দুর্নীতির অভিযোগ থাকা বিতর্কিত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মিজানুর রশীদকে আবারও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। সেই খবর ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার মুখে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পদোন্নতি বাতিল করা হয়।
মঙ্গলবার (১৮ মে) রাতে পদোন্নতি আদেশ ও পদোন্নতি/পদায়ন বাতিলের বিজ্ঞপ্তিটি এসেছে এশিয়া পোস্টের কাছে।
বিমান বাংলাদেশে এয়ারলাইন্স লিমিটেড প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের/পার্সোনেল শাখার মহাব্যবস্থাপক প্রশাসন মানবসম্পদ খন্দকার বাকী উদ্দিন আহম্মদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল।
ওই আদেশে বলা হয়, বিমান পর্যালোচনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের অনুমোদনক্রমে মোহাম্মদ মিজানুর রশীদকে সোমবার (১৮ মে) থেকে ‘নির্বাহী পরিচালক’ পদে পদোন্নতি প্রদানপূর্বক তাকে ‘পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ)’ পদে পদায়ন করা হলো।
এদিন আবার একই কর্মকর্তার স্বাক্ষরিত আরেক আদেশে পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) পদে পদোন্নতির আদেশ বাতিল করা হয়।
তাতে বলা হয়, জারিকৃত পদোন্নতি/পদায়ন সংক্রান্ত আদেশ কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে বাতিল করা হলো।
এমন ঘটনায় বিমানজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। জানা যায়, সরকারি অর্থে সফটওয়্যার কেনায় প্রায় তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিভাগীয় মামলার মুখে পড়েছিলেন মো. মিজানুর রশীদ। যদিও তিনি সেই মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।
কিন্তু দুদক বিষয়টি নিয়ে এখনও অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। এর মাঝেই মহাব্যবস্থাপক (যানবাহন) হিসেবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় গত ৪ মার্চ মিজানুর রশীদকে বদলি করে অর্থ ও হিসাব বিভাগে নেওয়া হয়।
পরদিন আবার তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাকে প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালকের অতিরিক্ত দায়িত্বও দেওয়া হয়। পাশাপাশি অর্থ বিভাগের পরিচালকের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে, যা মহাব্যবস্থাপকের চেয়ে উচ্চপদ।
অভিযোগ রয়েছে, বিমানের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের এক শক্তিশালী পক্ষের তদবিরেই মিজানুর রশীদ এসব দায়িত্ব পেয়েছেন।