Image description

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার সংলাপে বসার চিন্তা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ নাকি ইউনিয়ন পরিষদ-  কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে হবে, তা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। এমন প্রেক্ষাপটে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের আগে অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপে বসার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের ভাবনায় রয়েছে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, নির্বাচন বিশ্লেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতামত নিয়ে জনগণের জন্য কোন প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আগে আয়োজন করা বেশি জরুরি ও উপযোগী হবে, সে বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছানো। অন্যদিকে প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বেশির ভাগ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জনপ্রতিনিধিশূন্য রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও আলোচনা চলছে। নির্দলীয় স্থানীয় নির্বাচনে অনেক দল তাদের প্রার্থীর নামও ঘোষণা করেছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চার সহস্রাধিক ইউপি, তিন শতাধিক পৌরসভা, পাঁচ শ উপজেলা পরিষদ, পার্বত্য ছাড়া ৬১ জেলা পরিষদ ও ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচন উপযোগী রয়েছে। এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নির্বাচন কমিশনার বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগে আমাদের আইন সংশোধন করতে হবে। এরপর ঠিক করা হবে কোন স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে। বর্তমানে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে কোন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে হতে পারে- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব নিয়ে আমরা এখনই ভাবছি না। তবে প্রয়োজনে সংলাপের আয়োজন করা হতে পারে। এক্ষেত্রে আমরা অংশীজনদের সঙ্গে বসতে পারি। সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, হয়তো ওভাবে বড় আকারে না হলেও কমিশনে যদি আমরা মনে করি তবে বসতে পারি। কারণ অংশীজনের মতামতের প্রয়োজন রয়েছে।

ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, অন্তত পাঁচ মাসের মধ্যে প্রস্তুতি শেষে ভোটে নামতে চায় নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে কোন নির্বাচন আগে করা হবে তা নিয়ে সরকারের তরফেও আলোচনা হবে। এদিকে স্থানীয় সরকারের সিটি, উপজেলা, পৌর, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদের অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই এখন মেয়াদোত্তীর্ণের মধ্যে রয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে আইন-বিধি সংস্কার করে ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে ভোটে নামতে চায় নির্বাচন আয়োজনকারী সাংবিধানিক সংস্থাটি। সংসদ নির্বাচন করার তিন মাস পার হলেও স্থানীয় সরকারের কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেও হয়নি স্থানীয় সরকারের ভোট। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে ইসির আইন ও বিধি সংশোধন সংস্কার কমিটি এক দফা বৈঠকও করেছে।