আগামী রোববারের মধ্যে পুলিশ শিশু রামিসা হত্যা মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মামলাটির বিচার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে তাদের বাসায় যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ মন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীরা। সাক্ষাৎ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
এ সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, এ ধরনের মামলার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে আইন সংশোধনও করবে সরকার।
ভুক্তভোগী পরিবারটির আরেক মেয়ের লেখাপড়াসহ সার্বিক দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ওই বাসায় উপস্থিত ছিলেন– আইনমন্ত্রী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ আরও অনেকে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে মিরপুরের পল্লবীতে একটি ফ্ল্যাটে খাটের নিচ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং পরে বাথরুম থেকে খণ্ডিত মাথা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা হয়।
প্রথমে ওই বাসা থেকে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে নারায়ণগঞ্জ থেকে সোহেলকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন সোহেল রানা। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
পল্লবীতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে সারা দেশ। এ ঘটনায় নানা মহল থেকে দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি উঠেছে। বর্বরোচিত এ ঘটনায় জড়িত অপরাধীর দ্রুত বিচার নিশ্চিতে বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী থানা ঘেরাও হয়েছে এবং রাতে কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন এলাকাবাসী।
অন্যদিকে নৃশংস এ ঘটনার প্রতিবাদে রাজধানীর বাইরেও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে সর্বস্তরের মানুষ।