Image description

দেশের সড়ক-মহাসড়ক যেন মৃত্যুকূপ। সাধারণ যাত্রীদের জন্য সড়ক-মহাসড়ক আগেও নিরাপদ ছিলো না এখনো নেই। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটছে অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনা। সড়ক-মহাসড়কে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ দুর্ঘটনাই আসেনা সাধারণ মানুষের নজরে। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে শিশু, শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, কৃষক, শ্রমিক, শিক্ষক, চিকিৎসকসহ সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। আহত হচ্ছেন অনেকে। কেউ চিরতরে হারাচ্ছেন কর্মক্ষমতা, কেউ আবার সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করছেন।

গতকাল দেশের দুই মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ৩০ জন। সিলেটের ওসমানীনগরে দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান ৯ জন। এছাড়া বগুড়ায় নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি বাস সড়কের পাশে কাজের অপেক্ষায় থাকা শ্রমিকদের ওপর উঠে গেলে ৭ জন নিহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে নওগাঁগামী শাহ ফতেহ আলী পরিবহনের একটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত বাস এরুলিয়া এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। পরে বাসটি সড়কের পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দিয়ে সেখানে কাজের অপেক্ষায় থাকা দিনমজুর ও কৃষিশ্রমিকদের ওপর উঠে যায়। দুর্ঘটনায় তিনজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও চারজনের মৃত্যু হয়। আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তাদের বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঢাকা থেকে সিলেটগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিলেট থেকে ঢাকাগামী বেঙ্গল পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। আহত হন আরো অনেকে। আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন অব্যবস্থাপনায় পড়ে থাকলেও সড়ক নিয়ে কোনো মাথা ব্যথা নেই সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের। দেশের সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নে প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হলেও বাস্তব চিত্রে তার প্রতিফলন মিলছে না। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, ধীরগতির নির্মাণকাজ, রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি, সমন্বয়হীনতায় দেশের বহু সড়ক ও মহাসড়ক এখন ভোগান্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। কোথাও খানাখন্দে ভরা সড়ক, কোথাও বছরের পর বছর ধরে চলমান নির্মাণকাজ, আবার কোথাও সংস্কারের নামে খুঁড়ে ফেলে রাখা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ফলে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষ, যাত্রী, পরিবহন শ্রমিক এবং ব্যবসায়ীদের। সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নেয়। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে তৈরি হয় বড় বড় গর্ত। যানবাহন চলাচল হয়ে পড়ে ঝুঁকিপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চললেও কার্যকর উদ্যোগ কিংবা দৃশ্যমান তদারকির অভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। অনেক সড়ক-মহাসড়কে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্প চলমান থাকলেও নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পের মেয়াদ বারবার বাড়ছে, ব্যয়ও বাড়ছে কয়েকগুণ। কিন্তু কাক্সিক্ষত অগ্রগতি মিলছে না। দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলার অভাব, দুর্বল তদারকি, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতায় জনভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া গণপরিবহন খাতে দীর্ঘদিন ধরেই চলছে নানা ধরনের অনিয়ম ও অরাজকতা। যাত্রীসেবার পরিবর্তে অধিক মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেয়ার অভিযোগ উঠেছে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। সড়কে চলাচলকারী অনেক যাত্রীবাহী বাসে নকশাগত পরিবর্তন, নিম্নমানের বডি নির্মাণ, অতিরিক্ত আসন সংযোজন, নিরাপত্তা সরঞ্জামের ঘাটতি এবং অনুমোদনবিহীন কাঠামোগত পরিবর্তনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে কিছু পরিবহনে ডাবল ডেক বা অতিরিক্ত তলা কিংবা উচ্চতা বৃদ্ধি করে বেশি যাত্রী পরিবহনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়কের বেহাল অবস্থা, অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানজট, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের চলাচল, আইন অমান্য করার প্রবণতা এবং পর্যাপ্ত নজরদারির অভাবে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন সময় পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে। ফলে নাগরিকদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা যায়নি।

