Image description

মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আযাদের দায়ের করা আপিল আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার ওপর শুনানি শুরু হয়েছে। আংশিক শুনানির পর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত এই শুনানি মুলতবি করেছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৭৩ অনুসারে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। কিন্তু আবুল কালাম আযাদকে ২০১৩ সালে দণ্ড দেওয়া হলেও তিনি আপিল করেছেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে তার রায় স্থগিত ঘোষণা করেছে। রায় স্থগিত থাকা অবস্থায় রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে কি না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ার এত বছর পর আপিল করা যাবে কি না, এসব পয়েন্টে আমরা শুনানি করব।’

তিনি জানান, রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা মূল আপিলের ওপর এখনো শুনানি শুরু হয়নি। বরং আযাদের আপিল গ্রহণযোগ্য কি না তার ওপর শুনানি চলছে।

২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি পলাতক অবস্থায় আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটিই ছিল প্রথম রায়।

বেসরকারি বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে ইসলাম ধর্মবিষয়ক অনুষ্ঠান উপস্থাপনার মাধ্যমে পরিচিতি পাওয়া আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। এর আগে রাষ্ট্রপতি তার মৃত্যুদণ্ডের সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করেন। আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে তার সাজা স্থগিত করা হয়েছিল।

আবুল কালাম আযাদের পক্ষে আইনজীবী মশিউল আলম জানান, ২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। পরে রাষ্ট্রপতির কাছে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল করার শর্তে তার সাজা এক বছরের জন্য স্থগিত করা হয়।

গত ২২ অক্টোবর এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ২১ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তার আত্মসমর্পণ গ্রহণ করেন এবং আপিল করার জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।

আবুল কালাম আজাদ জামায়াতে ইসলামীর রোকন বা সদস্য ছিলেন। তিনি জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরার সদস্যও ছিলেন। তবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তার জামায়াতের সব সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছিল।