Image description

সরকারি কর্মচারীদের জন্য সরকারি চাকরি আইন থাকলেও নতুন করে ‘ বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস ' নামে আরেকটি আইন করতে যাচ্ছে সরকার । নতুন আইনটি শুধু বিসিএস কর্মকর্তা , না সব সরকারি কর্মচারীর জন্য করা হবে , তা এখনো স্পষ্ট নয় । ক্ষমতাসীন বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস আইনের খসড়া করতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবকে আহ্বায়ক করে সম্প্রতি ১৬ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে । ওই কমিটির একজন সদস্য গত রোববার আজকের পত্রিকাকে বলেন , ‘ সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা সরকারি চাকরিসংক্রান্ত সব আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে নতুন আইনের খসড়া প্রণয়নের দিকে আগাব । শিগগিরই কমিটির বৈঠক হবে । ' জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞরা বলেছেন , সরকার চাইলে শুধু বিসিএস কর্মকর্তাদের

সিভিল সার্ভিস আইন » আইনের খসড়া তৈরিতে : » সরকারি চাকরি আইনে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ১৬ সদস্যের কমিটি ।

» শুধু বিসিএস নাকি সব কর্মচারীর জন্য , তা এখনো চূড়ান্ত নয় । জন্য নতুন এই আইন করতে পারে অথবা সব সরকারি কর্মচারীকে এই আইনের আওতায় আনতে পারে । তবে সব সরকারি কর্মচারীকে এই আইনের মধ্যে রাখা হলে সরকারি চাকরি আইনে নতুন করে হাত দিতে হবে । জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির আরেকজন সদস্য বলেন , ‘ ধারণা করছি , শুধু বিসিএস কর্মকর্তাদের জন্য নতুন এই আইন করা হবে । তবে

নতুন করে হাত দিতে হতে পারে । » স্বাধীনতার আগে সিএসপি কর্মকর্তাদের জন্য এমন আইন ছিল । বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নয় । কমিটির সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে । ' ওই সদস্য জানান , সরকারি চাকরি আইন থাকার পরেও নতুন এই আইন করলে সাংঘর্ষিক অবস্থা তৈরি হবে কি না , তা কমিটি বিবেচনায় নেবে । নতুন এই আইন হলে সরকারি চাকরি আইন সংশোধন করতে হবে কি না বা ওই আইনের ভবিষ্যৎ কী হবে , কমিটির সভায় সে বিষয়েও আলোচনা হবে ।

সুশাসন বিষয়ে বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে বলা হয়েছে , দক্ষ , মেধাবী , জবাবদিহিমূলক ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তোলা হবে । মেধার মূল্যায়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় যথাযথ সংস্কার করা হবে । সংবিধানের আলোকে একটি যথোপযুক্ত সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন করা হবে । দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান ( সিএসপি ) কর্মকর্তাদের জন্য সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট ছিল । ওই আইনের মাধ্যমে সিএসপি কর্মকর্তাদের চাকরির শর্ত , নিয়োগ , পদোন্নতি , শৃঙ্খলার বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা হতো । জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন , বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের নিয়োগ , পদোন্নতি , জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিধিবিধান রয়েছে । সরকার চাইলে এ- সংক্রান্ত সব বিধিবিধান একীভূত করে নতুন একটি আইন করতে পারে । এতে কোনো সমস্যা নেই । তবে সেই আইনে সব সরকারি কর্মচারীকে রাখা হলে সরকারি চাকরি আইন নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে , নইলে সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে । অনেক কিছুই নির্ভর করবে নতুন আইনে কোন কোন বিষয় রাখা হবে তার ওপর । প্রস্তাবিত আইনের পূর্ণাঙ্গ খসড়া না দেখে এটি কোন ধরনের আইন হচ্ছে , তা বোঝা যাবে না বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া । তিনি বলেন , ‘ এমন আইন করার আগে লক্ষ রাখতে হবে এর ফলে যেন আন্তক্যাডার এবং ক্যাডার - নন - ক্যাডার দ্বন্দ্ব বেড়ে না যায় এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো কিছু না থাকে । অনেক দেশেই এ ধরনের আইন রয়েছে জানিয়ে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন , সরকার চাইলে শুধু ক্যাডার কর্মকর্তাদের জন্য এই আইন করতে পারে অথবা বেসামরিক সব কর্মকর্তাকে এর আওতায় আনতে পারে । সে ক্ষেত্রে সরকারি চাকরি আইনে সংযোজন- বিয়োজনের প্রয়োজন হতে পারে । জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি -২ শাখা ; নিয়োগ , পদোন্নতি ও প্রেষণ অনুবিভাগ ; সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগ ; প্রশাসন অনুবিভাগ ; সংস্কার ও গবেষণা অনুবিভাগ এবং আইন অনুবিভাগের যুগ্ম সচিবদের কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে । এ ছাড়া মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ , অর্থ বিভাগ এবং লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের একজন করে যুগ্ম সচিব ; বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র , বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমি এবং জাতীয় উন্নয়ন ও প্রশাসন একাডেমির এমডিএসদের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে । এর বাইরে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং বিয়াম ফাউন্ডেশনের পরিচালককে কমিটির সদস্য করা হয়েছে । জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিধি -৫ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব এ কমিটির সদস্যসচিব । কমিটিকে সরকারি চাকরিসংক্রান্ত সব আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে সংবিধানের আলোকে সিভিল সার্ভিসের জন্য পৃথকভাবে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস আইনের খসড়া প্রণয়ন করতে বলা হয়েছে । এই কমিটিকে এ- সংক্রান্ত অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনা করে তিন মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে ।