আমীন আল রশীদ
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত ৪ আগস্ট দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে। এদিন কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ ও আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন। তার সারাংশ হলো—জনপ্রত্যাশা, জুলাই সনদ এবং বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে সংবিধান সংশোধন করা হবে। এখানে তিনটি বিষয় বিবেচ্য—জনপ্রত্যাশা, জুলাই সনদ ও বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার।
জনপ্রত্যাশার নামে দলীয় স্বার্থ নয়
জুলাই সনদ ও নির্বাচনি ইশতেহার লিখিত ও জনসম্মুখে উন্মুক্ত দলিল। তবে ‘জনপ্রত্যাশা’ বিষয়টি বিতর্কিত। এ পর্যন্ত ১৭ বার সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে এবং প্রতিবারই জনপ্রত্যাশার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যক্তি বা ক্ষমতাসীন দলের অভিপ্রায় প্রাধান্য পেয়েছে। ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর সময় বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতিসহ এর আদিরূপ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হলেও একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়। এরপর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে এবং প্রতিবারই তারা ক্ষমতায় ফিরে আসে। ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তের পেছনে দলীয় স্বার্থ কাজ করেছিল—এমন প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
এই ‘জনপ্রত্যাশা’ কথাটি গোলমেলে। জনপ্রত্যাশার নামে ব্যক্তি ও দলের সুবিধা প্রাধান্য দেওয়ার নজির বেশি। তবে এটা ঠিক যে জুলাই অভ্যুত্থানের পরে সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সংশোধন তথা পরিবর্তনের প্রশ্ন সামনে এসেছে। সময়ের সঙ্গে সংবিধানে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। তবে তা হতে হবে জনস্বার্থে, কোনো দলের ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার জন্য নয়।
২০১১ সালের সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ার সঙ্গে এবারের মোটা দাগের পার্থক্যও রয়েছে। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনি ইশতেহারে সংবিধান সংশোধন করে বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতি ফিরিয়ে আনা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করার কোনো অঙ্গীকার ছিল না। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অনুচ্ছেদকে মৌলিক কাঠামো ঘোষণা করে সংশোধন অযোগ্য করে দেয়। ওই সংশোধনী নিয়ে শুরু থেকেই নানা বিতর্ক ওঠে। বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি ফিরিয়ে আনা প্রশংসিত হয়। তেমনি এক-তৃতীয়াংশ অনুচ্ছেদকে সংশোধন অযোগ্য ঘোষণা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলেরও তীব্র সমালোচনা হয়।
এবারের বিশেষ কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে জুলাই অভ্যুত্থানের পরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। ওই সময়ের সংবিধান সংস্কার কমিশন একটি বিশাল প্রতিবেদন জমা দেয়। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়। সেখানে উল্লিখিত ৮৪টি প্রস্তাবের মধ্যে ৪৮টি প্রস্তাবই সংবিধান সংশোধনসম্পর্কিত।
বিএনপিও জুলাই সনদের প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে। বিভিন্ন প্রস্তাবে তাদের আপত্তি রয়েছে। তবে তারা বলছে যেসব প্রস্তাবে আপত্তি নেই সেগুলো তারা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহারে তারা সাংবিধানিক সংস্কারে ৩৫টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ১৭ অক্টোবর ২০২৫ স্বাক্ষরিত জুলাই জাতীয় সনদের ঐকমত্য বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেছে। এখন বিশেষ কমিটির সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হবে জুলাই সনদ, বিএনপির ইশতেহার ও জনস্বার্থ—এই তিনটির সমন্বয় ঘটানো।
জুলাই সনদে কোথায় কী পরিবর্তন
জুলাই সনদের প্রথম ৪৮টি প্রস্তাব সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত। এর মধ্যে রাষ্ট্রের মৌলিক চরিত্র, নাগরিকের পরিচয়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ও তাঁর ক্ষমতা-দায়িত্ব থেকে শুরু করে সংসদ ও সরকারের কাঠামো—বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বিলুপ্ত করা এবং ৫ম ও ৬ষ্ঠ তফসিল—৭ মার্চের ভাষণ ও বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা—বাতিলের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে বাহাত্তরের সংবিধানের চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার—পরিবর্তে সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতিকে রাষ্ট্রের মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব রয়েছে।
সরকার ও সংসদীয় ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছর প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন এবং প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান থাকতে পারবেন না। প্রস্তাব রয়েছে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা গঠনের—নিম্নকক্ষে জাতীয় সংসদ এবং উচ্চকক্ষে সিনেট থাকবে। সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকাও বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগ এবং সরকারি হিসাব কমিটিসহ গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের মনোনয়নের কথা বলা হয়েছে। এ ধরনের চর্চা এরই মধ্যে বর্তমান সংসদে শুরু হয়েছে; সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে। তবে ডেপুটি স্পিকারের ক্ষেত্রে প্রস্তাবটি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমান ত্রয়োদশ সংসদের শুরুতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বিরোধী দলের কাছে নাম চাওয়া হলেও তারা নাম দেয়নি; কারণ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী বিএনপির এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা বাড়ানোর এই প্রস্তাব বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও রয়েছে। সরকারি হিসাব কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতির পদ বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদও সংসদে পাওয়া আসনের অনুপাতে বিরোধীদলের মধ্য থেকে নিয়োগের অঙ্গীকার করেছে বিএনপি। এরই মধ্যে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে। ধারণা করা যায়, পরবর্তী অধিবেশনে আরও কিছু স্থায়ী কমিটি গঠিত হলে সেখানে বিরোধী দলের সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হবে। অবশ্য এমন নজির আগেও ছিল। নবম সংসদে পরিবেশ এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ—এই দুটি সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দল বিএনপিকে দেওয়া হয়েছিল।
