Image description
মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ

ভ্যাট-আয়কর সরকারি কোষাগারে জমা না দেয়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা বেতন-ভাতা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে রাজধানীর মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজের বিরুদ্ধে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) তদন্তে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।

একই সঙ্গে দেখা যায়, কলেজটির অধ্যক্ষ মো. আমিনুল হকের বিরুদ্ধে একই সময়ে দু’টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। প্রতিবেদনে অর্থ ফেরত, ব্যাখ্যা গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ব্যয় খাতে ভ্যাট ও আয়কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি। নিরীক্ষায় দেখা যায়, ভ্যাট বাবদ ৮ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, আয়কর বাবদ ৪ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সম্মানীর উৎসে কর বাবদ প্রায় ৭৬ হাজার টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেয়া হয়নি। এসব অর্থ আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা উপেক্ষা করে ২০২৩-২৪, ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিল থেকে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৪৫ হাজার ৪৪১ টাকা ব্যয় করা হয়েছে। ডিআইএ এই অর্থ সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে আদায় করে প্রতিষ্ঠানের সাধারণ তহবিলে জমা দেয়ার সুপারিশ করেছে। একাদশ শ্রেণিতে সরকার নির্ধারিত ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে ৭ হাজার ৫০০ টাকা ভর্তি ফি নেয়া হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন আবেদন ফি, দৈনিক পত্রিকা ফি, কলেজ প্রতীক ফি, পরিবেশ পরিচ্ছন্নতা ফি, টিউটোরিয়াল ফি ও রক্ষণাবেক্ষণ ফির নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে। বোর্ড ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত রেজিস্ট্রেশন ও কেন্দ্র ফির অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার পাশাপাশি প্রশংসাপত্র, প্রত্যয়নপত্র ও টিসি প্রদানের ক্ষেত্রেও অনুমোদন ছাড়াই অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব অর্থ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ফেরত দেয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

তদন্তে অধ্যক্ষ আমিনুল হকের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ১৯৯৭ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৮ সালের ১৬ই এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় সাত মাস একই সময়ে ফুলপুর ডিগ্রি কলেজ ও মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজে কর্মরত ছিলেন। চাকরির এই অভিজ্ঞতা দেখিয়েই পরবর্তীতে মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ডিআইএ’র ভাষ্য, একই সময়ে একাধিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা তৎকালীন বিধিমালার পরিপন্থি। এ ধরনের গরমিল থাকায় তার আবেদন বাতিল হওয়ার কথা থাকলেও তা না করে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ফলে তার নিয়োগ বিধিসম্মত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে কলেজের গ্রন্থাগারিক দিলরুবা শারমীনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রয়োজনীয় ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জনের আগেই সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণ করায় তার কাছ থেকে ৯৬ হাজার ৭২ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত নেয়ার সুপারিশ করেছে ডিআইএ।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অধ্যক্ষ মো. আমিনুল হক। বলেন, একই সময়ে দুই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করলেও সে সময় কোনো প্রতিষ্ঠানের বেতন গ্রহণ করেননি। মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজে যোগদানের ছয় মাস পর তিনি প্রথম বেতন পান। ভ্যাট-আয়কর ফাঁকির অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন। তবে সরকার নির্ধারিত ৫ হাজার টাকার পরিবর্তে সাড়ে ৭ হাজার টাকা ভর্তি ফি নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।