ভারত থেকে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে এবার দিতে হবে অতিরিক্ত চার্জ। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০০৫ রুপি দাবি করেছে নয়াদিল্লি। এটিকে বলা হচ্ছে এসএনএ চার্জ। এ জন্য ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনটিপিসি বিদ্যুতের ব্যাপারে নিগম লিমিটেড বা এনভিভিএন এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি’র মধ্যে ‘সেটেলমেন্ট নোডাল এজেন্সি’ বা এসএনএ চুক্তি করতে হবে। এনটিপিসি বিদ্যুৎ ব্যবহারে নিগম লিমিটেড (এনভিভিএন)-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ ভারত থেকে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে। ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিইআরসি প্রথমে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের জন্য ০.০১ রুপি চার্জের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে বাংলাদেশের পিডিবি চার্জ কমানোর আবেদন করে। তার পরেই চার্জ কমে দাঁড়িয়েছে ০.০০৫ রুপিতে।
কর্মকর্তাদের মতে, এই চার্জ বিদ্যুতের দাম নয়। আন্তঃদেশীয় বিদ্যুৎ বাণিজ্যে গ্রিড পরিচালনা এবং লেনদেন নিষ্পত্তির খরচ হিসাবেই এই চার্জ নেয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। শিডিউল ঠিক করা, মিটার থেকে তথ্য নেয়া, বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ব্যবহারের হিসাব মিলিয়ে ভারত থেকে বিদ্যুৎ কিনতে বাংলাদেশকে দিতে হবে এই অতিরিক্ত চার্জ।
ভারত অবশ্য জানিয়েছে, নেপাল এবং ভুটানের সঙ্গেও একই হারে এসএনএ চার্জ নেয়া হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের জন্য নিয়ম আলাদা নয়। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর বিদ্যুৎ বাণিজ্যে একই ব্যবস্থা চালু করেছে সিইআরসি। বর্তমানে বিভিন্ন চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ২৬৫৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ আমদানির সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে এনভিভিএনের মাধ্যমে ২৫০ মেগাওয়াট এনটিপিসি থেকে, ৩০০ মেগাওয়াট ডিভিসি থেকে এবং ১৬০ মেগাওয়াট ত্রিপুরা স্টেট ইলেকট্রিসিটি করপোরেশন থেকে পাওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া পিটিসি ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ২০০ মেগাওয়াট এবং সেম্বকর্প থেকে সরাসরি ২৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিও রয়েছে। সব মিলিয়ে ১১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্যই নতুন এসএনএ চুক্তির উদ্যোগ।
তবে ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ১৪৯৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির চুক্তিতে এই ধরনের চার্জের বিষয়টি আগেই রয়েছে। তাই তার জন্য আলাদা এসএনএ চুক্তির প্রয়োজন হবে না। প্রতিবেশী দেশগুলোর বিদ্যুৎ বাণিজ্যে একই ব্যবস্থা চালু করেছে সিইআরসি।