Image description

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন বিনোদপুর এলাকায় খাবার কেনাকে কেন্দ্র করে একই মালিকানাধীন দুটি রেস্তোরাঁয় ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

এ সময় টহলরত পুলিশের একজন কনস্টেবল আহত হয়েছেন। তার নাম ফয়েজ। তিনি মতিহার থানায় কর্মরত।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে 'বাংলা টিফিন' ও 'বঙ্গভোজ' নামের রেস্তোরাঁ দুটিতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্থানীয় রমজান নামের এক ব্যক্তি বিনোদপুরের 'বাংলা টিফিন' হোটেলে খাবার কিনতে আসেন। একটি প্যাকেট সরবরাহের পর অন্য প্যাকেটটি দিতে প্রায় ২০ মিনিট সময় লাগবে বলে জানায় হোটেল কর্তৃপক্ষ। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে হোটেল কর্মচারীদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন রমজান।

তর্কাতর্কির কিছুক্ষণ পর রমজানের নেতৃত্বে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি দল লাঠি, ছুরি ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বিনোদপুর বাজারের 'বাংলা টিফিন' এবং মন্ডলের মোড় এলাকার 'বঙ্গভোজ' হোটেলে একযোগে হামলা চালায়। হামলাকারীরা হোটেলের আসবাবপত্র ও গ্লাস ভাঙচুর করে এবং চারটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ এগিয়ে এলে কনস্টেবল ফয়েজ আহত হন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, 'আমরা দোকানের সামনে আড্ডা দিচ্ছিলাম। হঠাৎ একদল লোক এসে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে দোকানের ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল এবং ককটেলের বিকট শব্দে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।'

রেস্তোরাঁ দুটির স্বত্বাধিকারী মুর্শেদ সাকিল বলেন, ‘আমি বর্তমানে ঢাকার বাইরে আছি। খবর পেয়েছি আমার দুটি প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক তাণ্ডব চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় আমি অত্যন্ত বিব্রত এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত বোধ করছি।’

এ ঘটনায় অভিযুক্ত রমজানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পুলিশ দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবীর বলেন, 'খাবার দেওয়া নিয়ে দেরি হওয়ার জেরে স্থানীয় নেতা রমজানের সঙ্গে হোটেল কর্মচারীদের বিবাদ হয়। পরে রমজানের লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আমাদের এক কনস্টেবল আহত হয়েছেন।'