রাজধানীর বনানীতে ৫৭ লাখ টাকার জাল নোট দিয়ে স্বর্ণালংকার কিনতে গিয়ে ধরা পড়া রুবেল আহম্মেদকে ঘিরে বের হচ্ছে নানা চমকপ্রদ তথ্য। তিনি বান্ধবীর জন্য জাল মুদ্রায় কেনার চেষ্টা করছিলেন ওই স্বর্ণালংকার। তার প্রতারণার গল্প এখানেই শেষ নয়। রীতিমতো বহুমাত্রিক প্রতারণার মাস্টার এই রুবেল। তিনি হেলিকপ্টারে চড়েন, নিজের পরিচয় দেন বিদেশি দাতা সংস্থার কান্ট্রি ম্যানেজার। ঢাকায় ফ্ল্যাট না থাকলেও মাসের পর মাস থাকেন তারকা হোটেলে। অথচ টেনেটুনে তিনি পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করতে পেরেছিলেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, এই রুবেল পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করলেও প্রতারণায় মূলত ‘গ্র্যাজুয়েট’। কখনও তিনি পরিচয় দিতেন বিদেশি দাতা সংস্থা ও এনজিওর বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা থেকে শুরু করে নানা উন্নয়নমূলক কাজের কথা বলে বিভিন্ন জেলায় জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীদের টার্গেট করেন। তাদের বিভিন্ন ভিডিও প্রেজেন্টেশনও দেখান। আস্থা অর্জনের জন্য ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে বিভিন্ন এলাকায় যেতেন।
পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, রুবেল ২০২০ সালের শেষের দিকে হেলিকপ্টারে চড়ে কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার ৩ নম্বর বেতবাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম পরিদর্শন করে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, দারিদ্র্যপীড়িত লোকের তালিকা তৈরি করেন। ওই সময় ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার কাছে ১৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকার অনুদান রয়েছে বলে প্রচার করেন। অনুদানের অর্থ দিয়ে সেই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র লোকদের আবাসন নির্মাণ, গভীর নলকূপ প্রদান, স্কুল নির্মাণ, নদীভাঙন রোধে রক্ষাবাঁধ নির্মাণ ও দুস্থদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা জানান। বরাদ্দের টাকা ছাড় করানোর কথা বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছ থেকে দুই দফায় ৪৩ লাখ টাকাও নেন। এরপর মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যান এই রুবেল। ওই মামলায় ২০২১ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বিভাগের সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করলে তার প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।
ওই কর্মকর্তা বলেন, ওই মামলায় রুবেল কারাগারে গেলেও বেরিয়ে ফের প্রতারণার ধরন পাল্টান। প্রতারণার টাকায় ঢাকার নামিদামি হোটেলে থেকে মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। সখ্যতা বাড়াতে নানা উপহার দেন। সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে অবস্থানকালে এক নারীর সঙ্গে সখ্য হয় তার। ওই নারীকে উপহার দিতে জাল মুদ্রায় স্বর্ণালংকার কিনতে গিয়েই ফের ধরা খেয়ে আলোচনায় আসেন।
