Image description

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় তিন দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে চলমান আন্দোলন স্থগিত করেছেন শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়ে অবরোধ করেন। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এ অবরোধ অব্যাহত ছিল। অবরোধ চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্যবৃন্দসহ প্রশাসনিক অনেক কর্তা-ব্যক্তিরা তাদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি। এ সময় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এ বি এম আজিজুর রহমান বিকালে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বেশ কিছু দাবি নিয়ে সকালে রেজিস্ট্রার ভবনে তালা লাগিয়ে দিয়েছেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভেতরে অবস্থান করছিলেন।”

সন্ধ্যায় উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে যান। এ সময় তিনি বলেন, 'শিক্ষার্থীদের আন্দোলন যৌক্তিক। আমরা আমাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারিনি।' পরে আন্দোলনকারীদের পক্ষে প্রতিনিধি নাজিহা বিনতে শামসুদ্দিন বলেন, আগামী ২০ মে অফিস চলাকালে তদন্ত প্রতিবেদন শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপন করতে হবে এবং অভিযুক্তকে ওই দিনের মধ্যে শনাক্ত করতে হবে।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে  উপাচার্য বলেন, 'আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া সম্ভব নয়। এতে তদন্ত কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে না। তবুও আমি তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে দেখবো।'

পরে রেজিস্ট্রার ভবনের তালা খুলে দেন আন্দোলনকারীরা। তবে এ সময় রেজিস্ট্রার ভবনের তালা খুললেও প্রক্টর কার্যালয়ের তালা খোলেননি আন্দোলনরতরা।

এদিকে, ক্যাম্পাসে পৃথক কয়েকটি ঘটনায় ৩ জনকে আটক করা হয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। রাত ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কার্যালয় থেকে ওই তিন জনকে  পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আশুলিয়া থানা পুলিশ জানায়, ইসলামনগর গেট এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও অশালীন কথা বলার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সন্ধ্যায় প্রক্টর অফিসের সামনে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও ধারণের অভিযোগে ক্যাম্পাসের এক দোকান কর্মচারীসহ মোট তিন জনকে আটক করা হয়েছে।

গত ১৩ মে ভোর রাতে অভিযুক্তকে আটকের দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন শিক্ষার্থীরা। সেই সময় দাবি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে বিক্ষোভ মিছিল, উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান, প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা এবং প্রক্টর কার্যালয়ে তালা দেওয়ার মতো কর্মসূচি পালন করেন তারা।