Image description

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ রক্তের বাণিজ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালসংলগ্ন ধাপ ও আশপাশের এলাকায় লাইসেন্সবিহীন ব্লাড ব্যাংক ও অনুমোদনহীন কিছু ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রকাশ্যে চলছে রক্ত কেনাবেচা। জরুরি প্রয়োজনকে পুঁজি করে এক ব্যাগ রক্ত ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হচ্ছে।

হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার রোগী চিকিৎসা নেন। হাসপাতালকে কেন্দ্র করে আশপাশে গড়ে উঠেছে শতাধিক ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর একটি অংশ অবৈধ বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালসংলগ্ন ধাপ এলাকায় বৈধ রক্ত সংগ্রহ ও সংরক্ষণকেন্দ্র রয়েছে দুটি। এর বাইরে অন্তত ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে রক্তের কেনাবেচা চলছে বলে অনুসন্ধানে জানা গেছে। কয়েক দিন ধাপ ও আশপাশের এলাকায় পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মাদকাসক্ত, ভবঘুরে ও দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে রক্ত সংগ্রহ করছেন দালালচক্রের সদস্যরা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রায় ৪০-৫০ জনের একটি চক্র নিয়মিত রক্ত বিক্রি করেন।

দাতাদের সামান্য টাকা দিয়ে সংগ্রহ করা সেই রক্ত জরুরি প্রয়োজনে রোগীর স্বজনদের কাছে কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। নগরীর কামালকাছনা এলাকার এক ভুক্তভোগী জানান, জরুরি প্রয়োজনে দালালের কাছ থেকে তিনি ৩ হাজার টাকা দিয়ে এক ব্যাগ রক্ত কিনেছেন। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, যথাযথ পরীক্ষা, স্ক্রিনিং ও ক্রস-ম্যাচিং ছাড়া রক্ত সংগ্রহ ও সরবরাহ করা হলে রোগীর শরীরে সংক্রমিত বা ভুল রক্ত যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে পেশাদার রক্তদাতা ও মাদকাসক্তদের রক্তে এইচআইভি, হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি ও সিফিলিসের মতো সংক্রমণ থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এতে রোগীর গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। 

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, রক্ত পরিসঞ্চালনসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্সসহ নির্দিষ্ট অবকাঠামো ও জনবল থাকা বাধ্যতামূলক। এর মধ্যে রক্ত সংগ্রহের কক্ষ, সার্বক্ষণিক এমবিবিএস চিকিৎসক ও টেকনোলজিস্ট, ব্লাড ব্যাংক রেফ্রিজারেটর এবং বিভিন্ন সংক্রামক রোগ শনাক্তের পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হয়। ধাপ এলাকার কথিত অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোতে এসব সুবিধা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. শাহীন সুলতানা বলেন, ‘কাগজ না দেখে বলা যাবে না রংপুরে বৈধ কতটি ব্লাড ব্যাংক রয়েছে।’ তিনি জানান, অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।