Image description
অ্যাপভিত্তিক যাত্রীসেবা

শহরবাসীকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পরিবহনসেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার ২০১৭ সালে ‘রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা’ প্রণয়ন করে। ২০১৮ সালের মার্চ থেকে কার্যকর হওয়া এ নীতিমালার মাধ্যমে অ্যাপভিত্তিক যাত্রীসেবাকে সুশৃঙ্খলার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে আট বছর পর বাস্তব চিত্র ভিন্ন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) অনুমোদন পাওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই এখন মাঠে নেই। নেই অফিস, বন্ধ নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর, অকার্যকর অ্যাপ। তবুও বহাল রয়েছে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭-এর ‘ছ’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘কোনো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান শর্ত ভঙ্গ করে বা শর্তের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করলে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট বাতিলের পাশাপাশি কার্যক্রম বন্ধসহ প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’ অথচ বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়েই নতুন করে চারটি প্রতিষ্ঠানকে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে তথ্য চাইলে বিআরটিএ প্রথমে ১৫, পরে ১৮ এবং সর্বশেষ ১৯টি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানের তথ্য দেয়। তবে কোনোটিই পূর্ণাঙ্গ নয় এবং নির্দিষ্ট ঠিকানায় একটি ছাড়া বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যালয় খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বিআরটিএর পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ‘বর্তমানে বিআরটিএর তালিকায় ১৯টি রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে সড়কে মূলত উবার, পাঠাও এবং ওভাই—এ তিনটি প্রতিষ্ঠানই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। অনেক প্রতিষ্ঠান শুরুতে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট পেলেও নীতিমালায় থাকা ১০০টি গাড়ির শর্ত পূরণ করতে না পারায় কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বন্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট দীর্ঘদিন তদারকির অভাবে বহাল ছিল। এখন তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নবায়নের জন্য আবেদন করেছে ওভাই সলিউশনস লিমিটেড, পাঠাও লিমিটেড, উবার বাংলাদেশ লিমিটেড। তবে নীতিমালার উল্লেখযোগ্য কয়েকটি শর্ত পূরণ না করায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের নবায়নও আটকে রেখেছে বিআরটিএ।

এ বিষয়ে মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘নীতিমালায় উল্লিখিত শর্ত পূরণ হলেই এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নবায়ন করা হবে। বর্তমানে ওভাই সলিউশনস লিমিটেড, পাঠাও লিমিটেড, উবার বাংলাদেশ লিমিটেড এবং এনআরবি সলিউশনস লিমিটেডের নবায়ন প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেল: বিআরটিএর তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান চালায় কালবেলা। এতে দেখা যায়, অনুমোদন পাওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান কার্যত নিষ্ক্রিয়। অনেক প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধিত ঠিকানায় গিয়ে তাদের কার্যালয়ের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নথিতে দেওয়া মোবাইল নম্বর দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কোনো কার্যকর অ্যাপ প্লে-স্টোর বা অন্য কোনো মাধ্যমেও পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে বিআরটিএর কাছ থেকেও কোনো তথ্য মেলেনি। বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, মিরপুর ডিওএইচএসের অ্যাভিনিউ-৮-এর একটি ঠিকানায় সেজাস্টা লিমিটেডের কার্যালয় থাকার কথা। সেখানে গিয়ে একটি আবাসিক ভবনের অস্তিত্ব মিললেও প্রতিষ্ঠানটির কোনো অফিস পাওয়া যায়নি। ভবনের বাসিন্দারাও এ নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে পারেননি। একই চিত্র পাওয়া যায় এশিয়ান ট্রান্সপোর্ট নেটওয়ার্ক লিমিটেডের ক্ষেত্রেও। নিবন্ধন নথিতে দেওয়া মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি। পরে সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে জানা যায়, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নম্বরটি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যকর কার্যালয়েরও সন্ধান পাওয়া যায়নি।

পান্থপথের ঠিকানা ব্যবহার করে অনুমোদন নেওয়া আকাশ টেকনোলজি লিমিটেডের অবস্থা একই। অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অ্যাপ, কার্যক্রম কিংবা অফিসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। নিবন্ধন নথিতে দেওয়া মোবাইল নম্বরটিও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ।

ডিজিটাল রাইড লিমিটেডের নিবন্ধিত ঠিকানা ছিল মিরপুর-১০-এর সেনপাড়া। সেখানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোনো অফিসের সন্ধান মেলেনি। পরে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছিল ইজিয়ার টেকনোলজিস লিমিটেড। সে সময় রাজধানীর পরিবহন সংকট নিরসনে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির মাধ্যমে যাত্রীসেবা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে বর্তমানে বিআরটিএতে দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তাদের কোনো অফিস পাওয়া যায়নি। নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ রয়েছে।

