সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দিয়ে দাবি করা হচ্ছে—কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সংসদ সদস্য (এমপি) মনিরুল হক চৌধুরীকে এক নারীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের কুৎসা ও বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তবে তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রচারিত দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মনগড়া। ভিডিওটি মনিরুল হক চৌধুরীর আটক হওয়ার কোনো ঘটনা নয়; বরং ছিনতাইকারীদের হাতে নিহত এক কাস্টমস কর্মকর্তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে সমবেদনা জানাতে যাওয়ার পুরোনো একটি ভিডিও এটি।
আসল ভিডিওর উৎস ও ফেসবুক পোস্টের তথ্য
ভিডিওটির সত্যতা অনুসন্ধানে ফেসবুকের ‘JH Deshi reviewer’ নামক একটি পেজে গত ৮ মে প্রকাশিত মূল ভিডিওটি খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওর দৃশ্য ও ভিজ্যুয়ালের সাথে সাম্প্রতিক সময়ে অসত্য দাবিতে ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির হুবহু মিল রয়েছে। মূল পোস্টটির ক্যাপশনে লেখা ছিল—‘বুলেট বৈরাগীর পরিবারের সাথে দেখা করতে আসেন কুমিল্লা ৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।’
গণমাধ্যম ও অফিশিয়াল পেজের সংবাদ
প্রাপ্ত সূত্র ধরে আরও অনুসন্ধানে দেশের অন্যতম মূলধারার সংবাদমাধ্যম ‘যুগান্তর’-এর ওয়েবসাইটে গত ৮ মে প্রকাশিত একটি সচিত্র প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়। ‘খুন হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তার পরিবারের সঙ্গে এমপি মনিরুল হকের সাক্ষাৎ’ শিরোনামের ওই প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত ৮ মে সন্ধ্যায় কুমিল্লায় ছিনতাইকারীদের হাতে খুন হওয়া কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগীর বাসায় গিয়ে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন এমপি মনিরুল হক চৌধুরী।
এছাড়া, ওই একই দিনে মনিরুল হক চৌধুরীর অফিশিয়াল ফেসবুক পেজেও এ সংক্রান্ত একাধিক ছবি ও পোস্ট প্রকাশিত হয়েছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে ছিনতাইকারীদের হাতে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হন কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী। পরদিন সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি এলাকা থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
সামগ্রিক তথ্য ও গণমাধ্যমের প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে এটি শতভাগ নিশ্চিত যে, ‘কুমিল্লা-৬ আসনের এমপি মনিরুল হক চৌধুরী নারীসহ আটক হয়েছেন’ দাবিটি সম্পূর্ণ ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ছিনতাইকারীর হাতে নিহত কাস্টমস কর্মকর্তার পরিবারের সাথে দেখা করতে যাওয়ার মানবিক একটি পুরোনো ভিডিও ফুটেজকে বিকৃত করে এবং ভিত্তিহীন তথ্য জুড়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও রাজনৈতিক চরিত্রহননের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।


