Image description

নিত্যপণ্যের বাজারের চড়া ডিম আর মুরগির দাম। টানা ঊর্ধ্বমুখী ব্রয়লারের দাম, লাফিয়ে বাড়ছে ডিমের দামও। ডজনপ্রতি মুরগির বাদামি রঙের ডিমের দাম ছুঁয়েছে ১৬০ টাকা। আর চড়া দামে বিক্রি হওয়া মুরগির দাম বেড়েছে আরও ১০ টাকা। ৪০০ টাকায় বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের ঝাঁজ কমেছে। কেজিপ্রতি কাঁচামরিচ এখন আড়াইশ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু টানা অস্থিরতার পর নিত্যপণ্যের বাজারে কমেছে সবজির দাম। এখন প্রায় সব ধরনের সবজিই পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকার মধ্যে। শুক্রবার ঢাকার একাধিক বাজার ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহেও ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছিল। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লারের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। বাজারে সোনালি মুরগির দামও বেড়েছে। প্রতি কেজি সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ থেকে ৩৭০ টাকায়। যা সপ্তাহখানেক আগেও ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

ডিমের বাজারেও আগুন। সপ্তাহের ব্যবধানে ডিমের দাম ডজনে ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে। ফার্মের মুরগির বাদামি ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা থেকে ১৬০ টাকা। কিছুদিন আগেও ফার্মের মুরগির বাদামি রঙের এক ডজন ডিমের দাম ১৩০ টাকা ছিল। এই সপ্তাহ শেষে দাম আরও বেড়ে হয়েছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। অর্থাৎ প্রতি হালি ডিম এখন ৫০ টাকা বা এর চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একইভাবে কিছুটা বেড়েছে হাঁসের ডিমের দামও। খুচরা বাজারে হাঁসের ডিম জোড়াপ্রতি ৩৫ টাকা বিক্রি হলেও এখন প্রতি পিস বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়।

কাওরান বাজারের ডিম ব্যবসায়ী আরিফ মানবজমিনকে বলেন, গত দেড় মাসে ডিমের দাম ডজনে ৫০ টাকা বেড়েছে। আমি খামারিদের কাছে জেনেছি ডিম প্রতি শ’ ৯শ’ টাকায় খামার থেকে ছাড়ে। কিন্তু সেই ডিম আমরা কিনতে দিতে হয় ১১৬০ টাকা। তাহলে মাঝে এত টাকা যায় কার পকেটে? সরকারের তদারক প্রতিষ্ঠানগুলো সবসময় খুচরা দোকানিদের কাছে আসে দাম তদারকি করতে। কিন্তু তাদের অভিযান চালানো উচিত পাইকারদের ব্যবসায়। কারণ আসল অনিয়ম হয় এখানেই। এই ব্যবসায়ী বলেন, ডিমের দাম ১৩০ টাকার মধ্যে হলেও খুচরা কিংবা খামারি; সবাই লাভবান হয়।

মগবাজার কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী সেলিম বলেন, গত মাসে বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেক খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহের ঘাটতি রয়েছে। এর সঙ্গে সবজি ও মাছের দাম বেশি থাকায় অনেকে মুরগি ও ডিম কেনা বাড়িয়েছেন। এতে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কিছুটা কম। সবমিলিয়ে মুরগি ও ডিমের দাম বাড়তিই। কাওরান বাজারের মুরগি বিক্রেতা সোহেল বলেন, বেশি গরমের কারণে গত দুই মাসে খামারগুলোতে কিছু মুরগি মারা গেছে; অনেকে আগে আগে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় ঠিকমতো বিদ্যুৎ থাকছে না। এ কারণে অনেক খামারে নতুন করে মুরগি তোলা হয়নি। সবমিলিয়ে মুরগির দাম বেশি।

ওদিকে, দীর্ঘদিন ধরেই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছিলো সব ধরনের কাঁচা তরকারি। তবে, গত কয়েকদিনের ব্যবধানে সবজির দামও ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। আগে যে সবজির ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে তা এখন ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। ১০০ টাকার বেশি দামের সবজি খুব কমই আছে। ব্যবসায়ীরা জানান, মূলত উৎপাদন ও সরবরাহ বেড়েছে সবজির। ফলে দামও কমেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজারে তিন প্রজাতির বেগুন পাওয়া যায়। এরমধ্যে গোল দুই প্রজাতির বেগুন ১৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। দেশি শসার দামও কমে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে নেমেছে। জালি কুমড়ার দাম ৮০ টাকা থেকে অর্ধেক কমেছে; ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া চিচিঙ্গা এখন ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বাজারে। ধুন্দল, লাউ, পটোল, ঝিঙা বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। কচুর লতি ৬০ কচুরমুখী ৭০ টাকা এবং করলা ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। এক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা বাজার ও মানভেদে ২৪০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আমদানি শুরু হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, ফলে দাম কমেছে।

কাওরান বাজার কাঁচা বাজারের ব্যবসায়ী সাহাবউদ্দিন বলেন, সবজির দাম বাড়া-কমা নির্ভর করে উৎপাদনের ওপর। এখন সরবরাহ বেড়েছে, তাই দাম কমে গেছে। একই বাজারের ব্যবসায়ী ফারুক বলেন, কয়দিন আগে বন্যা হয়েছে, অনেক জায়গায়ই পানি জমে গেছে। ফলে অনেক কৃষকই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাই দাম বেশি ছিল। কিন্তু এখন আবার সরবরাহ বেড়ে গেছে।

ওদিকে, মুদিপণ্যের মধ্যে বেড়েছে পিয়াজের দাম। ৪০ টাকার পিয়াজ এখন ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মরিচের গুঁড়ার দামও বেড়েছে কেজিতে প্রায় ১শ’ টাকা। খুচরা দোকানিরা আগে ৩০০ টাকায় মরিচ কিনতে পারলেও এখন তা এক কেজি মরিচের গুঁড়া কিনছেন ৪০০ টাকায়। ফলে খুচরা বিক্রিতেও কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি নিচ্ছেন।