রাজধানীর সড়ক থেকে গ্রামীণ সড়কেও খানাখন্দে ভরা, কোথাও নির্মাণকাজের কারণে দীর্ঘ যানজট, আবার কোথাও অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যবসায়িক কাজে বের হওয়া মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে। ৩০ মিনিটের পথ যেতে সময় লাগছে ৩ ঘণ্টা। এতে যেমন সময়ের অপচয় হচ্ছে তেমনি অর্থনৈতিক ক্ষতিও হচ্ছে। অনেক সড়কে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ সময়মতো করা হয় না। বর্ষা মৌসুমে সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক সড়কে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়। এসব গর্ত এড়িয়ে চলতে গিয়ে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

এদিকে সড়ক ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। পরিকল্পনাহীনভাবে এসব অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং যথাযথ নিয়ন্ত্রণের অভাবে রাজধানীর যানজট, সড়ক বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে। এ কারণেই অনেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে রাজধানীর বিষফোড়া বলে অভিহিত করেন। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এগুলোর অধিকাংশই নিবন্ধনবিহীন এবং নির্দিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচালিত হয় না। ট্রাফিক আইন অমান্য করেন, হঠাৎ লেন পরিবর্তন করেন কিংবা উল্টো পথে গাড়ি চালান।

এতে শুধু যানজটই বাড়ে না, দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। রাজধানীর ব্যস্ত সড়কে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরো বাড়িয়ে দেয়। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার গতি তুলনামূলক কম হওয়ায় দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে একই সড়কে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসব অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ করতে প্রচুর বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। অনেক ক্ষেত্রে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে, যা বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে এবং বিদ্যুৎ অপচয়ের কারণ হয়।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনা এখন দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা সড়ক প্রায় সর্বত্রই দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। দীর্ঘ ছুটির সময় এ সমস্যা আরো প্রকট হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, বেপরোয়া গতি, চালকদের দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়ে চলেছে। কখনো বাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, কখনো মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যাওয়া, আবার কখনো পথচারীকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায় দ্রুতগতির যানবাহন। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান যাত্রীরা। কেউ হাসপাতালে নেয়ার পথে, কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিলালে সিলেটগামী যাত্রী কবির হোসেন বলেন, আসলে গণপরিবহনে আমরা কখনো নিরাপদ নই। নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে চলাচল করতে হচ্ছে কিন্তু প্রতিদিনের দুর্ঘটনার খবর শুনলে আতঙ্ক লাগে। অফিস সময় কিংবা ছুটির দিনে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের কাছ থেকেও পূর্ণ ভাড়া আদায় করা হয়। সেবার মান না বাড়িয়ে কেবল আয় বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়েই সবাই কাজ করে। অসাধানতায় যাতায়াতের ফলে দুর্ঘটনাও বড় প্রাণহানির কারণ হতে পারে। অনেক বাসে জরুরি নির্গমন পথ কার্যকর নয়, অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র নেই, দরজা ঠিকমতো বন্ধ হয়। আমরা ভাড়া দিই নিরাপদে চলাচলের জন্য। কিন্তু বাসে উঠলেই মনে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ করছি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের প্রফেসর ড. হাদিউজ্জামান ইনকিলাবকে বলেন, অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করে যানবাহন চালান। সময় বাঁচানো বা বেশি ট্রিপ দেয়ার প্রতিযোগিতায় যাত্রীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলেন। অনেক চালকের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার অভাব রয়েছে। বৈধ লাইসেন্স ছাড়া কিংবা অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকেই যানবাহন চালাচ্ছেন। সড়কের অব্যবস্থাপনাও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। কোথাও গর্ত, কোথাও ভাঙা সড়ক, কোথাও আবার সতর্কীকরণ চিহ্নের অভাব রয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী ও অতিরিক্ত মালামাল বহনের প্রবণতা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, যাত্রীবাহী বাসের নকশা, ওজনের ভারসাম্য, উচ্চতা, ব্রেকিং সিস্টেম ও কাঠামোগত নির্দিষ্ট প্রকৌশলগত মানদণ্ড অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু অনুমোদন ছাড়া এসব বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন আনা হলে বাসের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে। কিছু পরিবহন মালিক নতুন চেসিস কিনে স্থানীয় কারখানায় কম খরচে বডি নির্মাণ করান। যাত্রী ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত আসন বসানো হয়। আবার কিছু বাসে উচ্চতা বা কাঠামো পরিবর্তন করে বেশি যাত্রী বহনের ব্যবস্থা করা হয়। এ ধরনের পরিবর্তন নিরাপত্তা পরীক্ষার বাইরে করা হয় তাই দুর্ঘটনার সময় ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে, রাজধানীতে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা। যাকে রাজধানীর বিষফোঁড়া বলে অভিহিত করেছেন রাজধানীবাসী। নগরীর এমন কোনো সড়ক নেই যেখানে ব্যাটারি রিকশা নেই। এখন মতিঝিল থেকে উত্তরাও যাওয়া যায় ব্যাটারিচালিত রিকশায়। রাজধানীর প্রবেশদ্বার চিটাগাং রোড থেকে ঢাকার গুলিস্তান পর্যন্ত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উল্টো দিক দিয়ে চলাচল করছে শত শত অটোরিকশা। ইতোমধ্যে মহাসড়কের সার্ভিস রোডের কয়েকটি স্থানে বিশাল বিশাল গর্তের সুষ্টি হয়ে সেখান দিয়ে লোকাল বাসও চলতে পারছে না।

