Image description

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ( ইউজিসি ) নিয়ম অনুসারে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ( ববি ) শিক্ষক থাকার কথা ২৬০ জন । এর বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ১৪৮ জন । বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ টি বিভাগ রয়েছে । তবে গত ১৫ বছর অধ্যাপক পদে শিক্ষক আছেন মাত্র একজন । এমন শিক্ষকসংকট নিয়ে প্রায় দেড় দশক ধরে চলছে বিশ্ববিদ্যালয়টি । ববির শিক্ষকেরা বলছেন , এই ঘাটতির কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং মানসম্পন্ন শিক্ষাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না । ববিতে বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১০ হাজারের বেশি ।

আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ববিতে প্রতি ২০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক থাকার কথা । তবে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ১০ হাজার ১৪৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ২১০ জন । তাঁদের মধ্যে শিক্ষা ছুটিতে আছেন ৬২ জন । সে অনুযায়ী পাঠদানরত শিক্ষক রয়েছেন ১৪৮ জন । অর্থাৎ প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য গড়ে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন । শিক্ষকেরা এ সংকটের জন্য উপাচার্য এবং ইউজিসিকে দায়ী করেছেন । বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শাখার তথ্যমতে , গণিত বিভাগে ৪৭৩ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান নিচ্ছেন ৭ শিক্ষক । ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে ৩২০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ৪ জন , রসায়ন বিভাগে প্রায় ৫০৪ শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৭ জন , ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ৪০২

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় করার শর্তে ওই শিক্ষার্থীরা জানান ,

» ইউজিসির নিয়ম অনুসারে শিক্ষক থাকার কথা ২৬০ জন ; আছেন ১৪৮ জন । » গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক । » বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা ভিসিরা সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ দেননি ।

জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৫ জন , রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৪১৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক আছেন ৪ জন , আইন বিভাগে ৫ জন শিক্ষক দিয়ে ৪২৭ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চলছে । এ নিয়ে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন এবং আইন বিভাগের প্রধান ড . কায়সার আহমেদ জয়ের সঙ্গে । তিনি বলেন , “ আমরা অমানুষিক পরিশ্রম করি । একজন শিক্ষককে ৫-৬টি কোর্স নিতে হয় । আমাদের শুক্র , শনি বলতে কোনো ছুটি ভোগ করার সুযোগ হয় না । সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ না দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে । ' গত বৃহস্পতিবার ক্যাম্পাসে কথা হয় গণিত , রসায়ন ও আইন বিভাগের কয়েক শিক্ষার্থীর সঙ্গে । নাম প্রকাশ না

তাঁদের মাঝে মাঝে বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকতে হয় শিক্ষকের আশায় । অনেক সময় চাপের কারণে ক্লাস নিতে পারেন না শিক্ষকেরা । এ কারণে তাঁদের সেশনজটের সম্মুখীন হতে হচ্ছে । প্ৰশাসন সূত্রে জানা গেছে , অর্গানোগ্রামভুক্ত অধ্যাপক পদের সংখ্যা ৪৯ টি হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র একজন । এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পদে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের ড . মো . মুহসিন উদ্দীন । তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র অধ্যাপক । তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন , ‘ ইউজিসি কয়েকটি বাজে নিয়ম করেছে । তারা যে পদ দেয় , তাতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সময় বেঁধে দেয় ।

ওই সময়ের মধ্যে যথাযথ শিক্ষক না পেলে আবার ইউজিসির কাছে পদ ছাড় করতে অনুমতি নিতে হয় । ' তিনি বলেন , “ আমাদেরও দায় আছে । আমরা কেন সময়মতো নিয়োগ দিইনি । ' তাঁর মতে , বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা ভিসিরা সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ দেননি । এ ব্যাপারে ববি উপাচার্য অধ্যাপক ড . মো . মামুন অর রশিদ বলেন , তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করে এ মাসেই ইউজিসিতে চাহিদা পাঠিয়েছেন । নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ২০-৩০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ১ জন শিক্ষক দরকার । কিন্তু সে অনুযায়ী শিক্ষক নেই । এর ফলে পাঠদান করতে শিক্ষকদের কষ্ট হচ্ছে । ইউজিসি অনুমতি দিলে নতুন করে প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে ।