Image description

দিল্লি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানের প্রতি প্রদর্শিত অসৌজন্যমূলক ও অমর্যাদাকর আচরণে গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা ফাইজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন, বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে। এই ঘটনাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক বলে বিবেচনা করার অবকাশ নেই।

সোমবার (১৫ জুন) মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে এই উদ্বেগ ও নিন্দা জানান তিনি। 

ফাইজ আহমদ তৈয়্যব লিখেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডাঃ জাহেদ উর রহমান একজন বিশিষ্ট বাংলাদেশি বুদ্ধিজীবী, কলামিস্ট, শিক্ষাবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক। তিনি পলিসি এন্ড স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও বহন করছেন।

নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি আরও লিখেছেন, এই ঘটনাকে কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন বা আকস্মিক বলে বিবেচনা করার অবকাশ নেই। বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও ভারতের বিভিন্ন বিমানবন্দরে বাংলাদেশি নাগরিকদের হয়রানির অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই উঠে আসছে। ব্যক্তিগতভাবে আমি নিজেও সাধারণ নাগরিক হিসেবে দুইবার ভারতীয় বিমানবন্দরে অনুরূপ হেনস্তার শিকার হয়েছি, যা এই সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি ও কাঠামোগত চরিত্রকেই প্রমাণ করে।

বর্তমান তথ্য উপদেষ্টার পাশে থাকার প্রত্যয় জানিয়ে ফাইজ আহমদ তৈয়্যব লিখেছেন, প্রিয় জাহেদ ভাই, আমরা আপনার পাশে আছি এবং আপনার সিদ্ধান্তকে পূর্ণ সম্মান জানাই। দেশের মর্যাদাই সর্বোচ্চ বিবেচনা।

তিনি আরও লিখেছেন, এটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, ডাঃ জাহেদ দীর্ঘকাল ধরে ভারত-সমর্থিত কর্তৃত্ববাদী আওয়ামী শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবাদে শামিল ছিলেন এবং বিশেষভাবে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর সক্রিয় ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল, এই হেনস্তার ঘটনা সেই প্রেক্ষাপটেই বিচার করা সমীচীন। প্রতীয়মান হয় যে এটি একটি উদ্দেশ্যমূলক ও পরিকল্পিত হেনস্তা।

আওয়ামী স্বৈরতন্ত্র ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও লিখেছেন, এই আচরণ ভারতের কূটনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও চরিত্রকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে উন্মোচিত করে দেয়। আওয়ামী স্বৈরতন্ত্র, বাংলাদেশের জনগণের ভোটাধিকার হরণ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রশ্নে ভারতের অবস্থান ইতোমধ্যেই প্রশ্নবিদ্ধ। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সরকার প্রধানের উপদেষ্টা পর্যায়ের একজন প্রতিনিধির প্রতি কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রোটোকল না মানা আন্তর্জাতিক রীতিনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা দৃঢ়ভাবে দাবি জানাচ্ছি যে ভারত সরকার এই ঘটনার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করবে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশি নাগরিক ও কর্মকর্তাদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করবে।