গাড়ি পোড়ানোর অভিযোগে ভাটারা থানার মামলায় সন্দিগ্ধ হিসেবে বরখাস্তকৃত মেজর মো. সাদেকুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছে পুলিশ। ওই আবেদনে পুলিশ দাবি করেছে, এই মামলার ঘটনার সঙ্গে মেজর সাদিকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার প্রমাণ রয়েছে। এই কারণে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।
তবে কারাগারে থাকা মেজর সাদিক কিভাবে ওই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হলেন, সেই ব্যাখ্যা চেয়ে ভাটারা থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেছে আদালত। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আহসানুল ইসলাম শুনানি শেষে আগামী ১৬ আগস্ট তাদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে হয়ে ব্যাখা প্রদানের নির্দেশ দেন।
এদিন কারাগার থেকে আসামিকে আদালতে হাজির করে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী বিচারককে জানান, এই আসামি কারাগারে থাকা অবস্থায় মামলার ঘটনা ঘটেছে। তখন বিষয়টি আমলে নিয়ে বিচারক ভাটার থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে আগামী ১৬ আগস্ট ব্যাখা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয় বরখাস্তকৃত মেজর মো. সাদেকুল হককে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। কারাগারে থাকা অবস্থায় গত ৭ আগস্ট ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. চাঁদ আলী।
ওই আবেদনে বলা হয়েছে, সন্দিগ্ধ আসামি মেজর মো. সাদেকুল হক এই মামলার ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত আছে মর্মেও তদন্তে প্রতীয়মান হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে। এমতাবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে জেল হাজতে আটক রাখা একান্ত প্রয়োজন। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে পলাতক হয়ে মামলা তদন্তে ব্যাঘাত ঘটানোর আশঙ্কা রয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর রাত ১২ টায় প্রতিদিনের মতো ভাটারা থানাধীন বিটুমিন গেইটের সামনে প্রাইভেট কার রেখে বাড়িতে যান মনির হোসেন। ভোর ৬ টার দিকে তার পরিচিত ড্রাইভার মো. মনির তাকে ফোন দিয়ে জানান, তার প্রাইভেটকারটি আগুনে পুড়ে গেছে। এই সংবাদে পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে হাজির হন। তখন তিনি জানতে পারেন, রাত ২ টা ২০ মিনিটের দিকে জাতীয় জরুরি সেবা- ৯৯৯ এর মাধ্যমে গাড়ীতে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ভাটারা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তখন স্থানীয় জনগণ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে তিনি সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানতে পারেন, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগ ১৩ নভেম্বর ঢাকা শহরে কমপ্লিট শাট ডাউন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এই কর্মসূচির অংশ হিসাবে অজ্ঞাতনামা আসামিরা ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের আশ্রয়ে, অর্থায়নে এবং প্ররোচনায় দেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও তাদের ২০/২৫ জন অজ্ঞাতনামা সমর্থক তার গাড়ীতে আগুন দেন। এতে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।