Image description
ঈদের আগে ব্যাংকে টাকা তোলার ভিড়

পবিত্র ঈদুল আজহা সামনে রেখে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাংকের এটিএম বুথ ও শাখাগুলোতে গ্রাহকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। ঈদের প্রধান অনুষঙ্গ কোরবানির পশু কেনা, শপিং ও গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নগদ টাকার প্রয়োজনে ব্যাংকমুখী হয় গ্রাহকরা। এদিকে কোরবানির ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার প্রচণ্ড চাহিদা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি শীর্ষ বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক থেকেই কয়েক সপ্তাহেই ৩ হাজার কোটি টাকা তুলেছেন গ্রাহকরা।

এবার ঈদুল আজহার ছুটি শুরু হচ্ছে আগামী সোমবার (২৫শে মে) থেকে, যা চলবে ৩১শে মে পর্যন্ত, টানা ৭ দিন ছুটি। ফলে বৃহস্পতিবার ছিল ব্যাংকিং লেনদেনের সপ্তাহের শেষ দিন। হাতে আরও দুইদিন বাকি থাকলেও মাঝে শুক্রবার সরকারি ছুটি পড়েছে। তার আগেই নগরীর বিভিন্ন ব্যাংক শাখা ও এটিএম বুথে টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় প্রচুর গ্রাহকের উপস্থিতি দেখা গেছে। যাদের বেশির ভাগ টাকা উত্তোলন করেছেন, জমার পরিমাণ ছিল খুবই কম। রাজধানীর মতিঝিল ও দিলকুশা, দৈনিক বাংলা, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকার ব্যাংকের শাখাগুলো ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

সোনালী ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, উৎসবকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের নগদ টাকার প্রয়োজন স্বাভাবিক বিষয়। কেউ শপিং করছেন, কেউ কোরবানির পশু কিনছেন, আবার কেউ গ্রামে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন-ভাতা পরিশোধ করছেন। ফলে ঈদের আগের শেষ কর্মদিবসে ভিড় বাড়বে এটা ধরেই আমরা পূর্ব প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখন পর্যন্ত কোনো ভোগান্তি ছাড়াই সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রতি বছরই ঈদের আগে শেষ কর্মদিবসে টাকা উত্তোলনের চাপ বেড়ে যায়। এজন্য ব্যাংকের পক্ষ থেকেও আগে থেকেই পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ ও গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়। সকাল থেকেই গ্রাহকের উপস্থিতি রয়েছে, তবে আমরা সর্বোচ্চ সেবা দিতে সচেষ্ট।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বুথগুলোতে পর্যাপ্ত অর্থ সরবরাহ রাখা হয়েছে এবং এটিএম সার্ভিস সচল রাখতে আলাদা টিম নিয়োজিত রয়েছে। ফলে গ্রাহকদের বড় কোনো ভোগান্তির আশঙ্কা নেই।

এদিকে ইসলামী ব্যাংক সূত্র বলছে, গত ৩০শে এপ্রিল ইসলামী ব্যাংকের আমানত ছিল ১ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা। আর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আমানত দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৮২ হাজার কোটি টাকায়। অর্থাৎ গত ২০ দিনে গ্রাহকরা ব্যাংকটি থেকে টাকা তুলেছেন ৩ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থ উত্তোলন স্বাভাবিক বলছেন ব্যাংকের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, ইসলামী ব্যাংক দেশের শীর্ষ ব্যাংক। প্রতিটি ঈদুল আজহায় গ্রাহকরা এই পরিমাণ টাকা উত্তোলন করে থাকেন।

দেশ জুড়ে ইতিমধ্যে কোরবানির পশুর হাটে গরু আসতে শুরু করেছে। এদিকে ঈদের ছুটি দীর্ঘ হওয়ায় রাজধানী ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই। এসব মিলিয়ে নগদ অর্থের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় বুথ ও ব্যাংকগুলোতে এমন ভিড়ের চিত্র দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নগদ টাকার চাহিদা: জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার চাহিদাপত্র দিয়েছে একটি বেসরকারি ব্যাংক। সেই ব্যাংক পেয়েছে দেড় হাজার কোটি টাকা। একইভাবে অপর একটি ব্যাংক ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা চেয়ে ১ হাজার কোটি টাকা পেয়েছে। এই চিত্র প্রায় অধিকাংশ ব্যাংকের। মূলত কোরবানির ঈদের আগে ব্যাংকে নগদ টাকার প্রচণ্ড চাহিদার কারণেই সংকট দেখা দিয়েছে।

একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বলেন, ঈদের আগে নগদ টাকার ব্যাপক চাহিদা। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা আরও বেড়েছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহে পর্যাপ্ত টাকা দিতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে গ্রাহককে কাঙ্ক্ষিত টাকা দিতে হিমশিম খাচ্ছে ব্যাংকগুলো।

কথা হয় হাসান নামের এক গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি ইসলামী ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল শাখায় নগদ উত্তোলন করতে এসেছেন। তিনি বলেন, কোরবানি এবং নিজ প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য টাকা উত্তোলন করতে এসেছি।

একই কথা বলেন, রূপালী ব্যাংকের গ্রাহক খায়রুল। তিনি বলেন, ঈদের আগে কোরবানি আছে। সপ্তাহের শেষ দিন, ব্যাংক খোলা থাকছে না। তাই বেশি করে টাকা উত্তোলন করার জন্য এসেছি। এদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহায় ব্যাংকের ডিজিটাল সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অর্থাৎ বন্ধের মধ্যেও এটিএম বুথ, অনলাইন ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে হবে।

সরকারি ছুটি ৭ দিন করলেও কোরবানির পশুর হাট সংলগ্ন শাখায় ঈদের আগের দিন রাত দশটা পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় ব্যাংক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একইসঙ্গে পোশাক শিল্প এলাকায়ও ঈদের আগে বিশেষ ব্যবস্থায় সীমিত পরিসরে ব্যাংক লেনদেন হবে।