Image description

বন্যাকবলিত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে উদ্ধার, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, প্রশাসনের সর্বস্তরকে সম্পৃক্ত করে উদ্ধার তৎপরতা, ২ কোটির বেশি টাকার সহায়তা, ১ হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু, বাহিনী মোতায়েন, স্বাস্থ্যসেবা প্রস্তুতি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে একযোগে কাজ চলছে।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) প্রেস ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, দেশ জুড়ে প্রবল বৃষ্টিপাত হয়েছে, তার ধারাবাহিকতায় বেশ কিছু জায়গায় বন্যা হয়েছে, পাহাড় ধ্বংস হয়েছে, জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের ভেতরে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবান এ পাঁচটি জেলায় জনমানুষের অবর্ণনীয় কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক এ বিষয়টি মনিটরিং করছেন এবং তার বিভিন্ন টিম মেম্বারদের মাধ্যমে মনিটরিং করাচ্ছেন।

তিনি বলেন, গতকালকে এই পাঁচটি জেলা সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এসব জেলার যারা রাষ্ট্র পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত রয়েছেন, সরকারের ভেতরে থেকে স্থানীয় প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কমিশনার, ডিআইজি, ডিসি, এসপি, সিভিল সার্জন, ফায়ার সার্ভিসের সবার সাথে প্রধানমন্ত্রী মিটিং করেছেন, সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন কীভাবে জনগণের সাথে থাকতে হবে, কীভাবে জনগণের পাশে থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আগামীকালকেও প্রধানমন্ত্রী সব বিভাগীয় কমিশনারের সাথে আলোচনা করবেন। তাদের মতামত নেবেন এবং তার নির্দেশনা প্রদান করবেন। যে উদ্ধার তৎপরতা রয়েছে সেক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের সব অনুষঙ্গ অর্থাৎ একদম ইউএনও থেকে শুরু করে ডিসি, এসপি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে যারা রয়েছেন, ওসি থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়ের একটা সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিটি মন্ত্রণালয় যার যার জায়গা থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় একটি সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর পাশাপাশি আমরা দেখেছি, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমাদের বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামে ছুটি গিয়েছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা সরাসরি মনিটরিং করছেন। স্থানীয় সংসদ সদস্যরা সবাই যার যার এলাকায় ছুটে গিয়েছেন। বিশেষভাবে, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি স্থানে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একদম তৃণমূলে গিয়ে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান, স্বাভাবিকভাবে তিনি তার পুরো দলকেও কিন্তু ইতোমধ্যে আহ্বান জানিয়েছেন যেন সাধারণ মানুষের সাথে থেকে ত্রাণ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হন, উদ্ধার কর্মকাণ্ডে নিজেদেরকে নিয়োজিত করেন। ইতোমধ্যে মূল দল বিএনপি এবং ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির সব অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিটি জায়গায় স্থানীয়ভাবে সাধারণ জনগণের সাথে থেকে কাজ করছেন এবং যেভাবে পারছেন সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রীর গৃহীত উদ্যোগের বর্ণনা দিয়ে মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে অর্থনৈতিক অনুদান নিশ্চিত করেছেন। প্রায় ২ কোটি টাকারও বেশি অর্থ খুব দ্রুত গতিতে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ সামগ্রী প্রতিটি পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এবং যারা অর্থনৈতিকভাবে বিপদ্গ্রস্ত রয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় যারা, যাদের ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গিয়েছে, তাদের প্রায় প্রতিটি পরিবারের কাছে চাল পৌঁছে দেওয়ার জন্য অবিরত প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, যে সব জায়গায় উপকূলবর্তী, সেখানে ইতোমধ্যে কোস্টগার্ডকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিজিবিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায়, যেখানে প্রয়োজনমতো সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্ণ উদ্যমের কাজ করে চলেছে জনগণের জন্য।

