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়বে। কেননা বাজারে টাকার প্রবাহ বাড়লে বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকিও। এ ছাড়া বাড়তি আর্থিক চাহিদা মেটাতে সরকার ব্যাংক থেকে বেশি পরিমাণে ঋণ নিলে চাপে পড়বে বেসরকারি খাত; যাতে কমবে ঋণপ্রবাহ। ব্যাহত হবে ব্যবসাবাণিজ্য। এসব কারণে বিশ্লেষকরা ‘পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে হিসাব মেলানোই দায়’ বলে মনে করেন।
বিশ্লেষকদের মতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে বছরে প্রয়োজন অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। এ অঙ্কটি কেবল অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দ নয়; এটি আগামী বছরগুলোয় সরকারের রাজস্ব ও ব্যয়ের কাঠামোর ওপর স্থায়ী প্রভাব ফেলবে। কারণ হিসেবে বলেছেন, বেতন-ভাতা একবার বাড়লে তা পরবর্তী বছরগুলোয় বহাল থাকবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে বর্ধিত বেতন, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধার ক্রমবর্ধমান দায়। ফলে নতুন পে-স্কেলকে এখন শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়, ঋণব্যবস্থাপনা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগের সক্ষমতার ওপরও পরীক্ষা।
এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ রাজস্ব ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি। এ প্রেক্ষাপটে বছরে অতিরিক্ত ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা পে-স্কেল ব্যয় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি সরকারের লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মোট রাজস্বের প্রায় ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের অগ্রগতি না হলে নতুন ব্যয় সামলাতে সরকারের উন্নয়ন ব্যয় আরও সংকুচিত করতে হবে। বর্তমান বাজেটেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি এবং পেনশন, গ্র্যাচুইটিসহ সংশ্লিষ্ট খাতে মোট ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। নতুন কাঠামো পুরোপুরি কার্যকর হলে এ ব্যয় আরও বাড়বে। সমস্যাটা এখানেই-বেতন ও পেনশন হচ্ছে অনমনীয় ব্যয়। রাজস্ব কমে গেলে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প স্থগিত বা কাটছাঁট করতে পারে। বেতন-পেনশন কমানো যায় না। ফলে ভবিষ্যতে রাজস্ব আদায় দুর্বল হলে সমন্বয়ের চাপ পড়বে তুলনামূলক নমনীয় ব্যয়ের ওপর।
আইএমএফের সমীকরণ : গত জুলাইয়ে ঢাকা সফরের সময় আইএমএফ প্রতিনিধিরা বলেছিলেন আপাতত নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন না করতে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইএমএফের সংস্কার কর্মসূচি। রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানো, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ, ভর্তুকি ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা-এসব বিষয়ে সরকারের প্রতিশ্রুতি রয়েছে। এ অবস্থায় বড় অঙ্কের নতুন স্থায়ী ব্যয় যুক্ত হওয়ায় সরকারের জন্য আইএমএফের সঙ্গে আর্থিক নীতি সমন্বয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। বিশেষ করে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত না বাড়িয়ে ব্যয়ের কাঠামো সম্প্রসারিত হলে ভবিষ্যতে আর্থিক সংহতির লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে।
বাজারে বাড়বে চাহিদা : বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পে-স্কেলের পুরো প্রভাব নেতিবাচক নয়। প্রায় ৩৩ লাখের বেশি সরকারি কর্মচারী, অবসরপ্রাপ্ত ও অন্যান্য সুবিধাভোগীর হাতে বাড়তি অর্থ যাবে। এর বড় অংশ দ্রুত বাজারে ফিরে আসবে। খাদ্য, পোশাক, বাসস্থান, পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা, রেস্তোরাঁ, ভোগ্যপণ্য ও সেবার চাহিদা বাড়বে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারনির্ভর ব্যবসা কিছুটা গতি পেতে পারে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের আয় বৃদ্ধির মার্জিনাল প্রপেনসিটি টু কনজিউম বা প্রান্তিক ভোগপ্রবণতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তাদের বাড়তি আয়ের বড় অংশই ভোগে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে অর্থনীতিতে চাহিদার একটি গুণিতক প্রভাব তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ মাশরুর রিয়াজ।
বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি : চাহিদা বাড়ার বিপরীতে উৎপাদন না বাড়লে এই ইতিবাচক প্রভাব দ্রুত মূল্যস্ফীতির চাপে পরিণত হতে পারে। অর্থনীতিতে ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি বড় নীতি-চ্যালেঞ্জ। নতুন পে-স্কেলের কারণে যদি চাহিদা বাড়ে কিন্তু খাদ্য, শিল্পপণ্য ও সেবার সরবরাহ সে অনুপাতে না বাড়ে, তাহলে প্রকৃত আয় বৃদ্ধির একটি অংশ মূল্যবৃদ্ধিতে শোষিত হতে পারে। তাই পে-স্কেলের অর্থনৈতিক ফলাফল নির্ভর করবে কত টাকা অতিরিক্ত বাজারে যাচ্ছে তার ওপর নয়; বরং সেই টাকার বিপরীতে অর্থনীতি কতটা অতিরিক্ত পণ্য ও সেবা উৎপাদন করতে পারছে তার ওপর।
স্বস্তি না চাপ : নতুন পে-স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে ২০ হাজার এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা করা হয়েছে। দীর্ঘদিনের উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে প্রকৃত আয় ক্ষয় হওয়া সরকারি কর্মচারীদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে স্বস্তির।
