কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে একই সম্প্রদায়ের আরেকজনের বিরুদ্ধে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর রোববার ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহি (৩৫) বুড়িচং পৌরসভার পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের সন্তান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত জহিরুল ইসলাম আপন ওরফে জহির একই এলাকার বাসিন্দা বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত ১৩ মে সকাল ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সসংলগ্ন সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ড এলাকায় মাহির শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় জহির। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাহির শ্বাসনালিসহ শরীরের প্রায় ৪৪ শতাংশ পুড়ে যায়। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার বিকেলে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়রা জানান, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স এলাকার সরকারি জায়গায় বসবাসরত কয়েকজন তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন। নিহত মাহিও এর আগে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাভোগ করেছিলেন। সম্প্রতি মাদকের টাকার ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এই ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর নিহতের বাবা কামরুল হক ফরহাদ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ইতোমধ্যে একজন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে প্রধান অভিযুক্ত জহির এখনও পলাতক রয়েছেন।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ লুৎফুর রহমান জানান, হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং প্রধান অভিযুক্তকে ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।