Image description
রাজধানীর সড়কে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে নতুন মাত্রা যোগ করে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ক্যামেরা। যেসব সিগন্যালে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা প্রাণপণ চেষ্টা করেও শৃঙ্খলা ফেরাতে পারতেন না-সেখানে চোখের পলকেই পাল্টে যায় দৃশ্যপট। পুলিশ না থাকলেও কেউ সিগন্যাল বাতি ভঙ্গ না করার দৃশ্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অনেকটাই আশার সঞ্চার ঘটায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে পাল্টে গেছে সেই দৃশ্যপট। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কের সিগন্যাল বাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাজে আসছে না এআই ক্যামেরা। এ অবস্থায় ক্যামেরা স্থাপিত সিগন্যালগুলোতে সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। কোনো কোনো সিগন্যাল চলছে আগের নিয়মে হাতের ইশারায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সিগন্যাল কাজ না করায় চালকরা মনে করছেন বাতি নষ্ট মানে এআই মামলাও বন্ধ। চালকদের ভিতরে আইন মানার প্রবণতায় ছেদ পড়েছে। ভীতি কেটে যাওয়ায় এআই ক্যামেরা স্থাপিত সিগন্যালগুলোতে আবারও হযবরল অবস্থা। এ অবস্থা চলতে থাকলে এআই ক্যামেরার প্রকল্পটিও মুখ থুবড়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশ বিভাগ বলছে, সাময়িক ত্রুটি দেখা দিলে স্বল্প সময়ের জন্য দু-একটি সিগন্যালে বাতিতে সমস্যা দেখা দিতে পারে। তখন তাৎক্ষণিকভাবে ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানুয়ালি যানজট নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে হয়। তবে এ সময় চালু থাকে এআই মামলা।

সরেজমিন কয়েকটি এআই ক্যামেরা সংযুক্ত ট্রাফিক সিগন্যাল মোড় ঘুরে দেখা গেছে, যেসব স্থানে ট্রাফিক সিগন্যাল বাতি রয়েছে সেখানে নিয়ম মেনেই যানবাহন চলাচল করছে। কিন্তু যেসব স্থানে সিগন্যাল বাতি নষ্ট রয়েছে সেখানে যানবাহন চালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠছেন। যে যার মতো করে সিগন্যাল পার হচ্ছেন। এতে যানজটসহ দুর্ঘটনার ভয় বাড়ছে। গত মঙ্গলবার ৩টা ৫২ মিনিটে শাহবাগ মোড়ে সিগন্যাল বাতি বন্ধ ছিল। এ সময় ট্রাফিক পুলিশ থাকলেও যে যার মতো করে সিগন্যাল অমান্য করেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে দেখা যায়, লাল বাতি জ্বললেও মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা যত্রতত্র সিগন্যাল অমান্য করছে।

কয়েকজন চালক জানান, সিগন্যাল বাতি দেখেই তারা পার হন। কিন্তু যেখানে সিগন্যাল বাতি নষ্ট থাকে সেখানে যে যার মতো করে চলাচল করছে। আমরাও আগে যাওয়ার জন্য সেভাবে চলাচল করি। অনেক সময় এলোমেলো চলার ফলে যানজটের কবলে পড়তে হয়। এ ছাড়া যেসব স্থানে সিগন্যাল বাতি নষ্ট থাকে সেখানে অনেক সময় ট্রাফিক পুলিশও থাকে না। ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিছুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কারণে সিগন্যাল বাতি কাজ করছে না। মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ থাকে না, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে সিগন্যাল বাতির লাইন কাটা পড়া, অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে অধিক যানজট সৃষ্টি হয়, তখন সিগন্যাল বাতি বন্ধ করে যানজট নিরসনে কাজ করা হয়। 

এ ছাড়া কিছু সিগন্যাল বাতি স্বাভাবিকভাবেই নষ্ট হয়ে যায়, সেগুলো ঠিক করতে বুয়েটের কারিগরি টিমকে অবহিত করা হয়। তারা দ্রুত সিগন্যাল বাতিগুলো ঠিক করে দেন। বাতিগুলো কাজ না করলেও এআই ক্যামেরা চালু থাকে। ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ সূত্র জানায়, নগরীর ১৬টি মোড়ে ট্রাফিক আইন পর্যবেক্ষণে ৩৭টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে। পর্যায়ক্রমে নগরীর ১২০টি মোড়ে এআই ক্যামেরা চালু করা হবে। গত ১৮ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নগরীর আরও ৫০টি মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক বাতি লাগাতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। ঢাকা শহরের রাস্তায় এআই প্রযুক্তি সক্রিয় করার পর হাজার হাজার মামলা আসছে। সেটি যাচাইবাছাই করে বিভিন্ন আইন অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা করা হচ্ছে।

ট্রাফিক আইন অমান্যকারী যানবহনের ভিডিও এবং স্থিরচিত্র ধারণ করছে এআই ক্যামেরা। এরপর বিআরটিএর ডাটাবেস থেকে তথ্য নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইন অমান্যকারী যানবাহনের নম্বর প্লেট শনাক্ত করে এবং ডিজিটাল মামলা জেনারেট করছে। এআই ক্যামেরা চালুর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার মামলা করা হয়েছে।