Image description

বাংলাদেশে ক্রমাগত বাড়তে থাকা চিকিৎসা ব্যয় নিয়ন্ত্রণে আনতে আগামী জাতীয় বাজেটে বড় ধরনের নীতিগত ছাড় দেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। চিকিৎসা, ওষুধ ও রোগ নির্ণয় (ডায়াগনস্টিকস) এর উচ্চ ব্যয় অনেক পরিবারকে আর্থিক অনটনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে যা জরুরি স্বাস্থ্য উপকরণগুলোর ওপর কর ছাড় দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তাই সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চিকিৎসা ব্যয় আনতে আগামী জাতীয় বাজেটে হার্টের রিং (কার্ডিয়াক স্টেন্ট), ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম এবং ওষুধের কাঁচামালের ওপর কর কমানো হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে, দেশের স্বাস্থ্য খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং সাধারণ মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ কমানোর লক্ষ্যেই আসন্ন বাজেটে এ বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে হৃদরোগের চিকিৎসায় অত্যন্ত জরুরি হার্টের রিং (কার্ডিয়াক স্টেন্ট), কিডনি রোগীদের জীবনরক্ষাকারী ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম এবং দেশীয় ওষুধ শিল্পের বিকাশে অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামালের ওপর বিদ্যমান ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হতে পারে। তবে স্বাস্থ্য খাতের এই বিশাল কর ছাড়ের ফলে সরকারের যে রাজস্ব ক্ষতি হবে, তা পুষিয়ে নিতে এবং অভ্যন্তরীণ আয় বাড়াতে সরকার বিকল্প উৎসের ওপর জোর দিচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো জানিয়েছে, হৃদরোগের চিকিৎসা ব্যয় কমাতে বাজেটে করোনারি স্টেন্ট বা হার্টের রিং সরবরাহের ওপর বিদ্যমান ১০ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) প্রত্যাহার করা হতে পারে। কিডনি ডায়ালাইসিস সরঞ্জাম আমদানির ওপর থাকা সাড়ে ৭ শতাংশ অগ্রিম কর তুলে নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করছে সরকার।

এ ছাড়া বর্তমানে শুল্কমুক্ত তালিকায় না থাকা বেশ কয়েকটি জীবন রক্ষাকারী ওষুধকে কর ছাড়ের আওতায় আনার কথা ভাবা হচ্ছে। দেশীয় ওষুধ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল ‘অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস’ (এপিআই) উৎপাদনে বিনিয়োগ আকর্ষণে নতুন কর প্রণোদনাও ঘোষণা করা হতে পারে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ওষুধের সুনির্দিষ্ট কিছু কাঁচামাল আমদানির ওপর শুল্ক কমানো হতে পারে। সেই সঙ্গে অ্যাক্টিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে সম্ভাব্য কর ছাড় দেওয়া হতে পারে। এর আগে মার্চ ও এপ্রিলে প্রাক-বাজেট সভায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আগামী অর্থবছরের বাজেট কাঠামোতে স্বাস্থ্য খাত সুনির্দিষ্ট কিছু কর ছাড় পেতে পারে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) কর্তৃক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ডায়ালাইসিস করা রোগীদের প্রতি মাসে গড়ে ৪৬ হাজার টাকারও বেশি খরচ হয়, যার ফলে ৯৩ শতাংশ পরিবারই আর্থিক সমস্যায় পড়ছে।