Image description

দেশের অর্থনীতি যখন উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থানের স্থবিরতা, বিনিয়োগ সংকট ও রাজস্ব ঘাটতির চাপে টালমাটাল—ঠিক তখনই আসন্ন জাতীয় বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে নতুন উদ্বেগ। বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনও স্বস্তির পর্যায়ে নামেনি, আয় বাড়েনি, নতুন চাকরি কমেছে, ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে—এমন বাস্তবতায় নতুন কর বা বাড়তি করের আলোচনা মানুষের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে।

অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, সরকারের রাজস্ব আদায়ের চাপ ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু সেই চাপের বড় অংশ গিয়ে পড়ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর। অপরদিকে ধনী ও প্রভাবশালী শ্রেণির কর ফাঁকি, সম্পদ গোপন, অর্থপাচার কিংবা কর বকেয়ার মতো বড় অনিয়মের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা খুব সীমিত। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বাংলাদেশের করব্যবস্থা কি ধীরে ধীরে বৈষম্য বাড়ানোর একটি কাঠামোয় পরিণত হচ্ছে?

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মোটরসাইকেলে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আয়োজিত মানববন্ধনে অংশ নেওয়া তরুণ রাইডার সাইফুল ইসলামের কণ্ঠে ফুটে উঠেছে সেই উদ্বেগের প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, “কিস্তিতে মোটরসাইকেল কিনে রাইড শেয়ার করে সংসার চালাই। আবার নতুন কর দিলে বাঁচবো কীভাবে?”

এই প্রশ্ন এখন শুধু মোটরসাইকেল চালকদের নয়, এটি হয়ে উঠছে দেশের লাখো নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের অভিন্ন প্রশ্ন।

বাড়ছে কর, কমছে স্বস্তি

বাজেট-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, আসন্ন বাজেটে সাধারণ মানুষের ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য ও সেবায় নতুন কর আরোপ কিংবা বিদ্যমান কর বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে মোটরসাইকেল, ইন্টারনেট সেবা, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, স্থানীয় এলসি কমিশন, কৃষিপণ্য আমদানি, ভোগ্যপণ্যের কাঁচামাল, এমনকি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও কুটিরশিল্পও।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এসব করের চূড়ান্ত চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ে ভোক্তার ওপর। কারণ ব্যবসায়ীরা বাড়তি করের বোঝা পণ্যের দামে সমন্বয় করেন। ফলে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ে।

বর্তমানে দেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, শাকসবজি—সব কিছুর দাম বেড়েছে। একইসঙ্গে বাসা ভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পরিবহন ব্যয়ও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন কর আরোপ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার এখন আগের মতো সঞ্চয় করতে পারছে না। কেউ কেউ সন্তানদের কোচিং বন্ধ করছেন, চিকিৎসা পিছিয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ কম দামে বাসা খুঁজছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাস্তব আয় কমে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষের ভোগক্ষমতা কমছে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

পরোক্ষ করের ফাঁদে সাধারণ মানুষ

বাংলাদেশের করব্যবস্থার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হিসেবে অর্থনীতিবিদরা দেখছেন—অতিরিক্ত পরোক্ষ করনির্ভরতা। দেশে রাজস্ব আদায়ের বড় অংশ আসে ভ্যাট, উৎসে কর ও আমদানি শুল্ক থেকে। এসব কর ধনী-গরিব সবার জন্য প্রায় একই হারে প্রযোজ্য। ফলে একজন দিনমজুর, রিকশাচালক বা নিম্ন আয়ের মানুষ বাজার থেকে যে সাবান, তেল বা মোবাইল ডাটা কিনছেন—সেই পণ্যে একই হারে ভ্যাট দিচ্ছেন একজন ধনী ব্যবসায়ীও। এতে করব্যবস্থার ন্যায্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

‘ভয়েস ফর রিফর্ম’-এর এক গোলটেবিল আলোচনায় অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, দেশে মোট কর আদায়ের প্রায় ৮০ শতাংশই আসে পরোক্ষ কর থেকে। অথচ উন্নত অর্থনীতিতে প্রত্যক্ষ কর, বিশেষ করে আয়কর ও সম্পদ কর রাজস্ব ব্যবস্থার প্রধান ভিত্তি।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষায়, “যেখানে নিশ্চিত ভ্যাট আদায় হয়, এনবিআর সেখানেই কর বাড়ায়। কিন্তু প্রকৃত আয়কর আদায়ে তারা ঝুঁকি নিতে চায় না।”

