বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬০২-এ। তবে এ বিস্তারের বিপরীতে নতুন করে আসা মূলধন বিনিয়োগের গতি তুলনামূলক কম। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট এফডিআই প্রবাহের বড় অংশই আসছে আগের মুনাফা বা পুনর্বিনিয়োগ থেকে, নতুন বিনিয়োগ হিসেবে নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে ২ হাজার ৬০২টি প্রতিষ্ঠান এফডিআই সংক্রান্ত রিপোর্টিংয়ের আওতায় রয়েছে। গত কয়েক বছরে এ সংখ্যা বেড়েছে, যা দেশের বিনিয়োগ পরিবেশে বিদেশি অংশগ্রহণের বিস্তার নির্দেশ করে। তবে প্রকৃত হিসাবে নতুন বিনিয়োগের অংশ সীমিত।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫ সালে মোট বিনিয়োগের মধ্যে প্রায় ৪৪ দশমিক ১৫ শতাংশ এসেছে পুনর্বিনিয়োগকৃত মুনাফা থেকে। অর্থাৎ, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাদের অর্জিত লাভের বড় অংশ দেশে রেখে আবার বিনিয়োগ করছেন। অন্যদিকে নতুন করে আসা ইক্যুইটি মূলধনের অংশ প্রায় ৩১ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া আন্তঃপ্রতিষ্ঠান ঋণের অংশ প্রায় ২৪ দশমিক ৫২ শতাংশ, যা মূলত মাতৃপ্রতিষ্ঠান থেকে সহায়তা হিসেবে আসে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও বিনিয়োগ প্রবাহে বৈষম্য লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ২০২৫ সালে বিশ্বব্যাপী এফডিআই প্রবাহ বেড়ে প্রায় ১ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। তবে এর বড় অংশ গেছে উন্নত দেশগুলোতে, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। বিপরীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এফডিআই প্রবাহ প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। ফলে বাংলাদেশসহ অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের জন্য নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ আরও চ্যালেঞ্জের হয়ে উঠছে।
সামগ্রিকভাবে দেখা যায়, দেশে বিদেশি বিনিয়োগের উপস্থিতি ও বিস্তার বাড়লেও নতুন মূলধন প্রবাহের গতি এখনো প্রত্যাশিত নয়। বিদ্যমান বিনিয়োগকারীদের পুনর্বিনিয়োগের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে, যা স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক হলেও দীর্ঘমেয়াদে বড় আকারের বিনিয়োগ প্রবাহ নিশ্চিত করতে নীতিগত ও কাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দেশে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়া ইতিবাচক, তবে নতুন কোনো ‘ফ্রেশ টাকা’ বা মূলধন না আসা অর্থনীতির জন্য সতর্কবার্তা। বিনিয়োগের অনেকাংশই আসছে পুরোনোদের পুনর্বিনিয়োগ থেকে। বিশ্বব্যাপী উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ কমায় আমাদের প্রতিযোগিতা বেড়েছে। দীর্ঘমেয়াদে বড় বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান পেতে হলে শুধু পুরোনোদের ওপর ভরসা না করে, ব্যবসা সহজ করার মাধ্যমে নতুন বিদেশি কোম্পানি আকর্ষণ করতে হবে।