রাজধানীর রামপুরায় গুলিবিদ্ধ পুলিশের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে কাইল্যা পলাশ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
শনিবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
এর আগে গত ১২ জুন শুক্রবার দুপুরে রামপুরা ব্রিজসংলগ্ন একরামুন্নেছা বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের কাছে গুলিবিদ্ধ হন কাইল্যা পলাশ। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথার ভেতরে আটকে থাকা গুলি বের করেন চিকিৎসকরা। পরে স্বজনদের অনুরোধে তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানেই তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, কাইল্যা পলাশের বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত ১০টি মামলা ছিল। ২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজান হত্যা মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন। ওই মামলায় বিচারিক আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ড দিলেও পরে উচ্চ আদালত সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। দীর্ঘ প্রায় ২৫ বছর কারাভোগের পর গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রায় এক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।
পলাশের বাবার নাম ইউনুস খান। তাদের বাড়ি রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায়।
হাতিরঝিল থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনার একদিন পর ১৩ জুন শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইমাম হোসেন নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে কাইল্যা পলাশকে গুলি করার কারণ ও জড়িতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বর্তমানে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলাটির তদন্ত করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।
এর আগে গত এপ্রিল মাসে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় তালিকাভুক্ত আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী নাইম আহমেদ টিটনকে। তিনিও দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়েছিলেন। কারামুক্ত পুরনো শীর্ষ সন্ত্রাসীদের ওপর ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।