Image description

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা যখন বড় সংঘাতের দিকে গড়াচ্ছিল, তখন ইরানে পরিকল্পিত সামরিক হামলা আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি অনুরোধের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।

‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং ইউএই প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান তাকে পরিকল্পিত হামলা স্থগিত রাখতে অনুরোধ করেন। তাদের মতে, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে “গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা” চলায় এই মুহূর্তে সামরিক পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।

তিনি লেখেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত রাখার লক্ষ্যেই সম্ভাব্য চুক্তি এগোচ্ছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র “পূর্ণমাত্রার বড় সামরিক অভিযান” চালাতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও সতর্ক করেন ট্রাম্প। এ জন্য শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বকে প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ট্রাম্প বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা দীর্ঘদিন ধরে ইরান ইস্যুতে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করছেন এবং এবার তারা সরাসরি যুদ্ধ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন।

এদিকে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, ইসলামাবাদ একটি সংশোধিত ১৪ দফা ইরানি শান্তি প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

তবে দুই দেশের মধ্যে মূল বিরোধ এখনও অমীমাংসিত। যুক্তরাষ্ট্র সীমিত পারমাণবিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক নজরদারিতে রাখার পক্ষে কিছুটা নমনীয়তা দেখালেও নিষেধাজ্ঞা, জব্দ অর্থ ফেরত ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে মতপার্থক্য রয়ে গেছে। অন্যদিকে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার ছাড়তে নারাজ।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক অবস্থান অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আপাতত কূটনৈতিক পথকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, তবে সামরিক প্রস্তুতিও বজায় রাখা হয়েছে। ফলে পরিস্থিতি শান্তির দিকে যাচ্ছে নাকি সাময়িক বিরতির মধ্য দিয়ে নতুন সংঘাতের প্রস্তুতি চলছে—তা এখনও অনিশ্চিত।