যশোরে বসতবাড়িতে ঢুকে চাঁদা দাবি এবং যৌন নিপীড়নের চেষ্টার সময় গৃহবধূর দায়ের কোপে মৃত্যু হয়েছে জিতু (৩৫) নামে এক সন্ত্রাসীর। বিভিন্ন থানায় তার নামে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়া ফুলতলা মোড় এলাকায় জিতু গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন বলে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ। পরে পুলিশ সেখান থেকে গুরুতর জখম জিতুকে উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে গভীর রাতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়। ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।
জিতু আহত হওয়ার সময় শুকরান বেগম (৫২) ও তার ছেলে সুমন হোসেন (২৮) নামে আরো দুইজন আহত হন। তারা যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শুকরান বেগম দাবি করেন, বুধবার রাতে জিতু তাদের বাড়িতে জোর করে ঢুকে তার ছেলের কাছে চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ছেলে সুমনকে আঘাত করে জিতু। ছেলেকে রক্ষা করতে গেলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরে তার পুত্রবধূকেও যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করে জিতু। ওই সময় আত্মরক্ষার্থে ঘরে থাকা একটি দা দিয়ে জিতুকে আঘাত করেন তিনি।
হাসিনা বানু নামে জিতুর এক স্বজন বলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে জিতুকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল। নড়াইলের তুলারামপুর এলাকায় থাকাবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে তার লাশ যশোর জেনারেল হাসপাতালে আনা হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
নিহত জিতু শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। যশোর শহরে সন্ত্রাসী হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে। পুলিশের খাতায়ও তিনি সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত। প্রাথমিকভাবে পুলিশ নিশ্চিত করেছে, জিতুর নামে একাধিক মামলা আছে।