অর্থনীতিবিদদের মতে, পরোক্ষ করনির্ভর এই কাঠামো মূলত নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়ায় এবং বৈষম্যকে আরও তীব্র করে তোলে।

কর ফাঁকি, অর্থপাচার ও প্রভাবশালীদের ছায়া

করব্যবস্থার আরেকটি বড় দুর্বলতা হলো— প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে না পারা। এনবিআরের বিভিন্ন তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিজাত এলাকার বহু বাড়ির মালিক প্রকৃত ভাড়া আয় গোপন করলেও তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা খুব কম নেওয়া হয়।

কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ির মালিকদের বড় অংশ প্রকৃত সম্পদ বিবরণী দেন না। আবার বড় ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর বিপুল কর বকেয়া বছরের পর বছর ঝুলে থাকলেও আদায়ে তেমন অগ্রগতি দেখা যায় না।

অর্থনীতিবিদরা মতে, বাণিজ্যের আড়ালে আন্ডার ইনভয়েসিং, ওভার ইনভয়েসিং ও হুন্ডির মাধ্যমে বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার হলেও তা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান সাফল্য নেই। এতে রাষ্ট্র একদিকে রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে বৈধ ব্যবসার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মো. আবদুল মজিদ বলেন, “প্রভাবশালীরা সবসময় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হন। ফলে তাদের ওপর কর আরোপের উদ্যোগ নিলেও পরে তা অনেক সময় কার্যকর থাকে না।”

বড় বাজেট, বড় প্রশ্ন

আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট এবং প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদনের প্রস্তুতি চলছে। সরকার বলছে, ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে বড় বিনিয়োগ দরকার।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “বিনিয়োগ ছাড়া প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। তাই বড় উন্নয়ন বাজেট নেওয়া হয়েছে।”

তবে অর্থনীতিবিদদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, বাস্তব সক্ষমতার তুলনায় এই বাজেট অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী। কারণ গত কয়েক বছর ধরেই উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ বাস্তবায়ন হয়নি। একইভাবে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রাও ধারাবাহিকভাবে অপূর্ণ থেকেছে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য প্রশ্ন তুলেছেন—“আগামী বাজেট বাস্তবসম্মত হচ্ছে, নাকি অলৌকিক প্রক্কলন?” তার মতে, যখন বাস্তবায়ন সক্ষমতা দুর্বল, তখন অতিরিক্ত উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা অর্থনীতিকে আরও চাপের মুখে ফেলতে পারে।

পরিচালন ব্যয় বাড়ছে, উন্নয়ন ব্যয়ে কার্যকারিতা কম

বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, সরকারের পরিচালন ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, ঋণের সুদ, ভর্তুকি ও প্রশাসনিক ব্যয় ক্রমেই ফুলে উঠছে। অন্যদিকে উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ সময়মতো বাস্তবায়িত হচ্ছে না। বহু প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতায় আটকে যাচ্ছে, ব্যয় বাড়ছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

অর্থনীতিবিদ এম মাসরুর রিয়াজের মতে, “শুধু বড় বাজেট নিলেই হবে না, ব্যয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পরিচালন ব্যয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ জরুরি।” তার মতে, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি, সময়ক্ষেপণ ও ব্যয় বৃদ্ধি বন্ধ করা না গেলে বড় বাজেটের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।

কৃষি থেকে প্রযুক্তি: সবখানেই করের চাপ

সূত্রগুলো বলছে, আগামী বাজেটে কৃষিপণ্য আমদানি, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ, ফল, ভোগ্যপণ্যের কাঁচামালসহ বিভিন্ন খাতে কর বাড়তে পারে। এতে খাদ্যদ্রব্য থেকে প্রযুক্তিপণ্য—সব ক্ষেত্রেই দাম বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একইসঙ্গে রফতানি প্রণোদনার বিপরীতে উৎসে কর বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার ও প্রযুক্তিপণ্যের ওপর কর বাড়লে ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অপরদিকে কৃষি খাত সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, কৃষি উপকরণ ও কাঁচামালের দাম বাড়লে তার প্রভাব খাদ্য উৎপাদনেও পড়বে।

এবার কর নজরদারিতে অভিজাত এলাকা

তবে এবারের বাজেটে শুধু সাধারণ মানুষের ওপর কর চাপানোর পরিকল্পনাই থাকছে না, করজাল সম্প্রসারণেও জোর দিচ্ছে সরকার। রাজধানীর গুলশান, বনানী, বারিধারা, ধানমন্ডি ও উত্তরার পাশাপাশি চট্টগ্রামের খুলশীর মতো অভিজাত এলাকায় ডোর-টু-ডোর কর জরিপ চালানোর পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এসব এলাকার বাসিন্দাদের আয়কর নথি, সম্পদ বিবরণী ও জীবনযাত্রার সঙ্গে কর রিটার্নের সামঞ্জস্য যাচাই করা হবে।

বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে “যারা নিয়মিত কর দেয়, চাপ শুধু তাদের ওপরই পড়ে”—এমন অভিযোগ রয়েছে। এবার সেই ভাবমূর্তি বদলাতে চায় এনবিআর।

সরকার সম্পদ কর আদায়েও জোর দিচ্ছে। আগামী অর্থবছরে এ খাত থেকে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ জন্য জমির মৌজা মূল্য বাজারভিত্তিক করার কাজ শুরু হয়েছে। একজন বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, গুলশান-বনানীতে কয়েক হাজার স্কয়ার ফুটের ফ্ল্যাট ও অফিস স্পেসের বিপুল লেনদেনের তুলনায় কর আদায় খুবই কম। এসব লেনদেন কঠোর মনিটরিং করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কর সংস্কারে রাজনৈতিক বাস্তবতা

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারেও কর সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের করব্যবস্থার প্রধান সমস্যা রাজনৈতিক অর্থনীতির কাঠামো। দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ আয়ের ব্যক্তি ও প্রভাবশালী গোষ্ঠীর একটি অংশ করজালের বাইরে থেকে গেছে। ইশতেহারে ডিজিটাল করব্যবস্থা, তথ্য বিনিময়, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা এবং সম্পত্তি কর চালুর মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, প্রকৃত কর সংস্কার করতে হলে শুধু করহার বাড়ালেই হবে না, কর প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে।

শিল্পে প্রণোদনা, নতুন খাতে কর অবকাশ

সূত্রগুলো জানায়, কর্মসংস্থান বাড়াতে নতুন শিল্প খাতে ভিন্ন আঙ্গিকে কর অবকাশ সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এবার এসব সুবিধার সঙ্গে ‘সানসেট ক্লজ’ যুক্ত করা হতে পারে, অর্থাৎ নির্দিষ্ট সময়ের পর সেই সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যাবে।

অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট, কৃষিযন্ত্র, অটোমোবাইল যন্ত্রাংশ, কম্পিউটার হার্ডওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তি, ন্যানোটেকনোলজি, রোবোটিক্স, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং, চামড়াজাত পণ্য, টেক্সটাইল যন্ত্রপাতি ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশসহ বিভিন্ন খাত নতুন করে কর সুবিধার আওতায় আসতে পারে। সরকারের ধারণা, এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়লে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে শিল্পভিত্তি শক্তিশালী হবে।

কিছু স্বস্তির বার্তাও থাকতে পারে

পুরো বাজেট যে কেবল করের চাপ বাড়াবে, তা নয়। স্বাস্থ্য খাতে কিছু ইতিবাচক উদ্যোগের কথাও আলোচনা হচ্ছে। হার্টের রিং (কার্ডিয়াক স্টেন্ট), কিডনি ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম এবং ওষুধের কাঁচামালের ওপর কর কমানোর চিন্তা করছে সরকার। এতে হৃদরোগ ও কিডনি রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমতে পারে।

বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭০ শতাংশের বেশি রোগীদের নিজস্ব পকেট থেকে বহন করতে হয়। ফলে চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অপরদিকে রাজস্ব বাড়াতে তামাক ও অ্যালকোহলজাত পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের সামনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কীভাবে রাজস্ব বাড়ানো হবে, অথচ সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও কঠিন না করে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, করব্যবস্থার মূল সংস্কার ছাড়া এই সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। প্রত্যক্ষ করের পরিধি বাড়ানো, সম্পদ কর কার্যকর করা, কর ফাঁকি ও অর্থপাচার রোধ, ডিজিটাল করব্যবস্থা চালু, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং ধনীদের কার্যকরভাবে করজালের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।

তাছাড়া বাজেট যত বড়ই হোক, তার চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়বে সেই নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর—যারা ইতোমধ্যে মূল্যস্ফীতি, কম আয়, অনিশ্চিত কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ শঙ্কার ভার বহন করছে।