Image description

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি ভেস্তে যাওয়ার পর দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে চরম বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে হত্যার যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি তার পিতা হত্যার প্রতিশোধ নেওয়াকে ‘জাতীয় দাবি’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

গত ৮ মার্চ ইরানের দায়িত্ব নেওয়া মোজতবা খামেনি দীর্ঘ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আমাদের শহীদ নেতা এবং এই দুই যুদ্ধের সকল শহীদের রক্তের প্রতিশোধ আমরা অপরাধী ও কলঙ্কিত খুনিদের কাছ থেকে অবশ্যই নেব।’

এই হুমকির জবাবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক এক পোস্টে লেখেন, ‘ইরানের দিকে ১০০০ মিসাইল তাক করে রাখা হয়েছে। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে— অর্থাৎ আমাকে হত্যার চেষ্টা করে, তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পুরো ইরানকে সম্পূর্ণ ধ্বংস ও নিশ্চিহ্ন করে দিতে প্রস্তুত।’

চলতি সপ্তাহে হরমুজ প্রণালিতে সৌদি ও কাতারি তেল ট্যাংকারে ইরানি হামলা এবং তার জবাবে ইরানের ৫টি প্রদেশে যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাতব্যাপী বিমান হামলার পর ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়েছেন, পূর্বের অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি এখন সম্পূর্ণ ‘শেষ’। তবে যুদ্ধবিরতি শেষ হলেও একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য পর্দার আড়ালে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতা এখনও চলছে।

কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান সফর করছেন। ওমানে অবস্থানরত ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ একটি শীর্ষ প্রতিনিধি দলের বৈঠকের কথা রয়েছে।

ওয়াশিংটনের এই প্রচণ্ড সামরিক ও মনস্তাত্ত্বিক চাপের মুখে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান কখনোই ওয়াশিংটনের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তিনি বলেছেন, ‘মার্কিনরা যদি সমঝোতা ভঙ্গ করে, তবে আমরা পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষার জন্য প্রস্তুত। এই যুদ্ধ কখনোই ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে শেষ হবে না।’

এদিকে ওয়াশিংটন স্পষ্ট করে দিয়েছে, কোনো স্থায়ী চুক্তি হতে হলে ইরানকে অবশ্যই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির সীমা মেনে নিতে হবে এবং পারমাণবিক উপাদান হস্তান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে ইরানকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে। তবে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলা ও ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বার্তার পর মার্কিন উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছে তেহরান।