বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না ড. মুহাম্মদ ইউনূস এটা নিশ্চিত বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
শফিকুল জানান, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন না। দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তার আসীন হওয়া নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা থাকলেও, তিনি সেই পদে যাচ্ছেন না।
তিনি জানান, ড. ইউনূস তার বর্তমান বিশ্বব্যাপী কর্মকাণ্ডেই মনোনিবেশ করতে চান। দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক ব্যবসার প্রসার এবং তার সুপরিচিত ‘থ্রি জিরো’ বা ‘তিনটি শূন্যের বিশ্ব’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব এবং শূন্য নিট কার্বন নিঃসরণ) গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তিনি অব্যাহতভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
এর আগে জানা যায়, আগামীকাল শুক্রবার (২৪ জুলাই) পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এদিন দুপুর নাগাদ পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে পাঠাবেন বলে নিশ্চিত করেছেন বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় স্টার নিউজ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে, মো. সাহাবুদ্দিন শারীরিকভাবে বেশ অসুস্থ। সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান ও এমআরআই পরীক্ষায় তার নিউরো কেন্দ্রিক জটিল রোগ ধরা পড়েছে। তাই পদত্যাগ করে স্ত্রীসহ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য যেতে চান মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবিধান মতে, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনে কেউ অপারগতা প্রকাশ করলে, স্পিকারের কাছে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেবেন। পদশূন্য হলে স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে আসবেন নতুন রাষ্ট্রপতি।
এর আগে চলতি বছরের ৯ মে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান। চিকিৎসকের পরামর্শক্রমে ফলোআপ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন তিনি। চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ৯ দিন পর ১৮ মে দেশে ফেরেন তিনি।
কিন্তু রাষ্ট্রপ্রতির সেখানে যাওয়া ও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইস্যুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে আরও স্পর্শকাতর তথ্য।
সেখানে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি চিকিৎসার জন্য লন্ডনে গিয়ে শেখ হাসিনার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। পরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ওই ফোনালাপের বিষয়টি জানতে পারে। এরপরই তাকে পদত্যাগের বার্তা দেয় বিএনপি সরকার।