Image description

কুষ্টিয়ায় স্বামীর বিরুদ্ধে চুরির অপবাদ দিয়ে চার মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের এক শিশু বিশেষজ্ঞ ও তার মায়ের বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১৯ জুন) কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকা থেকে ওই নারীকে অপহরণের পর একটি বহুতল ভবনের কক্ষে বন্দি করে রাখা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে।

অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম ডা. এইচ এম কল্লোল। তিনি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, শুক্রবার বিকেলে শহরের পিয়ারাতলা এলাকার একটি ছয় তলা ভবনের কক্ষের জানালা দিয়ে এক নারীর আর্তচিৎকার ও সাহায্যের আকুতি শুনতে পান প্রতিবেশীরা। বিষয়টি আঁচ করতে পেরে স্থানীয় এক ব্যক্তি তাৎক্ষণিক ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে পুলিশকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই কক্ষ থেকে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী নারীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডা. কল্লোলের বাড়িতে তিন কয়েল তার চুরির ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামীকে সন্দেহ করেন ওই চিকিৎসক। কিন্তু তাকে খুঁজে না পেয়ে শুক্রবার সকালে কৌশলে তার চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে থানাপাড়ার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যান ডা. কল্লোল ও তার মা। পরে পিয়ারাতলার ওই ছয় তলা ভবনের একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয়।

উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগী নারী এশিয়া পোস্টকে বলেন, বিনা কারণে আমার স্বামীকে চোরের অপবাদ দেওয়া হচ্ছে। তাকে না পেয়ে কৌশলে আমাকে বাসা থেকে উঠিয়ে এনে আটকে রাখা হয়। কোনো উপায় না দেখে আমি জানালা দিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চাই। পরে পুলিশ এসে আমাকে উদ্ধার করে।

তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন, ‘এর আগেও আমাকে একবার এভাবে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল।’

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘অন্যায়ভাবে আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে তুলে নিয়ে বন্দি করে রাখা হলো। একজন চিকিৎসক কীভাবে এমন অমানবিক ও আইনবহির্ভূত আচরণ করতে পারেন? আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

এদিকে ভুক্তভোগী নারীর মামা রবিউল জানান, চুরির ঘটনা ঘটলেও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কেবল সন্দেহের বশে স্বামীকে না পেয়ে একজন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে এভাবে আটকে রাখা চরম অন্যায়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘শুক্রবার রাত ১০টার দিকে আমরা থানায় গিয়েছিলাম। ডা. কল্লোল প্রভাবশালী হওয়ায় তিনি ও তার পরিবার আমাদের মামলা না করার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন।’

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ডা. এইচ এম কল্লোল আটকের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি ও আমার মা ওই নারীকে আটকে রাখিনি। তার স্বামীর খোঁজে তাকে ডেকেছিলাম।’

কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘৯৯৯ থেকে তথ্য পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে একটি বাসা থেকে ওই নারীকে উদ্ধার করে তার পরিবারের জিম্মায় পাঠিয়েছে। তবে এই ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’