দেশের সাম্প্রতিক বিভিন্ন ইস্যুকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্ট এলাকায় দুই সংগঠনের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থানে স্লোগান দিলে ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে জিরো পয়েন্ট থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে শাখা ছাত্রদল। মিছিলটি শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী মোড় প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জিরো পয়েন্টে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এর প্রায় ১৫ মিনিট পর একই স্থান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে শাখা ছাত্রশিবির। তাদের মিছিলও শাহ আমানত হল ও সোহরাওয়ার্দী মোড় ঘুরে জিরো পয়েন্টে এসে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ‘গুম ও অপহরণের নাটক সাজানোর’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। সমাবেশে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, ১৯৭১ সালে এদের ভূমিকা ছিল ধর্ষক ও গণহত্যাকারীদের সহযোগীর। আজও তারা একই অপকর্মের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। আমরা এসবের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলব। আমরা সহাবস্থানে বিশ্বাস করি, কিন্তু কোনো অপরাধী বা ধর্ষকের সঙ্গে আপস করব না।
অন্যদিকে বিএনপির সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর হিজাব-সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ছাত্রশিবির। সমাবেশে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি বলেন, “জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হিজাব নিয়ে কটাক্ষ করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এমন মন্তব্য কোনো দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে প্রত্যাশিত নয়।”
এছাড়া তিনি ধর্ষণবিষয়ক আইনের কিছু বিধান নিয়েও সমালোচনা করেন এবং সরকারের অবস্থানের সমালোচনা করেন।
দুই সংগঠনের পৃথক কর্মসূচি চলাকালে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা তৈরি হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিলেন।