জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সাত সদস্যের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযুক্তকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা সাময়িকভাবে অবরোধ কর্মসূচি স্থগিত করেছেন।
রোববার (১৭ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন অবরোধকারী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশাসনের আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত আসে।
এর আগে, শনিবার (১৬ মে) উপাচার্য ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক জরুরি প্রশাসনিক সভায় তদন্ত কমিটি গঠনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মোহাম্মদ মহিউদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানাকে সভাপতি করে গঠিত এই কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- অধ্যাপক ড. নাহিদ আখতার, অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, অধ্যাপক ড. নাসরীন সুলতানা, অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান, অধ্যাপক মো. জহির রায়হান এবং সদস্যসচিব হিসেবে আছেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার লুৎফর রহমান আরিফ।
এদিকে, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। শনিবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় ওই ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করতে জনসাধারণের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১২ মে রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ফজিলাতুন্নেছা হল-সংলগ্ন রাস্তায় এক ছাত্রীকে টেনেহিঁচড়ে অন্ধকারে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। পরদিন আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে অপরাধী গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তারা ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে প্রক্টরিয়াল টিমের পদত্যাগসহ ছয় দফা দাবিতে দফায় দফায় বিক্ষোভ ও উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করেন।
প্রশাসনের নতুন আশ্বাসের পর ক্যাম্পাসে দৃশ্যত অবরোধ তুলে নেওয়া হলেও শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, অপরাধী গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তারা গভীর নজরদারি রাখবেন।
শীর্ষনিউজ