এলাকার একটি মাদক মামলার আসামি পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন ফরাজী। মামলা লড়তে তিনি নিয়োগ দেন উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আইনজীবী সামিউল আলম মল্লিককে।
গতকাল রবিবার নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির না হওয়ায় জাকিরের বিরুদ্ধে জারি হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। সে খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে নিজ আইনজীবীকে কুপিয়ে জখম করেছেন জাকির হোসেন। আহত আইনজীবী সামিউল, তার পরিবার ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ এটি।
সামিউল বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার খোঁজখবর নিচ্ছেন মির্জাগঞ্জ থানার ওসি মো. তৌহিদুজ্জামান।
সামিউল জানালেন, জাকির হোসেনের নামে মামলাটি হয়েছিল মির্জাগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট চৌকি আদালতে। নির্ধারিত দিন রবিবার আদালতে হাজির হতে জাকিরকে ফোন করে অনুরোধ জানালেন সামিউল। তবে ব্যস্ততার কথা জানিয়ে হাজির হননি জাকির। তার পক্ষে আদালতে সময়ের আবেদন করেন আইনজীবী।
সেই আবেদন খারিজ করে আসামি জাকিরের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন বিচারক। ফোন করে খবরটি তাকে দেন আইনজীবী সামিউল। এতে ক্ষুব্ধ হন জাকির। গতকাল রাত ৮টার দিকে ছৈলাবুনিয়া গ্রামে সামিউলের বাড়ির সামনের চায়ের দোকানে আসেন। একপর্যায়ে সামিউলকে দা দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যান জাকির।
স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা সামিউল আলীমকে নিয়ে যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে পাঠানো হয় শের-ই-বাংলা মেডিকেলে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহা জানিয়েছেন, আহত ব্যক্তির এক পায়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন আছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় থানা পুলিশ— জানালেন ওসি তৌহিদুজ্জামান। তিনি বললেন, ‘ঘটনার সত্যতা জানতে তদন্ত চলছে। হামলায় জড়িত যে-ই হোক না কেন, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে জাকির হোসেন ফরাজীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও মেলেনি সাড়া।