বনানী থানা পুলিশ জানায়, গত ৬ আগস্ট রুবেল এক সহযোগীকে নিয়ে রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেটের একটি জুয়েলারি দোকানে ঢোকেন। এক আত্মীয়ের বিয়ের জন্য ২০ থেকে ২১ ভরি স্বর্ণালংকার কেনার আগ্রহ দেখিয়ে পছন্দের গহনা বিল করে প্যাকেট করতে বলেন। মূল্য পরিশোধ করতে ট্রলি ব্যাগ থেকে ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা বের করে দোকানের কাচের টেবিলের ওপর রাখেন। টাকাগুলো দেখে দোকানের কর্মচারীদের সন্দেহ হলে পরীক্ষা করে সেগুলো জাল নোট বলে শনাক্ত করা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে রুবেল ও তার সহযোগী পালানোর চেষ্টা করলে আশপাশের লোকজন রুবেলকে ধরে ফেলে।
ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক মো. জুম্মান খান কালবেলাকে বলেন, রুবেল মহাপ্রতারক। তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও মুখ খোলেনি। তবে তদন্তে তার বিষয়ে নানা চমকপ্রদ তথ্য মিলেছে। তার বিরুদ্ধে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অভিযোগে অন্তত ১৫টি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, রুবেল জানিয়েছে জাল মুদ্রাগুলো সিনেমার শুটিংয়ে ব্যবহার করা হতো। সে বান্ধবীর জন্য ওই মুদ্রা ব্যবহার করে স্বর্ণালংকার কিনতে যায়।
রুবেলের সেই কথিত বান্ধবীর সঙ্গে কথা হয় কালবেলার। ওই তরুণী দাবি করেন, দেড় মাস আগে রাজধানীর বনানীর একটি পানশালায় তার সঙ্গে রুবেলের পরিচয় হয়। পরে বন্ধুত্ব হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে মদের বারে রুবেল হাজার হাজার টাকা বিল দেয়, তাকেও নানা সময়ে উপহার দেয়। গুলশানের নামি-দামি একটি হোটেলে রুবেল অবস্থান করত।
ওই তরুণী জানান, ঘটনার দিনও রুবেল ও তিনি ওই হোটেল থেকে বের হন। এক পর্যায়ে তিনি উবারের গাড়ি নিয়ে অন্যত্র চলে গেলেও পরে জানতে পারেন জাল টাকায় স্বর্ণালংকার কিনতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু তার জন্য এই স্বর্ণালংকার কেনা হচ্ছিল, তা সঠিক নয়।
এই প্রতারক রুবেলের ফাঁদে পড়ে মামলার আসামি হয়েছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটা এলাকার আব্দুল্লাহ আল কাফি। ওইদিন বনানীতে জাল টাকায় স্বর্ণ কেনার সময়ে তার সঙ্গে কাফিও ছিলেন। কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে তিনি পালিয়ে যান।
ফোনে কাফি কালবেলাকে বলেন, তিনি গার্মেন্টস ব্যবসায়ী। রুবেলের ফাঁদে পড়া ভুক্তভোগী তিনি। তার এলাকায় নদীভাঙনের শিকার মানুষদের ঘর তৈরি করে বিদেশি অনুদানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কথা বলেছিল সে। রুবেলের তিনজন প্রতিনিধি তার এলাকায় গিয়ে দুই দিন ঘুরে মহানন্দা নদীর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের ভিডিও ধারণ করে। তখন রুবেল নিজেকে কানাডিয়ান কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (সিসিআইসি) নামে একটি সংস্থার বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হিসেবে পরিচয় দিয়ে একটি ভিজিটিং কার্ড দিয়েছিল। তাতে নাম ছিল মুনতাছির শেখ।
কাফি জানান, বিদেশি ওই সংস্থার মাধ্যমে তাকে ২০ কোটি টাকার অনুদান দেওয়ার কথা ছিল। প্রজেক্টের অর্থছাড় করাতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনজিও ব্যুরোসহ বিভিন্ন দরকারে কথা বলে তার কাছ থেকে এককালীন ১৫ লাখ টাকাও নেয় রুবেল। সব মিলিয়ে তাকে ১৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। কষ্ট করে জমানো টাকাগুলো সে আত্মসাৎ করেছে।
বনানীর ঘটনার সময়ে উপস্থিত থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে কাফি বলেন, ওই দিন বিকেলে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা আছে জানিয়ে রুবেল তাকে কল করে আসতে বলেছিল। তখন তিনি গুলশান লেক ভিউ হোটেলে তার সঙ্গে দেখা করেন। ওই সময়ে হোটেল কক্ষে রুবেলের প্রেমিকাও ছিল। যিনি নিজেকে আরিফা নামে পরিচয় দেন। একটু পরে রুবেল জানান, আরিফাকে বিয়ে করবে সে। এজন্য কিছু স্বর্ণালংকার কিনতে হবে। পরে সে বনানী সুপার মার্কেটের ওই স্বর্ণের দোকানে তাকে নিয়ে যায়।
কাফির ভাষ্য, স্বর্ণ কিনতে গেলেও রুবেল শুরুতে টাকা নিয়ে যায়নি। কথিত সেই প্রেমিকাকে ভিডিও কলে স্বর্ণালংকার দেখিয়ে তার পছন্দমতো তা কেনা হয়। কেনার পর উল্টো দোকানির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তার হাতে দেওয়া হয়। এরপর তাকে হোটেলে পাঠিয়ে বলা হয়, কক্ষে টাকা ভরা একটি ট্রাভেল ব্যাগ রয়েছে। সেটি আনতে হবে। তখন সেই ব্যাগ স্বর্ণের দোকানে দেওয়া হয়। স্বর্ণের দোকানে ধরা খাওয়ার আগে তিনি বুঝতে পারেননি, রুবেল এতবড় প্রতারক।
কে এই রুবেল:
পুলিশের নথিতে রুবেলের বাড়ি শরীয়তপুর সদরের পালং এলাকায়। তার পুরো নাম রুবেল আহমেদ ফকির (৪৬)। তবে পুলিশ তাকে চেনে হেলিকপ্টার রুবেল নামে। এই প্রতারক পারিবারিকভাবে কৃষক পরিবারের সন্তান। ছোটবেলা থেকেই এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে যায়। নিজ এলাকায় একাধিক মামলায় পড়ে গ্রাম ছাড়ে। ঢাকায় এসে একটি এনজিওতে কাজ নেয় সে। সেখান থেকে প্রতারণার কৌশল শিখে এই পথে নামে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র বলছে, মূলত বিভিন্ন গ্রামের জনপ্রতিনিধিরা তার টার্গেট ছিল। তার পুরো নাম রুবেল আহমেদ ফকির। বাড়ি শরীয়তপুর জেলার পালং উপজেলায়। পড়াশোনা শুধু পঞ্চম শ্রেণি। পারিবারিকভাবে কৃষক পরিবারের সন্তান। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই এলাকায় চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধে নাম জড়িয়ে যায়। নিজ এলাকায় একাধিক মামলা খেয়ে গ্রাম ছাড়েন রুবেল। ঢাকায় এসে একটি এনজিওতে কাজ নেন। সেখান থেকে প্রতারণার কৌশল শিখে এ পথে নামেন। তার টার্গেটে ছিল বিভিন্ন এলাকার জনপ্রতিনিধি ও সুনাম অর্জন করতে চায়—এমন উঠতি ধনাঢ্য ও ব্যবসায়ীরা। তাদের বলা হতো, তার হাতে কোটি কোটি টাকার অনুদান রয়েছে। জলবায়ুর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য আসা অনুদান বিলি করতে মাঠপর্যায়ে লোক নিয়োগও করে সে। দেশের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনপ্রতিনিধি ও ব্যবসায়ীরা এ কাজের জন্য উপযুক্ত।
সূত্র বলছে, টার্গেট করা ব্যক্তিরা তার কথায় রাজি হলে সে আলোচনার জন্য রাজধানীর তারকা হোটেলে ডেকে এনে মিটিং করত। মাঝেমধ্যে হেলিকপ্টারে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেত। এভাবে নিজেকে প্রচার করত সে। শুধু কুষ্টিয়াতেই তিন দফা সে হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করেছে। হোটেলে আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন ডকুমেন্টারি তৈরি করে তা দেখাত টার্গেট ব্যক্তিদের।
রুবেলের তৈরি করা একটি ডকুমেন্টারি এসেছে কালবেলার হাতে। তাতে দেখা যায়, সিলেটে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি রোধে একটি অনুদান দেওয়ার আগে অনুসন্ধানের জন্য তারা বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে কথা বলছে। এ প্রজেক্টের অনুদান যাবে সৈয়দ নাসিরুদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে। সুরমা নদীর তীরে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে নদীভাঙন রোধ প্রকল্পে সিসিব্লক ও বাধ নির্মাণের কাজ করা হবে। এজন্য কথিত ইঞ্জিনিয়ার দল নিয়ে তিনি ভাঙনের কবলে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছেন। এ ছাড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইংরেজি মাধ্যম স্কুল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে শিশুদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।