কিন্তু রাষ্ট্রের হিসাব আলাদা। সরকারের জন্য মূল প্রশ্ন হচ্ছে-অতিরিক্ত আয় সৃষ্টি না করে অতিরিক্ত ব্যয় কত দিন বহন করা সম্ভব? বেতন-ভাতা বাড়ানোর ফলে ভোগ বাড়বে, ভ্যাট-কর আদায়ও বাড়তে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে ঋণ ও সুদ ব্যয় বাড়লে সেই সুবিধার একটি অংশ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। আবার উন্নয়ন ব্যয় কাটছাঁট করে পে-স্কেলের অর্থ জোগালে ভবিষ্যৎ উৎপাদনসক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘সরকার যদি পে-স্কেল ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে করের আওতা ও আদায় বাড়াতে পারে, তাহলে চাপ অনেকটাই সামলানো সম্ভব। কিন্তু রাজস্ব কাঠামোর সংস্কার ছাড়া ঋণনির্ভর অর্থায়ন বাড়লে রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতার ওপর চাপ দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।’ যা সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য ঝুঁকির মুখে ফেলবে বলে মনে করেন তিনি।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির শঙ্কায় ভোক্তারা : নতুন পে-স্কেল ঘোষণার পর রাজধানীর খুচরা বাজারে দৃশ্যমান কোনো মূল্যপ্রভাব পড়েনি। সবজি, মাছ, মুরগিসহ নিত্যপণ্যের দাম আগের মতোই রয়েছে। তবে বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে স্বস্তির চেয়ে শঙ্কাই বেশি। তাঁদের আশঙ্কা, বেতন বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে।
গতকাল রাজধানীর মুসলিম ও কালশী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতার ভিড় স্বাভাবিক থাকলেও অনেকেই দাম নিয়ে আগের মতোই হিসাব করে কিনছেন। মুসলিম কাঁচাবাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়া ইতিবাচক বিষয়। কিন্তু সমস্যা হলো, আমাদের বেতন তো বাড়ছে না। কয়েক দিনের মধ্যে যদি চাল, ডাল, তেল বা সবজির দাম বাড়ে, তাহলে আমাদের সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে যাবে।’
মিরপুর থেকে রামপুরাগামী অছিম পরিবহনের বাসে কথা হয় একটি বেসরকারি কোম্পানির কর্মী শান্তনু দাশের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য পে-স্কেল এসেছে, কিন্তু বেসরকারি খাতে তো এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বাজারে দাম বাড়লে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর।’
সরকারের প্রতি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কৃতজ্ঞতা : পে-স্কেল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ। সংগঠনটি বলেছে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক সচ্ছলতা বাড়বে। একই সঙ্গে তাঁদের কর্মস্পৃহা, দায়িত্ববোধ ও জনসেবার মানসিকতা আরও বাড়বে। গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন সংগঠনের সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম। পে-স্কেলকে স্বাধীনতার পর সরকারি কর্মচারীদের জন্য ‘ঐতিহাসিক, অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও যুগোপযোগী’ বেতনকাঠামো হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘অতীতে কোনো বেতনকাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য এত ব্যাপক সুযোগসুবিধা দেওয়া হয়নি। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের প্রতি নতুন পে-স্কেলে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
নতুন পে-স্কেলে সবার বেতন দ্বিগুণ হবে এমন নয় : নতুন পে-স্কেল কার্যকর হলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তবে নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের সবার বেতন দ্বিগুণ হবে বিষয়টি এমন নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। গতকাল সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নতুন পে-স্কেলের ফলে বাজারে কী প্রভাব পড়তে পারে এবং তা মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে সেটিকে সহনীয় বলা যায়। কিন্তু দেশে দীর্ঘদিন ধরে মূল্যস্ফীতি ২ অঙ্কে ছিল এবং তা ১০ শতাংশের বেশি ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে অবশ্য মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। বিপুল সংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতির কিছুটা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতনস্কেলে সবার বেতন একসঙ্গে দ্বিগুণ হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়।
সুুষ্ঠুভাবে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে চাপ এড়ানো সম্ভব : সরকার সুষ্ঠুভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করলে একবারে বড় ধরনের চাহিদার চাপ এড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের আয় ও ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার ফলে ভোগব্যয় ও সামগ্রিক চাহিদা বাড়বে। সেই অনুপাতে খাদ্য, বাসস্থান, পরিবহনসহ অন্যান্য পণ্য ও সেবার সরবরাহ না বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে একই সঙ্গে বাজারে পণ্যের সরবরাহ, প্রতিযোগিতা ও তদারকি নিশ্চিত করতে হবে বলেও মনে করেন ড. ফাহমিদা খাতুন। গতকাল বাংলাদেশ প্রতিদিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ড. ফাহমিদা বলেন, দীর্ঘদিন বেতন সমন্বয় না হওয়ায় মূল্যস্ফীতির কারণে সরকারি কর্মচারীদের, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মীদের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতা কমেছে। নতুন পে-স্কেল তাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে। তবে বেতন বৃদ্ধির ফলে ভোগব্যয় ও সামগ্রিক চাহিদা বাড়বে। সেই অনুপাতে খাদ্য, বাসস্থান, পরিবহন ও অন্যান্য পণ্য ও সেবার সরবরাহ না বাড়লে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হতে পারে।
বেসরকারি খাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের বেতনের মধ্যে ব্যবধান বেড়ে গেলে বেসরকারি খাতেও বেতন সমন্বয়ের দাবি জোরালো হতে পারে। জীবনযাত্রার ব্যয় সবার জন্য বেড়ে যাওয়ায় শুধু সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়লে বেসরকারি কর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও বিভিন্ন মজুরি বোর্ডের আওতাভুক্ত শ্রমিকদের মধ্যে বৈষম্য ও অসন্তোষ তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।