Image description

শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে পদত্যাগ করা সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ফিরছেন তাঁর চিরচেনা আঙিনা রাজধানীর গুলশানের গ্রিন ভিলায়। বঙ্গভবন থেকে সরাসরি দীর্ঘ দিনের এই স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটিতেই উঠবেন তিনি। তাঁর ফেরা উপলক্ষে এর মধ্যেই ফ্ল্যাটের সংস্কার কাজ শুরু হয়েছে। বাসার ভিতরে ইনটেরিয়র ডেকোরেশন সম্পন্ন হয়েছে। বসানো হচ্ছে নতুন টেলিফোন লাইন। গাড়ি পার্কিংয়ের নির্ধারিত জায়গাটিও ধুয়েমুছে পরিষ্কার করেছে নিরাপত্তাকর্মীরা। এখন শুধুই তাঁর ফেরার অপেক্ষায়। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন শেষে নিজ বাড়িটিতে (ফ্ল্যাটে) ফিরবেন তিনি। আবারও আগের মতো প্রাণ ফিরবে ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাটে। ভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও কর্মচারীরা তাঁদের প্রিয় স্যারকে আবারও ফিরে পাওয়ার আনন্দে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। জানা যায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি প্রটোকল অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা পাবেন। এক্ষেত্রে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হবে।

সরেজমিন গতকাল বিকালে গুলশান ১ নম্বরের ১২৩ নম্বর সড়কের ৪১ নম্বর গ্রিন ভিলা ভবনে গিয়ে সদ্য বিদায়ি দেশের রাষ্ট্রপতির ফেরা উপলক্ষে এসব তোড়জোড় দেখা যায়। গুলশান ১ নম্বর থেকে গুলশান ২ নম্বরমুখী সড়কে যেতে প্রথম ইউটার্ন নিলেই হাতের বাঁম পাশের সড়ক ধরে ২০০ গজ সামনে গেলেই চোখে পড়ে গ্রিন ভিলা ভবন। ছয় তলা এই ভবনের নিচতলা পুরোটাই পার্কিং। ছয় তলার চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে দুটি ফ্ল্যাটের মালিক সদ্য বিদায়ি রাষ্ট্রপতি। ৫০২ নম্বর ফ্ল্যাটে স্ত্রীসহ তিনি ও ৫০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে তাঁর ছেলে আরশাদ আদনান স্ত্রী ও দুই নাতিন থাকেন। অপর দুই ফ্ল্যাটের একটিতে জনৈক কানাডা প্রবাসী, অপরটি এক দূতাবাস কর্মকর্তার।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকে এ ভবনে তিন শিফটে এসবির একজন করে সদস্য নিচতলায় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রাষ্ট্রপতির পদ থেকে বিদায় নেওয়ার পরও বাসাটি পুলিশি পাহারায় থাকবে বলে জানা গেছে।

ভবনটির প্রধান নিরাপত্তাকর্মী মো. মোস্তফা কামাল বলেন, গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বঙ্গভবন থেকে লোকজন এসে ফ্ল্যাটটির সংস্কার কাজ করেছেন। এক সপ্তাহ আগেও স্ত্রীসহ বাসাটি দেখতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁরা ২-৩ মাস পরপরই এখানে আসতেন সকালে এলে রাত ৮টার আগেই চলে যেতেন। যখন বাসায় আসতেন- গাড়ি থেকে নেমেই আমাদের সবার খোঁজখবর নিতেন। তিনি আরও জানান, স্যার দুই দশকের বেশি সময় এখানে থাকেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে সকালে নিয়মিত হাঁটতে বের হতেন। হাঁটার সময় বিপ্লব ও শহিদুল নামে দুজন তাঁর সঙ্গে যেতেন। প্রতিদিন ১১টি পত্রিকা পড়তেন। সকালে পত্রিকা পেতে দেরি হলে নিজেই নেমে আসতেন। প্রতি জুমাবারে নামাজের পর আমাদের সঙ্গে কোলাকুলি করতেন। অনেকদিন পর স্যার ফিরবেন শুনে আমাদেরও ভালো লাগছে।

জানা যায়, গতকাল ছুটির দিন হলেও বিকাল ৪টার দিকে টেলিফোন সংযোগ লাগাতে আসেন বিটিসিএলের দুই কর্মী। তাদের একজন আবদুর রাজ্জাক জানান, ঊর্ধ্বতনদের নির্দেশে তারা ফ্ল্যাটটিতে টেলিফোনের নতুন সংযোগ দিতে এসেছেন তারা। আগে যে সংযোগটি ছিল- সেটি রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বাতিল করা হয়। এ ছাড়া সেখানে ডিউটিরত এসবির এসআই জানান, ভিভিআইপির বাসা হিসেবে এখানে কোনো নিরাপত্তা হুমকি দেখা দিলে বা হামলার ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতনদের জানানোই আমাদের কাজ। তবে এসবির বাইরে অন্য কোনো সংস্থা বা থানা পুলিশকে সেখানে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে ডিএমপির ডিসি (প্রটেকশন) মোহাম্মদ মাকছুদের রহমান জানান, যাঁরা রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন- তাঁদের নিরাপত্তার জন্য রেডবুক আছে। সে অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর) ও পুলিশ সদস্যরা নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। এক্ষেত্রে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজানো হয়। এখনো ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে কোনো নির্দেশনা না আশায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। ডিএমপির গুলশান জোনের এসি শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, নিরাপত্তার বিষয়টি প্রটেকশন বিভাগ দেখে। ভিভিআইপিদের ক্ষেত্রে অনেক সময় লোকাল থানার একজন কর্মকর্তা নিরাপত্তার বিষয়টি দেখভালের দায়িত্ব পান। কিন্তু এখনো ঊর্ধ্বতন মহল থেকে এ বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি।