Image description

ওমানে নিখোঁজ হওয়ার চারদিন পর এক বাংলাদেশি কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও তরুণ ব্যবসায়ীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। নিহত মিজান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে ব্যাপক পরিচিতি অর্জন করেছিলেন। তার অনুসারীর সংখ্যা ছিল ২০ লাখেরও বেশি।

জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার বিপি দাউদপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজান ওমানের সোহার সিটিতে বসবাস করতেন। তিনি সোহার ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় একটি আইসক্রিমের দোকান পরিচালনা করতেন। মিজান আবদুল জব্বারের ছেলে এবং তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। তিনি স্ত্রীসহ পরিবারের সদস্যদের রেখে গেছেন।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, গত শুক্রবার দুপুরের দিকে দোকানের প্রয়োজনীয় মালামাল কিনতে বাসা থেকে বের হন মিজান। তবে সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি আর বাসায় ফেরেননি। দোকানের কর্মচারীরা একাধিকবার তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতজনরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে শুরু করেন।

নিহতের বন্ধু ইকবাল জানান, সোমবার বেলা প্রায় ১১টার দিকে সোহারের লুলু হাইপারমার্কেটের পার্কিং এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে দরজা বন্ধ অবস্থায় এক ব্যক্তির গলিত মরদেহ দেখতে পান স্থানীয় এক ওমানি নাগরিক। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে রয়েল ওমান পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে। পরে সেটি মিজানের মরদেহ বলে শনাক্ত করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কিছুদিন আগেই তার একমাত্র শিশু সন্তান মারা যাওয়ায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই মিজানের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধার করে রয়েল ওমান পুলিশ সোহার হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসরোধ অথবা বিষক্রিয়াজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে দেশটির পুলিশ।