৭০ অনুচ্ছেদ, ন্যায়পাল ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার
সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়াতে সংবিধানের বিতর্কিত ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যমান বিধান অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর সদস্যপদ বাতিল হয়। ফলে দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার বিধানের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ করতে পারেন না—এমন সমালোচনা দীর্ঘদিনের। জুলাই সনদে অর্থবিল ও আস্থা ভোট ছাড়া অন্য সব বিলে এমপিদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিএনপির ইশতেহারে অবশ্য এর পরিধি কিছুটা ভিন্ন। সেখানে আস্থাভোট, অর্থবিল, সংবিধান সংশোধনী বিল এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট বিষয় বাদ দিয়ে অন্য বিষয়ে এমপিদের স্বাধীনভাবে কথা বলার সুযোগ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে।
আরেকটি প্রস্তাব হলো ন্যায়পাল নিয়োগ। ১৯৭২ সালের সংবিধানেই এর বিধান রাখা হয়েছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত কাউকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। জুলাই সনদে ন্যায়পালের যোগ্যতা, অযোগ্যতা ও বাছাই প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত প্রস্তাব রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপিরও আপত্তি নেই। তবে শুধু আইনি কাঠামো তৈরি করলেই ন্যায়পালের কার্যকারিতা নিশ্চিত হবে না। রাষ্ট্রের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিকেও জবাবদিহির আওতায় আনতে সক্ষম এবং একই সঙ্গে সর্বজনগ্রাহ্য—এমন একজন ন্যায়পাল পাওয়া সহজ হবে না।
সবশেষে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রস্তাব। এ বিষয়ে জুলাই সনদে সব দল একমত এবং বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও একই অঙ্গীকার রয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহালের বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতেরও আদেশ রয়েছে। তবে জুলাই সনদে যে পদ্ধতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের কথা বলা হয়েছে, তা বেশ জটিল। ফলে বিশেষ কমিটি হয়তো সেই জটিল পদ্ধতির পরিবর্তে পঞ্চদশ সংশোধনীর আগে সংবিধানে থাকা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের গঠন, দায়িত্ব ও কর্তব্যের বিধানই পুনর্বহালের সুপারিশ করবে।
বিএনপির ইশতেহারে আরও যেসব পরিবর্তন
এর বাইরে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে সাংবিধানিক সংস্কারের আরও কিছু অঙ্গীকার রয়েছে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপনের পাশাপাশি একজন উপ-রাষ্ট্রপতির পদ সৃষ্টি এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য আনার কথা বলা হয়েছে। আইনসভার উভয় কক্ষেই ডেপুটি স্পিকার রাখার এবং তাঁদের একজনকে সরকারদলীয় সদস্যদের বাইরে থেকে মনোনীত করার প্রস্তাবও রয়েছে।
বিচারব্যবস্থার ক্ষেত্রেও কিছু পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে। রাজধানীতে সুপ্রিম কোর্টের স্থায়ী আসন থাকবে এবং প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে এক বা একাধিক স্থায়ী বেঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন। পাশাপাশি জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করা হয়েছে; ইশতেহারে বলা হয়েছে, এই সুরক্ষা ও দায়মুক্তি এরই মধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় প্রস্তাবগুলোর একটি হলো উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব জুলাই সনদেও রয়েছে। বিএনপির ইশতেহারে এর কাঠামো আরও নির্দিষ্ট করে সংবিধানের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুণ্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি ১০০ সদস্যের একটি উচ্চকক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী, সমাজবিজ্ঞানী, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি ও অন্যান্য পেশাজীবীদের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। সেই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলো নিম্নকক্ষে পাওয়া আসনের অনুপাতে উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্ব করবে।
অবশ্য বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রয়োজনীয়তা এবং বিএনপি এখনই তা গঠন করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াত ও এনসিপির ধারণাগত পার্থক্যও আছে। তার চেয়েও বড় প্রশ্ন, উচ্চকক্ষে সমাজের বিভিন্ন খাতের যোগ্য ও মেধাবী মানুষের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হবে কি না। শেষ পর্যন্ত সেখানে যদি দল ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠতে পারবেন না এমন দলীয় বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদেরই ঠাঁই হয়, তাহলে এর প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন থাকবে। এর সঙ্গে যুক্ত হবে বিপুল সরকারি ব্যয়। এককক্ষবিশিষ্ট সংসদ পরিচালনাতেই বিপুল অর্থ ব্যয় হয়। আরেকটি আইনসভা গঠন করে দেশ কতটা উপকৃত হবে, সেটিও বিবেচনা করা দরকার।
বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেই সাংবিধানিক সংস্কারের ৩৫টি প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ফলে সংবিধান সংশোধন নাকি সংস্কার—এই শব্দের বিতর্কের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, সংবিধানের কোথায় কী পরিবর্তন প্রয়োজন, বিএনপি আসলে কী পরিবর্তন করতে চায় এবং তাতে দেশের কী লাভ হবে? মূল আলোচনা হওয়া উচিত এসব বিষয় নিয়েই।
- আমীন আল রশীদ: সাংবাদিক ও লেখক