রাইড শেয়ারিং সেবা পরিচালনার অনুমোদন পাওয়া পিকমি লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা শরিফুল ইসলাম তারেক বিআরটিএ থেকে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নেওয়ার সময় যে মোবাইল নম্বর দিয়েছিলেন, সেটি বর্তমানে কেরানীগঞ্জের এক নারী ব্যবহার করছেন। তিনি কালবেলাকে জানান, ২০২০ সাল থেকে তিনি নম্বরটি ব্যবহার করছেন এবং পিকমি বা এর মালিকের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই।

কার্যক্রম বন্ধ, বদলে গেছে ব্যবসার ধরন: বিআরটিএর নথিতে সহজ লিমিটেডের যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে যে মোবাইল নম্বরটি রয়েছে, সেটি ব্যবহার করেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক কর্মকর্তা আসিকুর রহমান তাজ। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘অনেক আগেই তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দিয়েছেন। বর্তমানে সহজ রাইড শেয়ারিং সেবা পরিচালনা করছে না। তবে একই নামে বাস, ট্রেন ও বিমানের টিকিট বিক্রিসহ অন্যান্য ব্যবসা পরিচালনা করছে। রাজধানীর সড়ক বা বিআরটিএর তথ্যভান্ডারে সহজের কোনো রাইড শেয়ারিং কার্যক্রমের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’ অনুমোদিত প্রতিষ্ঠান চালডাল লিমিটেডও যাত্রী পরিবহন কার্যক্রম থেকে সরে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির রাইড শেয়ারিং বিভাগের দায়িত্বে থাকা রুবায়েত কালবেলাকে বলেন, ‘দুই বছর আগে থেকেই তারা যাত্রী পরিবহন বন্ধ রেখেছেন। তবে প্রতি বছর বিআরটিএ থেকে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নবায়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি একই নামে অনলাইনভিত্তিক পণ্য সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’

বিআরটিএর তালিকাভুক্ত যাত্রী সার্ভিসেস লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী জাহিন কালবেলাকে বলেন, ‘বর্তমানে তারা প্রচলিত অর্থে রাইড শেয়ারিং সেবা পরিচালনা করছেন না; মূলত প্রি-বুকিংভিত্তিক সেবা দিচ্ছেন।’ বিআরটিএর রাইড শেয়ারিং এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেটের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি প্রতিষ্ঠানের হেড অব মার্কেটিং নাওশাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন।

পরে নাওশাদ কালবেলাকে জানান, তাদের ব্যবসা মূলত একটি বিডিংভিত্তিক মার্কেটপ্লেস। এটি প্রচলিত রাইড শেয়ারিং নয়। তবে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালা-২০১৭ অনুযায়ী তারা সেবা পরিচালনা করছেন কি না, এ প্রশ্নের জবাব পরে জানাবেন বলে মন্তব্য করেন।

আকিজ অনলাইন লিমিটেডের ক্ষেত্রেও একই ধরনের অসংগতি পাওয়া গেছে। বিআরটিএতে জমা দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করলে সেখান থেকে কোনো তথ্য দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। পরে প্রতিষ্ঠানের আইটি বিভাগের কর্মকর্তা রেদওয়ান ইসলাম সাব্বির জানান, এ বিষয়ে প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বে থাকা মোফিজুর রহমান বিস্তারিত জানাতে পারবেন। তবে প্লে-স্টোর কিংবা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে প্রতিষ্ঠানটির রাইড শেয়ারিং অ্যাপের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। একটি ওয়েবপোর্টালে তথ্য থাকলেও সেখানে দেওয়া হটলাইনসহ সব যোগাযোগ নম্বর অকার্যকর পাওয়া গেছে। প্রশাসন বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করাও সম্ভব হয়নি।

বিআরটিএর তালিকায় থাকা বাডি লিমিটেডের ক্ষেত্রেও নিবন্ধন নথিতে উল্লেখ করা ঠিকানা ও বাস্তব অবস্থানের মধ্যে মিল পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিআরটিএর কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার, যানবাহন নিবন্ধন, কর ও ফি আদায় এবং ডিজিটাল সার্ভিস পোর্টাল (বিএসপি) পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেমস (সিএনএস) লিমিটেডেরও রাইড শেয়ারিং পরিচালনার অনুমোদন রয়েছে। তবে অনুমোদন পাওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটিকে কখনোই সড়কে রাইড শেয়ারিং সেবা পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তথ্য হালনাগাদের দাবি ওভাইয়ের, কারণ জানায়নি পাঠাও: ওভাই সলিউশনস লিমিটেড ২০১৯ সালে রাজধানীতে রাইড শেয়ারিং কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে তাদের সেবার পরিধি, সক্রিয়তা এবং নীতিমালা অনুসরণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিআরটিএর নথিতে থাকা ফোন নম্বর ও ঠিকানায় যোগাযোগ করে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে জানানো হয়, পরবর্তী কর্মদিবসে এ বিষয়ে জানানো হবে।