বন্যা পরিস্থিতির কারণে পানিবাহিত রোগের একটি বিশাল সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ইতোমধ্যে সে বিষয়ে মেডিকেল টিমকে মোবিলাইজ করা হয়েছে। দেশজুড়ে ঔষধ— বিশেষভাবে সাপের দংশন এবং ভ্যাকসিনের জন্য প্রিপারেশন নেওয়া হয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পর স্বাভাবিকভাবে রাস্তা এবং রেলপথকে দ্রুত গতিতে মেরামত করতে হবে। এজন্য সংশ্লিষ্ট এলজিইডি এবং রোডস অ্যান্ড হাইওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরকে প্রস্তুতির জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

খুব দ্রুতই খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যারা স্বাভাবিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আছেন, তাদের পুনর্বাসনকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত যে-সব গৃহস্থলী রয়েছেন, অনেকেরই বিভিন্নভাবে কৃষি ক্ষেত্রে, মৎস্য চাষে বা গবাদি পশু পালনের ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদেরকে ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া যায়, সেগুলো নিয়ে ইতোমধ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ শুরু হয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, যে এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে তার প্রত্যেকটিতে খাদ্য, পানি এবং স্যানিটেশনকে বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মোবাইল নেটওয়ার্কে সমস্যা দেখা দিয়েছে, যাতে কিছু ক্ষেত্রে যোগাযোগের ঘাটতি হয়েছে। তারপরও যতটা সম্ভব আমাদের স্থানীয় নেতাকর্মী যারা রয়েছেন, সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সাথে যারা সম্পৃক্ত রয়েছেন, তারা কীভাবে সেই সংযোগটাকে আরেকটু মেরামত করতে পারেন, কীভাবে মানুষের সাথে মানুষের জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে পারেন, সেগুলো নিয়ে কাজ করছেন এবং সামগ্রিকভাবে আমাদের যারা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রয়েছেন, বিএনপির সর্বস্তরের নেতৃবৃন্দ রয়েছেন, তারা প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জনগণের সুরক্ষার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, মূলত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং নির্দেশনায় আমরা একই সাথে রেসকিউ, রিলিফ এবং রিহ্যাবিলিটেশন এই তিনটা ফেসকে নিয়ে একই সাথে কাজ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। যখন একটি জাতির জন্য দুর্যোগের ঘনঘটা নেমে আসে, তখনই কিন্তু ঐক্যবদ্ধ হবার সময়। জনগণের নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে আমরা সেন্ট্রালি যা করার প্রয়োজন। একটা রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি এবং সব শ্রেণি এবং পেশার মানুষই এক হয়ে যদি আমরা এই দুর্যোগে বিভিন্নভাবে যারা দুঃসহ পরিস্থিতি পড়েছেন, যাদের অনেক কষ্ট হচ্ছে, সেটা লাঘব করার জন্য কাজ করে যাই এবং প্রধানমন্ত্রী যেভাবে গভীর ভালোবাসা এবং উপলব্ধির মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছেন, এই মানুষগুলোকে কীভাবে বর্তমান যে সমস্যায় রয়েছেন, সংকটে রয়েছেন, সেখানে উত্তরণ করা সম্ভব, আমার ধারণা আমরা সবাই মিলে ইনশাআল্লাহ সেটি নিশ্চিত করতে পারব।

মাহদী আমিন বলেন, একটা নির্বাচিত সরকার তাদের সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা, আন্তরিকতা এবং গভীর মমত্ববোধ দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ প্রাথমিকভাবে পাঁচটি জেলায় এবং সারা বাংলাদেশ জুড়ে যে প্রবল বৃষ্টিপাত, বন্যা, পাহাড়ধস এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, সেটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য, তাদেরকে আরও সুরক্ষিত রাখার জন্য, তাদের ত্রাণ, খাদ্য, পানি, স্যানিটেশন নিশ্চিত করবার জন্য কাজ করে যাচ্ছে। যারা পরীক্ষার্থী রয়েছে তাদের যেন জীবনে যে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেখান থেকে যেন বেরিয়ে আসতে পারে।

সে কারণে পরীক্ষা বিলম্বিত করার মাধ্যমে বহুমুখী একটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা চাই, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁরা যেন একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন। সরকার সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা নিয়ে, সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ নিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রতিটি মানুষের পাশে রয়েছে।