রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার করা বোমাটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রায় নাশকতার উদ্দেশ্যে রাখা হয়েছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ। যদিও বোমাটি শনাক্ত হওয়ার পরও পুলিশ ওই পথেই উল্টোরথ যাত্রা পার করে দেয়। আতঙ্ক রোধে তাৎক্ষণিকভাবে পুরো ঘটনাটিই গোপন করা হয়েছিল। পুলিশের করা মামলাতেই মিলেছে এমন তথ্য।
পুলিশের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সূত্র জানায়, মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধারের পর নিষ্ক্রিয় করা বোমাটি (আইইডি) ছিল শক্তিশালী ‘পাইপ বোমা’। এটি একটি ফোল্ডিং ছাতার মধ্যে স্থাপন করা ছিল। কেউ কৌতূহলবশত ছাতাটি খোলার জন্য বোতাম টিপলেই বড় ধরনের বিপদ হতে পারত।
বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের একজন কর্মকর্তা কর্মকর্তা বলেন, পাইপ বোমাটির ভেতর এক কেজির বেশি সালফার ছিল, প্রচুর তারকাঁটা ও ধারালো লোহার টুকরো পাওয়া যায় তাতে। তিনি বলেন, ব্যাটারি ও সার্কিট জোড়া দিয়ে ডিভাইসটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যে কেউ ছাতার বোতামটি চাপলে এটির বিস্ফোরণ ঘটতো।
গত শুক্রবার বিকেলে পুরান ঢাকার ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উল্টোরথ যাত্রা শুরু হয়। সেটি পলাশীর মোড় হয়ে জগন্নাথ হল, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-দোয়েল চত্বর-হাইকোর্ট মাজার-কদম ফোয়ারা-জাতীয় প্রেস ক্লাব-পুরানা পল্টন মোড়-বায়তুল মোকাররম (উত্তর গেট)-দৈনিক বাংলা মোড়-শাপলা চত্বর-ইত্তেফাক মোড় ও জয়কালী মন্দির এলাকা হয়ে স্বামীবাগ ইসকন আশ্রমে গিয়ে শেষ হয়। সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে দৈনিক বাংলা মোড় থেকে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ দিয়ে শাপলা চত্বরের দিকে যায় উল্টোরথ যাত্রা। তখন স্টেশনের নিচে জেনারেটরের কাছে পড়ে থাকা একটি ছাতার মধ্য থেকে মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে পুলিশ। রথ যাত্রা শেষে বোম্ব ডিসপোজাল ঘটনাস্থলে এসে সেটি বোমা হিসেবে শনাক্ত করে এবং সেখানেই তা নিষ্ক্রিয় করে।
ওই ঘটনায় মতিঝিল থানায় পুলিশ বাদি হয়ে একটি মামলা করেছে। মামলায় বলা হয়েছে, সন্ধ্যার দিকে মতিঝিল ট্রাফিক বিভাগ থেকে ডিএমপি কন্ট্রোল রুমে ঘটনাস্থলে একটি বোমা সদৃশ বস্তু পাওয়ার কথা জানানো হয়। তাতে একটি ছাতার মধ্যে রাখা ওই বোমায় মিটমিট করে আলো জ্বলার কথা বলা হয়। এরপর খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে ওই এলাকায় দায়িত্ব পালনকারী এসআই মোহাম্মদ মুক্তা ও তার সহকর্মীরা মেট্রো স্টেশনের জেনারেটর রুমের পাশে উপস্থিত ‘ছাতা বোমা’ পাওয়ার জায়গাটি ঘিরে রাখেন। সেখানে রথ যাত্রার মিছিল উপস্থিত হলে পুলিশ সদস্যরা তাদের ‘শর্ট সার্কিট’ হয়েছে বলে জায়গাটি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে। শোভাযাত্রা চলে যাওয়ার পর ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের সদস্যরা এসে সেটি নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করে বলে মামলায় বলা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে বোমার আলামত হিসেবে, জি আই পাইপের খণ্ডিত অংশ, ব্যাটারি, বেয়ারিংয়ের বল পাওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করেছে পুলিশ। মামলায় আরও বলা হয়েছে, সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করতে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনগণের জীবন বিপন্ন করার লক্ষ্যে বোমাটি সেখানে পাতা হয়েছিল। মতিঝিল থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান তালুকদার কালবেলাকে বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা ধারণা করছেন, উল্টোরথ যাত্রায় নাশকতা সৃষ্টি করতে বোমাটি ফেলে রাখা হয়েছিল। তবে তা আগেই শনাক্ত হয় এবং শোভাযাত্রা পার হওয়ার সময়ে পুলিশ এলাকাটি ঘিরে রাখে। এতে রক্ষা হয়। ওসি বলেন, ওই ঘটনায় করা মামলাটি আপাতত পুলিশ তদন্ত করছে। তবে জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। থানা পুলিশের পাশাপাশি সব সংস্থাই বিষয়টি নিয়ে ছায়াতদন্ত করছে।