পরবর্তী সময়ে যোগাযোগ করা হলে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ ফখরুদ্দিন মিল্লাত খুদেবার্তায় জানান, এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নবায়নের সময় সব তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। ২০১৯-২০ সালের তথ্য পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে বিআরটিএর বিএসপি পোর্টালে হালনাগাদ রয়েছে। ব্যবসা সংক্রান্ত অন্য প্রশ্নগুলোর উত্তর সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে পরে জানানো হবে। তবে বিআরটিএ বলছে, প্রতিষ্ঠানটির সার্টিফিকেট নবায়ন ও তথ্য হালনাগাদের তথ্য নেই তাদের কাছে।

পাঠাও লিমিটেডের এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নবায়ন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির বিআরটিএ-সংক্রান্ত বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা আতিক নামের একজন কালবেলাকে জানান, এ বিষয়ে মন্তব্য করার সঠিক ব্যক্তি তিনি নন। তবে কী কারণে সার্টিফিকেট নবায়ন হচ্ছে না, সে বিষয়ে বিআরটিএ তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ জানায়নি। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান কার্যালয়ের ঠিকানা ও যোগাযোগ নম্বরে গরমিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নীতিমালা অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করে যাচ্ছি।

তবে রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালার ‘গ’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা বা অন্য কোনো তথ্য পরিবর্তন হলে নির্ধারিত ফি দিয়ে বিআরটিএ আবেদন করতে হবে। এ বিষয়ে বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তাদের কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য নেই।

বিআরটিএ থেকে দেওয়া উবারের বর্তমান ঠিকানায় গিয়ে কোনো কার্যালয়ের সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিআরটিএর সঙ্গে যোগাযোগ করলে ওয়াসেক নামের এক কর্মকর্তার বন্ধ মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়। তবে উবারের জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বে থাকা আশরাফ কায়সারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, দেশে উবারের একাধিক অফিস রয়েছে। তবে বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী যেখানে কার্যালয় থাকার কথা, সেখানে অফিস আছে কি না—এ বিষয়ে বিআরটিএ থেকেই জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এদিকে নতুন করে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট পাওয়া হারিয়াপ টেকনোলজিস লিমিটেড, কার্নিভাল অটোমোবাইলস লিমিটেড, শা ডিজিপে লিমিটেড এবং এনআরবি সলিউশনস সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই চালক বা যাত্রীসাধারণের।

চলতি বছরে অনুমোদন পাওয়া এনআরবি সলিউশনসের কর্মকর্তা তারেক কালবেলাকে বলেন, তিনি এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি নন; প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব হোসেন। পরে রাজিব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, চলতি বছরই ‘গাড়ি বুক’ অ্যাপের মাধ্যমে সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। পাশাপাশি শা ডিজিপেও লিমিটেড ও শা ড্রাইভ নামের একটি অ্যাপ ব্যবহার করে সেবা দেওয়ার কথা জানান তিনি। কিন্তু প্লে-স্টোর বা অন্য কোনো মাধ্যমে তাদের অ্যাপের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

রাইড রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা উপপরিচালক মো ফারুক আহমেদ (ইঞ্জিনিয়ারিং-২) জানান, রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে যেসব ব্যক্তি তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করেন, তাদের ফোন নম্বরই তালিকায় দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের কার্যালয় ওই স্থানে আছে কি না—এ বিষয়ে কোনো আবেদনের নথি আমাদের কাছে নেই।

রাইড শেয়ারিং সার্ভিসের হযবরল পরিস্থিতি নিয়ে বিআরটিএ পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ার) মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, ‘২০১৭ সালের রাইড শেয়ারিং সার্ভিস নীতিমালাকে যুগোপযোগী করার জন্য সংশোধনের কাজ চলছে। নীতিমালায় বিআরটিএকে কোম্পানিগুলোর অ্যাপ পোর্টালে প্রবেশাধিকার দেওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান সেই সুযোগ দেয়নি।’

তিনি বলেন, ‘যারা নীতিমালা অনুসরণ করবে না বা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নবায়ন করবে না, তাদের নোটিশ দেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট বাতিলসহ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি নিশ্চিত করে বলেন, এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট দিয়ে সেবার বাইরে অন্য কিছু করার সুযোগ নেই।’

রাইড শেয়ারিং সার্ভিস সেবার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিআরটিএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান কালবেলাকে বলেন, ‘বিষয়টি আমি জানতাম না। আপনি লিখিতভাবে প্রশ্নগুলো রেখে যান। বিষয়টি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’