Image description

জাতীয় সংসদ-সদস্যদের আবাসনের জন্য নির্ধারিত ন্যাম ভবন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। একে একে উঠতে শুরু করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা। নতুন নির্বাচিত সংসদ-সদস্য ও যাদের ঢাকায় নিজস্ব কোনো বাড়ি নেই, তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে ফ্ল্যাট বরাদ্দের ক্ষেত্রে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় ২৬৫টি ফ্ল্যাটের মধ্যে প্রথমদফায় ২১৫টি ফ্ল্যাট সংসদ-সদস্যদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরপর বাকি ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে সংরক্ষিত নারী আসনে সম্প্রতি নির্বাচিত সদস্যদের নামে। সংসদ সচিবালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সংসদ-সদস্যদের জন্য বরাদ্দ ছয়টি ভবনে মোট ২১৬টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ভবনে রয়েছে ১২০০ বর্গফুটের ১০৮টি ফ্ল্যাট। বাকি তিনটি ভবনের ১০৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে ১৬৫০ বর্গফুটের। সংসদ-সদস্যদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ছিল ১৬৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটগুলোর। এর বাইরে নাখালপাড়ায় ন্যাম ভবনে আরও ৪৯টি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে সেগুলোতে থাকতে খুব একটা আগ্রহী নন সংসদ-সদস্যরা। এ অবস্থার মধ্যেই সমন্বয় করে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়ার কাজটি সম্পন্ন করেছে সংসদ কমিটি। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এই কমিটির সভাপতি।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজাম রোববার যুগান্তরকে বলেন, ইতোমধ্যে সংসদ-সদস্যদের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দের কাজ শেষ করা হয়েছে। যারা সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন কিংবা যারা ইতোমধ্যে সরকারি বাংলো বরাদ্দ নিয়েছেন, তারা বাদে অধিকাংশ সংসদ-সদস্যের নামে ফ্ল্যাট বরাদ্দ সম্পন্ন হয়েছে। অনেকে এসব ফ্ল্যাটে বসবাসও শুরু করেছেন। তিনি আরও বলেন, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থিত সব ভবনের ফ্ল্যাটের সংস্কারকাজ শেষ। নাখালপাড়ার ফ্ল্যাটের কাজ কিছুটা বাকি। ৭ জুন বাজেট অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই বরাদ্দ পাওয়া সংসদ-সদস্যরা তাদের জন্য নির্ধারিত ফ্ল্যাটে উঠতে পারবেন।

এদিকে সংসদ-সদস্যদের আবাসন সংকট সমাধানে শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে আরও দুটি বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এতে ৭২ জন সংসদ-সদস্যের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা যাবে। এর বাইরে নাখালপাড়া এলাকায়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পাশে আরও দুটি ভবন সংসদ-সদস্যদের জন্য ব্যবহার হচ্ছে। তবে সংসদ-সদস্যদের বড় অংশই সংসদ ভবন এলাকা ছেড়ে নাখালপাড়ার ‘সংসদ-সদস্য ভবনে’ বসবাসে অনীহা প্রকাশ করায় নতুন দুটি ভবন নির্মাণের বিষয়টি বিবেচনায় আনা হয়েছে।

জানা গেছে, সম্প্রতি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এ সময় মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পশ্চিম পাশে, যেখানে কৃষিবাজার রয়েছে, সেখানে দুটি ভবন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিষয়ে আলোচনা হয়। নারী আসনসহ বর্তমান সংসদের সদস্য সংখ্যা ৩৫০ জন। বর্তমানে সংসদ-সদস্যদের জন্য মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও নাখালপাড়ায় ২৬৫টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এছাড়া সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্য, স্পিকার-ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ ও হুইপদের জন্যও আলাদা আবাসনের ব্যবস্থা রয়েছে। মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ২৪টি বাংলোবাড়ি ও ১২টি অ্যাপার্টমেন্ট নির্ধারিত রয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ন্যাম ভবনগুলোর সংস্কারকাজ প্রায় শেষ ও সেখানে ইতোমধ্যে অনেক সংসদ-সদস্য উঠে গেছেন। তবে নাখালপাড়া সংসদ-সদস্য ভবনের সংস্কারকাজ কিছুটা বাকি রয়েছে। বিশেষ করে নাখালপাড়া ন্যাম ফ্ল্যাটের পুরোনো পাইপলাইন পরিবর্তন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও লিফট সংস্কারের কাজ শেষ করতে অতিরিক্ত সময়ের প্রয়োজন হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ন্যাম ভবনের বেশির ভাগ ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র ভেঙে ফেলা ও লুটপাট করা হয়। সংসদ নির্বাচনের পরপরই নতুন সংসদ-সদস্যদের আবাসন হিসাবে পরিচিত ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে সংস্কারকাজ শুরু হয়। সংসদ কমিটির নির্দেশনার পর এগুলো বসবাসের উপযোগী করে তোলার কাজে হাত দেওয়া হয়। এরই মধ্যে বৈদ্যুতিক লাইন সংস্কার, নতুন বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, এয়ারকন্ডিশনার বসানো, রঙ করা, নতুন পর্দা লাগানো, নতুন খাট, সোফা, ডাইনিং টেবিল, আলমারি, লিফট মেরামত, পানির সংযোগ পুনর্বিন্যাসের কাজ শেষ করা হয়েছে। বাথরুমের কল, স্যানিটারি লাইন ও পানির সংযোগে অকেজো যন্ত্রাংশ সরিয়ে বসানো হচ্ছে নতুন ফিটিংস। আলোকসজ্জা, সুইচ, ফ্যানসহ সব ধরনের ইলেকট্রিক্যাল ফিটিংসের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর বাইরে এবার সংসদ-সদস্যদের আবাসনে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ফ্ল্যাটে নতুন এয়ারকন্ডিশনার, আধুনিক কিচেন ব্যবস্থা ও উন্নত ইন্টারনেট সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে প্রথমবারের মতো বসানো হয়েছে ডিজিটাল স্ক্যানিং ব্যবস্থা ও স্মার্ট অ্যাক্সেস সিস্টেম, যেখানে নির্ধারিত কার্ড ছাড়া বহিরাগত কেউ ভবনে প্রবেশ করতে পারবেন না। এছাড়া পুরো এলাকা নতুন সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।