Image description
পলিটিকোর প্রতিবেদন । পতনের দ্বারপ্রান্তে স্টারমার সরকার।

ব্রিটেনের ওয়েস্টমিনস্টারে সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয়, সেখানে নেতৃত্ব নিয়ে চলমান ঘটনাপ্রবাহে এখন কেউ আর বিস্মিত হন না। তাদের কাছে এসবে বিস্ময়ের কিছু নেই। একজন অত্যন্ত অজনপ্রিয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ এবং সাধারণ ভোটারদের জীবনযাত্রার মান ও মানসিক অবস্থার উন্নতি করতে না পারায় নিজ দলের এমপি ও মিত্রদের কাছে প্রত্যাখ্যানের শিকার হয়েছেন। ব্রিটেনে নেতৃত্বের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ আসন্ন।

গতকাল সোমবার পলিটিকোর প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় নিশ্চিতের কয়েক সপ্তাহ পর কিয়ার স্টারমার ভোটারদের কাছে সৎ থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তাঁর পতন এখনই অনিবার্য বলে মনে হচ্ছে। স্টারমারের পতন হলে তিনি হবেন ১০ বছরে ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী।

নেতৃত্বের এ ঘূর্ণিচক্রের সর্বশেষ পালাবদল ব্রিটেনে আত্মবিশ্লেষণের জন্ম দিয়েছে। দেশটি কি এখন কার্যত শাসন করার অযোগ্য? পরিস্থিতি পাল্টে দেওয়ার কোনো জাদুকরি সূত্র আছে কি? সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ঠিক কী এমন ঘটল?

জি৭ অর্থনীতি এবং একসময়ের বিশ্ব আধিপত্যকারী দেশ ব্রিটেন ক্রমশ রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্থবিরতার এক প্রতিচ্ছবিতে পরিণত হচ্ছে। অন্যান্য অনেক দেশের মতো এটিও যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়ার মতো বৃহত্তর অর্থনৈতিক বা সামরিক শক্তিগুলোর বয়ে আসা হাওয়ায় বিপর্যস্ত। পাশাপাশি এর নিজস্ব কিছু সমস্যাও রয়েছে।

স্টারমারের পর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের মতো নেতারা। কিন্তু একটি বিষয় স্পষ্ট– যিনিই এ দায়িত্ব পালন করুন না কেন, তিনিও স্টারমারের মতো কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে পারেন।

অথচ ব্রিটেনে চিরকাল এমনটা ছিল না। স্টারমারের আগে লেবার পার্টির সর্বশেষ যে প্রধানমন্ত্রী বড় ব্যবধানে জয়ী হন, তিনি টনি ব্লেয়ার। ১৯৯৭ সালে তিনি ক্ষমতায় আসেন। ব্লেয়ার ১০ বছর ব্রিটেনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তবে ব্লেয়ারের বিরুদ্ধে ইরাক যুদ্ধে অংশ নিয়ে নিরপরাধ মানুষ হত্যার অভিযোগ রয়েছে। স্টারমার এ পথে হাঁটেননি। তিনি ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গী হননি।

প্রায় তিন দশক পর স্টারমার এমন একটি দেশের দায়িত্ব পেয়েছেন, যা ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের অর্থনৈতিক ধাক্কা থেকে কখনোই পুরোপুরি সেরে ওঠেনি; রাশিয়ার হুমকির মুখে রয়েছে এবং এখন তার জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমদানির ওপর নির্ভরশীল।

যুক্তরাজ্যের রাজধানী লন্ডনের বাইরের অনেক সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ক্ষোভ রয়েছে, তার কোনো স্থায়ী প্রতিকার মেলেনি। এ সম্প্রদায়ের মানুষ কয়েক দশক ধরে দেখেছে, বিশ্ব অর্থনীতি চীন ও অন্যান্য উদীয়মান শক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ায় ঐতিহ্যবাহী উৎপাদনমূলক কাজগুলো অনিবার্যভাবে বিদেশে চলে গেছে।

গোল্ডম্যান স্যাকসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এবং সাবেক ট্রেজারি মন্ত্রী জিম ও’নিল বলেন, ‘১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে শেষভাগ পর্যন্ত, ১৯৯০-এর দশকজুড়ে ও ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক ধস পর্যন্ত আমাদের একটি অবিশ্বাস্য সময় কেটেছিল। তিনিই ‘ব্রিকস’ শব্দটি তৈরি করেছিলেন। এটি সেই অর্থনৈতিক শক্তিগুলোর জোট, যারা পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করেছে।

ও’নিলের যুক্তি, ব্রিকস গঠনের মধ্য দিয়েই সবকিছু বদলে যায়। তিনি বলেন, ‘আর্থিক সংকটের পর থেকে দেশের উৎপাদনশীলতার অবস্থা ভয়াবহ। কারণ হলো, প্রকৃত মজুরি বৃদ্ধির অভাব ও এটি উৎপাদন খাতের ঐতিহাসিক পতনের ফলে পিছিয়ে পড়া মানুষদের অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে তোলে।’

থিঙ্কট্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট ফর ফিস্কাল স্টাডিজের সাবেক পরিচালক পল জনসন গত মাসে দ্য টাইমসে এক নিবন্ধে বলেন, ব্রিটেনের সমস্যার কেন্দ্রে রয়েছে কম প্রবৃদ্ধি ও আয় বৈষম্য, বিশেষ করে রাজধানী লন্ডন ও দেশের বাকি অংশের মধ্যে বৈষম্য বিদ্যমান।