Image description

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইতিহাস বিভাগের ১৯ ব্যাচের দুটি নির্ধারিত ক্লাসের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ওই সেমিনারে উপস্থিত থাকলেই দুটি কোর্সের অ্যাটেনডেন্স দেওয়া হবে এবং আলোচনার ওপর বিশেষ অ্যাসাইনমেন্টও দেওয়া হবে। ইতিহাস বিভাগের ২০১৯ ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর) শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে পাঠানো একটি ভয়েস বার্তায় এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভয়েস বার্তায় ইতিহাস বিভাগের ২০১৯ ব্যাচের শ্রেণি প্রতিনিধি (সিআর) বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক ও ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ তাকে ফোন করে জানিয়েছেন, বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ১০টায় হাসান স্যারের এবং সকাল সাড়ে ১১টায় নাছির স্যারের নির্ধারিত ক্লাসের পরিবর্তে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে থাকতে হবে।

ভয়েস বার্তায় আরও বলা হয়, ওই সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী, ঢাকা অঞ্চলের একজন সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন অতিথি উপস্থিত থাকবেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

সিআরের ভাষ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ হাসান স্যারের সঙ্গে কথা বলে দুটি কোর্সের উপস্থিতি (অ্যাটেনডেন্স) সেমিনারেই নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। পাশাপাশি সেমিনারের আলোচনার ওপর শিক্ষার্থীদের একটি অ্যাসাইনমেন্টও দেওয়া হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত অডিটোরিয়ামে অবস্থান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

ভয়েস বার্তায় আরও শোনা যায়, এর আগেও একই ধরনের একটি সেমিনারের সময় নিয়মিত ক্লাসের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের অডিটোরিয়ামে উপস্থিত থেকে অ্যাটেনডেন্স দিতে হয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, 'আমাদের নিয়মিত পড়াশোনা ও ক্লাস বাদ দিয়ে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক মতাদর্শের প্রোগ্রামে যাওয়া এবং সেখানে না গেলে অ্যাটেনডেন্স কাটা বা নম্বর কম দেওয়ার ভীতি প্রদর্শন চরম অন্যায্য। রাজনৈতিক প্রোগ্রাম সফল করতে শিক্ষার্থীদের এভাবে ‘শ্রোতা’ হিসেবে ব্যবহার করা কোনো সুস্থ একাডেমিক চর্চা হতে পারে না।'

এ বিষয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ। অ্যাটেনডেন্স নেওয়া এবং অন্য শিক্ষকের ক্লাস বাতিলের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, 'হাসান স্যারের ক্লাস তো আর আমি নিতে পারব না, সেটা আমি বলতেও পারব না। মূল বিষয় হলো—ওই সময়ে আমার নিজের একটা ক্লাস ছিল। যেহেতু আমি সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠক হিসেবে থাকব, তাই ক্লাসে উপস্থিত হতে পারব না। আমি না থাকলে শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হবে মনে করেই ওদের সেমিনারে থাকতে বলেছি। কারণ এটি একটি গবেষণাধর্মী আয়োজন এবং আমি এসব বিষয় নিয়ে গবেষণা ও ক্লাসে পড়ালেখা করাই।'