রুবেলের এমন একাধিক প্রজেক্টে মেকাপম্যান হিসেবে কাজ করেছেন নির্মল মন্ডল নামে এক ব্যক্তি। তিনি জানান, রাজশাহী ও রংপুরের দুটি ডকুমেন্টারির কাজে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু একটি টাকাও পাননি। রুবেল যে প্রতারক, তা বুঝতেও পারেননি।
প্রতারণায় গ্র্যাজুয়েট বনে যাওয়া রুবেল ঢাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবস্থান করলেও তার কোনো বাসা নেই। প্রতারণার টাকায় সে বিভিন্ন বিলাসবহুল হোটেলে অবস্থান করত। টার্গেট করা ব্যক্তিদের সেখানেই ডেনে এনে নানা কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। অনুদানের নামে প্রতারণা ছাড়াও ক্রিপটোকারেন্সি, বাইনান্স অ্যাপসহ বিভিন্ন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রুবেল। এমনকি ডলার প্রতারণায় তার দক্ষতা রয়েছে।
বিভিন্ন সহযোগীদের দিয়ে এমন মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বোঝানো হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তার অঞ্চলে নদীভাঙনের ফলে গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত ও দরিদ্র লোকদের আবাসন নির্মাণ, স্কুল নির্মাণ, নদীভাঙন রক্ষাবাঁধ নির্মাণ, কৃষকদের ডিপ টিউবওয়েল দিয়ে মানুষের জন্য পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশাল সুযোগ রয়েছে। কেউ আগ্রহী হলে তাকে নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন পাঁচ তারকা মানের হোটেল ও রেস্তোরাঁয় বৈঠক করেন। বিদেশি সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফাইলপত্র দেখানো হয়। একই সঙ্গে প্রজেক্ট থেকে অর্ধেক অর্থ ব্যয় করে বাকি অর্ধেক তাদের মুনাফার প্রলোভন দেখানো হয়।
পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালায়: ২০২৫ সালে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গুলশান থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিল রুবেল। ওই বছরের ২২ অক্টোবর সকালে ঢাকা মহানগর জজ আদালতের ২৬ নম্বর কোর্টে তোলার জন্য তাকে আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা হয়। কনস্টেবল মাহাফিজুল ইসলাম তাকে আদালতে তোলার দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু আসামি রুবেলের হাতে হাতকড়া না পরানোয় সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায় সে। এরপর থেকে সে পলাতক ছিল। আদালত থেকে পলাতক অবস্থাতেই বনানীর মতো অভিজাত এলাকায় বসে প্রতারণা করে আসছিল। অবশ্য রুবেলের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার হয়েছিলেন সেই কনস্টেবল মাহাফিজুল ইসলাম।
জানা গেছে, ২০২১ সালে কুষ্টিয়ার এক জনপ্রতিনিধির সঙ্গে অনুদানের নামে ৪৭ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলা ছাড়াও রুবেলের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, শরীয়তপুরের পালং থানায় হত্যা চেষ্টা, দলিল জালিয়াতি মামলা, নেত্রকোনা ও রাজবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন থানায় প্রতারণারসহ নানা অভিযোগে ১৮টি মামলার তথ্য মিলেছে।