Image description
দুদকে মামলা চলমান

ঢাকায় সরকারি প্লট, বনানীতে কোটি টাকার বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, স্ত্রীর প্রায় শতভরি স্বর্ণ, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় একাধিক বাড়িসহ বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক সদস্য (কর) জিয়াউদ্দিন মাহমুদ। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কর প্রশাসনের প্রভাবশালী পদে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করে কর রেয়াত পাইয়ে দেওয়া, বদলি বাণিজ্য ও অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে এসব সম্পদ অর্জন করেছেন তিনি। কালবেলার অনুসন্ধানে এসব অভিযোগের নানা তথ্য-উপাত্তের পাশাপাশি সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্জিত অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচারের তথ্যও উঠে এসেছে।

রাজউকের নিয়ম অনুযায়ী, স্বামী-স্ত্রী দুজনের নামে প্লট পাওয়ার সুযোগ না থাকলেও অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে জিয়াউদ্দিন মাহমুদ নিজের ও স্ত্রীর নামে ঢাকার উত্তরা ও পূর্বাচলে সরকারি প্লট নেন এবং বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। এ বিষয়ে জানতে রাজউকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কেউ রাজি হননি। প্লট ক্রেতা বা বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তির নাম এমআইএসে অন্তর্ভুক্ত করার নিয়ম থাকলেও জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও তার স্ত্রীর প্লটের তথ্য সেখানে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

অভিযোগ আছে, জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ঘুষ ও অবৈধ পারিতোষিকের বিনিময়ে অবৈধভাবে বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে আয়কর সুবিধা দিয়ে নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে অবৈধ সম্পদ করেছেন। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে। এসব মামলা থেকে নিস্তার পেতে নানাভাবে তদবির করে যাচ্ছেন তিনি।

এ বিষয়ে রাজউকের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট কাজী মোহাম্মাদ মাহাবুবুল হক কালবেলাকে বলেন, এমআইএসে অনেকের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এনবিআরের সাবেক সদস্য জিয়াউদ্দিন মাহমুদের তথ্য চাইলে তিনি বলেন, তার বিষয়ে তথ্য দেওয়া নিষেধ আছে।

এমআইএসের অন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কালবেলা প্রতিবেদকের কথা হয়েছে। তারা জানান, জিয়াউদ্দিন মাহমুদ ও তার স্ত্রীর প্লটের তথ্য এমআইএসে নেই। জানা গেছে, দেশের বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডায় একাধিক বাড়ি কিনেছেন জিয়াউদ্দিন মাহমুদ। তার দুই ছেলের একজন অস্ট্রেলিয়ায় এবং অন্যজন কানাডায় বসবাস করেন।

আরও জানা গেছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামরিক সচিব জয়নাল আবেদীনের বন্ধু জিয়াউদ্দিন মাহমুদ সদস্য (কর প্রশাসন) থাকাকালে কমিশনারকে চাপ দিয়ে বেশ কয়েকটি কোম্পানিকে কর রেয়াত সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন। এর বিনিময়ে শত শত কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব টাকা তিনি বিদেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কর প্রশাসনে বদলি বাণিজ্য তার নিয়মিত কাজ ছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে। অর্থের বিনিময়ে তিনি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি করতেন। এ কারণে চাকরিতে থাকাকালে তার অধস্তনরাও তাকে ভালো চোখে দেখতেন না।

এনবিআর সূত্র জানায়, অবৈধ ডলার বা টাকা সংরক্ষণে ঝামেলা এবং যে কোনো সময় বিপদের কারণ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় জিয়াউদ্দিন মাহমুদ তার স্ত্রীর প্রায় একশ ভরি স্বর্ণ দিয়ে তাঁতিবাজার থেকে গোল্ডবার তৈরি করেছেন। সরকারি প্লট ছাড়াও রাজধানীতে নামে-বেনামে তার একাধিক প্লট রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে জিয়াউদ্দিন মাহমুদের বক্তব্য জানতে কালবেলার অনুসন্ধান দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। তিনি ফোন ধরেননি। তাকে বার্তা দেওয়া হলেও সাড়া দেননি। পরে তার ছেলে পরিচয় দিয়ে একজন আমেরিকান সিম ব্যবহার করে কালবেলার অনুসন্ধান দলকে ফোন করেন এবং তিনি নিজেকে মেজর পরিচয় দিয়ে হুমকি দেন।