‘আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে’। বাস্তব কিংবা নাটক-সিনেমায় এমন ডায়লগ আমরা হর-হামেশাই শুনি। বাস্তবে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলে কি ? সত্যিকারার্থে আইনের কি কোনো ‘গতি’ আছে ? একই আইন, একেক জনের কাছে একেক ব্যাখ্যা। ব্যক্তি, বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী, আসামি ভেদে এক আইনের ভিন্ন ভিন্ন ইন্টারপ্রিটেশন। আইনের নিজস্ব কোনো গতি নেই। এটিকে ‘গতি’ দেয়া হয়। দরিদ্র বিচারপ্রার্থী উচ্চ ফি দিয়ে নাম-যশ ওয়ালা আইনজীবী ধরতে না পারলে তার কাছে ‘আইনের গতি’ এক রকম। চিহ্নিত, দুর্নীতিবাজ তার অপরাধলব্ধ অর্থে লাখ লাখ টাকা ফি দিয়ে ‘ফেসভ্যালু’ সম্পন্ন নামী-দামী আইনজীবীদের নিজের পক্ষে আদালতে ‘দাঁড়’ করিয়ে দিতে পারলে ‘আইনের গতি’ আরেক রকম। আইনের ‘গতি’র যদি তারতম্যই না থাকতো, তাহলে ‘ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে না’ মর্মে যুক্তি দিয়ে বেঞ্চ পরিবর্তনের ঘটনা ঘটতো না। থাকতো না আদালতের ওপর বিচারপ্রার্থীর পক্ষে ‘অনাস্থা’ জ্ঞাপনের মতো কোনো বিষয়।
চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদ-প্রাপ্ত শেখ হাসিনা ‘বিচার’কে প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ারে পরিণত করেছিলেন। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত অনুগত করে রেখেছিলেন বিচার বিভাগকে। বিচারকদের দেশান্তরীর মাধ্যমে ভীতির সঞ্চার করে বিচারাঙ্গনকে নিয়ে গিয়েছিলেন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। রায় দেয়া হতো ফরমায়েশি। ফরমায়েশি রায়ের মাধ্যমে হাসিনার মনোরঞ্জনকারী বিচারকগণ পরবর্তীতে পুরস্কৃত হয়েছেন। পুরস্কারের লোভে বিচারকগণও হয়ে ওঠেন আওয়ামীকর্মীর মতো। নির্মম, নিষ্ঠুর। বিনা বিচারে আটক রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ডা-াবেড়ি পরানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
‘গায়েবি মামলা’য় কারাদ- দিয়েছেন, রাতের অন্ধকারে আদালত বসিয়ে। বিদ্যুৎ চলে গেলে ‘রায়’ দিয়েছেন মোমবাতি জ্বালিয়ে। যদিও সেইসব ‘শপথবদ্ধ রাজনীতিবিদ’-বিচারকদের এখনো আইনের আওতায় আনা হয়নি।
বিরোধীপক্ষকে দমন-নিপীড়নের জন্য প্রণয়ন করেন ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’। আইনটির ব্যাপক অপব্যবহারে নিপীড়নের শিকার হন দৈনিক ইনকিলাবের সম্পাদক, সাংবাদিক। কারাভোগসহ নির্যাতন-নিপীড়ন ও বহুমাত্রিক হয়রানির শিকার হয়েছেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক শফিক রেহমান, নিউনেশন সম্পাদক ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সংগ্রাম সম্পাদক আবুল আসাদ, আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিশ্ববরেণ্য আলোকচিত্রী ও মানবাধিকারকর্মী ড. শহীদুল আলম,একুশে টিভি’র ড. কনক সারোয়ার,ফটো সাংবাদিক শফিকুল ইসলাম কাজলসহ বহু সম্পাদক-সাংবাদিক,সংবাদকর্মী। হাসিনার অনুগত বিচারকরা তখন ন্যায় বিচারতো দূরের কথা-কতভাবে তাদের কারানির্যাতন দীর্ঘায়িত করা যায়- সেই প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন। সেই সঙ্গে এখন যারা ‘সাংবাদিক’ নামধারী ফ্যাসিস্ট হাসিনার দোসর হিসেবে কারাগারে আছেন কিংবা কারামুক্তির পথে রয়েছেন, তারা ওই সময় নিপীড়িত সম্পাদক-সাংবাদিক-সংবাদকর্মীদের নিয়ে ইয়ার্কি, ঠাট্টা-তামাশায় মেতেছিলেন।