এতে করে মহাসড়ক ও সার্ভিস রোডের মাঝখানের দেয়াল বিভিন্ন স্থানে যাত্রী পারাপারের জন্য কে বা করা ভেঙে ফেলেছে। এতে করে লোকাল বাসগুলো অবাধে মহাসড়কের উপরেই যাত্রী ওঠানামা করায় মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে, ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের হিসাব মতে, স্বৈরাচারি হাসিনার পতনের পর শিথিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সুযোগে কমপক্ষে ৮ লাখ ব্যাটারি রিকশা ও ইজিবাইক ঢুকে পড়ে রাজধানীতে। ঢাকার বাইরে থেকে এখনও সমানে ঢাকায় ঢুকছে। 

তবে দিনের শুরুর দিকে কিছু রিকশা শহরে ঢুকতে না পারায় বিকালে বা সন্ধ্যার পর ঢুকতে গিয়ে পুলিশের কোনো বাধার সম্মুখীন হচ্ছে না। এতে করে সন্ধ্যার পর থেকে ব্যাটারি রিকশার দাপট ক্রমে বাড়ছে। ব্যাটারি রিকশা চলাচলে বাধা না থাকলেও এই যান যাতে আর না বাড়ে, সেদিকে নজর রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার । বর্তমানে ঢাকায় ব্যাটারি রিকশার প্রকৃত সংখ্যা কতো তা কেউ জানে না। কেউ বলছেন কমপক্ষে ২০ লাখ আবার কারো কারো মতে ২০ লাখও ছাগিয়ে গেছে। এতে করেনি দিন ঢাকায় লোডশেডিং বেড়েই চলেছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা অটোরিকশা শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হানিফ খোকন বলেন, ইতোমধ্যে ঢাকার বাইরে থেকে আসা কিছু সংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা কমলেও এখনও রাজধানীতে চলাচল করছে কমপক্ষে ২০ লাখ রিকশা। দিনের বেলা ট্রাফিক পুলিশ এগুলো কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলেও বিকালের পর পুলিশ আর তেমন কিছু বলে না। সেই সুযোগে এগুলো প্রধান সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ বলছে, রাজধানীতে যানজট নিয়ন্ত্রণে বসানো অটো সিগনালিং ক্যামেরা বসানোর পরেও রিকশাগুলো কোনো সিগনালই মানছে না। যেহেতু রিকশাগুলোতে কোনো ডিজিটাল নেমপ্লেট নেই, সেহেতু সেগুলো ক্যামেরাকে অবাধে ফাঁকি দিয়ে সিগনাল অমান্য করে চলে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি করছে।