Image description

সরকারের মেয়াদের মাত্র তিন মাসের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী এডভোকেট দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করেছেন। গতকাল জমা দেয়া পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন প্রেসিডেন্ট। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনও জারি হয়েছে। পদত্যাগপত্রে তিনি স্বাস্থ্যগত কারণ উল্লেখ করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক বাস্তবতা, মন্ত্রণালয়কে ঘিরে চলমান টানাপড়েন এবং স্থানীয় ক্ষমতার দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপটে এই পদত্যাগ বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের মতো একটি স্পর্শকাতর অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা একজন পূর্ণমন্ত্রীর আকস্মিক বিদায়কে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যগত বিষয় হিসেবে দেখছেন না অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষক। পদত্যাগপত্রে মন্ত্রী লিখেন, ‘মহোদয়, আমি দীপেন দেওয়ান, এমপি, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমি শারীরিক নানা জটিলতায় ভুগছি। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কাজের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাবিধ সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির স্বার্থে আমার বর্তমান পদ থেকে অব্যাহতি গ্রহণ করা আবশ্যক বলে মনে করছি। অতএব, উপর্যুক্ত কারণে আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।’

এদিকে, দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাঙ্গামাটি শহরে তার সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। গতকাল বিকাল থেকে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন সমর্থকরা। পরে তারা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। বিক্ষোভে অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, একজন প্রতিমন্ত্রীর প্রত্যক্ষ চাপ এবং বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রের কারণে দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়েছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং তার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের সুযোগ দেয়ার দাবি জানান। রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র নেতা ও বিশিষ্ট আইনজীবী এডভোকেট সাইফুল ইসলাম পনির বলেন, দীপেন দেওয়ানের মতো একজন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন। এটি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিশ্বাস করেন না।

এদিকে, বিএনপি নেতা সাজাই মারমা, সদ্য বিদায়ী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর সুমনসহ তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও দাবি করেছেন, দীপেন দেওয়ানকে পরিকল্পিতভাবে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

দীপেন দেওয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্ন আলোচনা রয়েছে। মন্ত্রিত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপি’র সঙ্গে তার দূরত্ব বাড়ছিল বলে দলের মধ্যে আলোচনা রয়েছে। জেলা বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিভক্তি, ছাত্রদল ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তিনি একাধিক চাপের মুখে ছিলেন বলে তার সমর্থকরা মনে করেন।

বিশেষ করে পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠনকে ঘিরে রাজনৈতিক সুপারিশ, লবিং, তদবির এবং প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা মন্ত্রণালয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে। এ ছাড়া উন্নয়ন বরাদ্দ বণ্টন নিয়ে বিতর্ক, মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও তার অবস্থানকে দুর্বল করেছিল বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে।