Image description

কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসা। আছেন ১৪ শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী। এই মাদ্রাসা থেকে চলতি বছর দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেন পাঁচ শিক্ষার্থী। তাদের পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন ৯ শিক্ষক কিন্তু কেউই পাস করতে পারেনি। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাঠদান ও শিক্ষার মান নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

আজ সোমবার (১০ আগস্ট) এসএসসি সমমান দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর নান্দাইল উপজেলার ৩৩ মাদ্রাসার ফল পর্যালোচনা করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। উপজেলার অন্য মাদ্রাসা থেকে অংশ নেওয়া সব শিক্ষার্থী অকৃতকার্য না হলেও কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসার পাঁচ পরীক্ষার্থীর পাস করেনি একজনও।

জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কড়ইকান্দি গ্রামে ১৯৯৮ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৩ সাল থেকে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ১৭ জন। শিক্ষার্থী প্রায় ২০০। তবে ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র পাঁচজন। ফল প্রকাশের পর দেখা যায়, পাঁচজনের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

মাদ্রাসা শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, ‘নবম-দশম শ্রেণিতেই ৯ শিক্ষক ক্লাস নেন। অন্য শিক্ষকরা বাকী ক্লাসগুলোতে সমন্বয় করে পাঠদান করেন।’

মাদ্রাসার সুপার আকলিমা বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে পড়েছে। শিক্ষকদের তদারকিও তেমন ছিল না। ফলে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করতে পারেনি।

এদিকে নান্দাইল উপজেলার ৩৫ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৪৬৫ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ১৮০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫৯ জন। ১ হাজার ২৮৫ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানভেদে ফলাফলে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। নান্দাইল পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ১৬৭ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৩৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৫ জন। বিপরীতে চর উত্তরবন্দ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র তিনজন।
দাখিল পরীক্ষায় উপজেলার ৩৩ মাদ্রাসা থেকে ১ হাজার ১৬৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ৬৮২ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে সাতজন। কালিগঞ্জ বাবুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ১০২ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৯ জন উত্তীর্ণ হলেও, কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসার পাঁচজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি।

কারিগরি শিক্ষাতেও পাসের হার ৫২ দশমিক ৫৩ শতাংশ। উপজেলার ছয়টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৫৭ পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩৫ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে আটজন। নান্দাইল সরকারি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ১৩৮ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯১ জন উত্তীর্ণ ও আটজন জিপিএ-৫ পেয়েছে। অন্যদিকে সিংদই কারিগরি ইনস্টিটিউট থেকে ১৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছে মাত্র তিনজন।

ফল বিপর্যয়ের পেছনে এমপিওভুক্ত না হওয়াকে কারণ হিসেবে দেখছেন নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মফিজুল ইসলাম। আগামীর সময়কে বললেন, কড়ইকান্দি মফিজ উদ্দিন আকন্দ দাখিল মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত নয়। ফলে সেখানে শিক্ষকদের নিয়মিত বেতন-ভাতার ব্যবস্থা নেই। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর তাদের তদারকিও তেমন নেই।’

এসএসসি ও দাখিলের ফল প্রসঙ্গে তিনি বললেন, অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পরীক্ষা অনেক বেশি কড়াকড়ি হয়েছে। এর প্রভাব ফলাফলেও পড়েছে। মূলত যারা জেনুইন শিক্ষার্থী, তারাই পাস করেছে।