Image description

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সালিশ বৈঠকে অভিযুক্তকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও চড়থাপ্পর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়, যা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সখিপুর থানার কাঁচিকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম মনাই হাওলাদার কান্দি গ্রামে। শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যায় দুলারচর নতুন বাজারসংলগ্ন এলাকায় ওই সালিশ বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে চরভাগা ইউনিয়নের কাজী কান্দি গ্রামের বাসিন্দা কামাল কাজী আত্মীয়তার সূত্র ধরে এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রীকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে কাছে ডেকে নেন। পরে তাকে জোরপূর্বক ধইঞ্চা ক্ষেতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় শিশুটির চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্তকে আটক করে।

পরে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নাছির হাওলাদারের নেতৃত্বে সালিশ বৈঠক বসানো হয়। বৈঠকে মাতব্বরদের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজের অপরাধ স্বীকার করেন বলে জানা গেছে। এরপর সালিশে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং চড়থাপ্পর দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। নগদ ২০ হাজার টাকা এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে জরিমানার বাকি টাকা পরিশোধের পর শাস্তি কার্যকর করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এ ধরনের অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে আইনের প্রতি অবহেলা হিসেবে দেখছেন। তবে অভিযুক্ত ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি নন।

সালিশের বিষয়ে ইউপি সদস্য নাছির হাওলাদার বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারটি খুব অসহায় তারা থানায় যাবে সেই গাড়িভাড়ার টাকাও তাদের কাছে নাই। তাই তাদের সম্মতিতে আমরা সালিশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে তাৎক্ষণিক ২০ হাজার টাকা আদায় করি এবং বাকি টাকা ১০ দিনের মধ্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এতে ভুক্তভোগী পরিবারটি সন্তুষ্ট হয়েছে। যদিও বিষয়টি আইন বহির্ভূত, তবে তাদের অনুমতিতেই আমরা সালিশি কার্যক্রম পরিচালনা করি।

এ বিষয়ে সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে দ্রুত মামলা নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।