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কত তরুণকে ‘জঙ্গি’ তকমা দিয়ে নির্বিচার হত্যা করা হয়েছে তার ইয়ত্তা নেই। হাসিনার অনুগত বিচারকরা বিচার বহির্ভূত এসব নির্মম হত্যাকা-ের বিষয়ে তাদের কোনো রায়ের পর্যবেক্ষণেও ‘টুঁ’ শব্দ করেননি।
এমন এক বিভীষিকাময় ‘হাসিনা-অধ্যায়’ পেরিয়ে মানুষ যখন গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার পেলো- তখনই তার কাছে একসঙ্গে মেলে ধরা হচ্ছে প্রত্যাশার সব ঢালি। বিচার বিভাগের কাছে এখন ছহি ‘নিরপেক্ষতা’ চাই ! ‘মানবাধিকার’ চাই ! ‘ন্যায় বিচার’ চাই ! হাসিনার দীর্ঘ ফ্যাসিজমের দোসরদেরও নাকি বিচার করা যাবে না ! তাদের কেন ‘অকারণ’ কারাগারে রাখা হয়েছে- সরকারকে সেই প্রশ্নের জবাব দিতে হচ্ছে এখনই। জামিন নিশ্চিত করতে ট্রাইব্যুনাল এবং আদালতে তাদের সেকী ড্রামা! আবেগকে ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করে প্রভাবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন আদালতকে। চাতুর্যের সঙ্গে প্রকারান্তে এটিও বোঝাতে চাইছে, বিএনপি সরকার কতটা নিষ্ঠুর! কারণ, বিশেষ শ্রেণীর চিহ্নিত মিডিয়াগুলোও যথারীতি আওয়ামী-দরদে উথলে উঠে রঙ-রস মিশিয়ে প্রচার করছে সেই দৃশ্য। কোলকাতার মলম বিক্রেতা ‘সাংঘাতিক’দের কল্যাণে সেই ছবি,সংবাদ এবং ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ছে সারা বিশ্বে।
গত ২৬ এপ্রিলের ঘটনা। চব্বিশের মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় ডা: দীপুমণিসহ ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের ৯ মন্ত্রী, উপদেষ্টা, এমপি ও আমলাদের। বেলা ১২টার একটু আগে। সকল নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে হুইল চেয়ার ঠেলে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে হাজির করা হয় গুরুতর অসুস্থ, প্যারালাইজড ও এ মুহূর্তে অসহায় একজন রোগীকে। জানাগেলো, তিনি দীপুমণির স্বামী তৌফিক নেওয়াজ। কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে ধরাধরি করে এজলাসের ভেতর নিয়ে যান। ট্রাইব্যুনালের সামনে নির্বিকার তৌফিক নেওয়াজকে হাজির করা হয়। পরে দীপুমণির আইনজীবী তৌফিক নেওয়াজকে দীপুমণির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি চান। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি সাপেক্ষে হাজতখানায় ডা: দীপুমণির সঙ্গে সাক্ষাত করেন তৌফিক নেওয়াজ।
এই দম্পতির ওই দিন কী কথোপকথন হয়েছেÑ মিডিয়ায় সেটি আসেনি। তবে যে উদ্দেশ্যে দীপুমণি তার স্বামীকে ট্রাইব্যুনালে আনার ব্যবস্থা করেছেন, সেই উদ্দেশ্য হাসিল হয়েছে ষোলোআনাই। দীপুমণি ওই দিন জামিন প্রার্থনা করেন। তার আইনজীবী ট্রাইব্যুনালকে বলেন, দীপুমণি কারাবন্দী রয়েছেন ১ বছর ৫ মাস। এখনো তার বিরুদ্ধে কোনো তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। তার স্বামী গুরুতর অসুস্থ। এ অবস্থায় তার জামিন প্রয়োজন। যদিও ট্রাইব্যুনাল ওই আবেদন নামঞ্জুর করেছেন। সেইসঙ্গে দীপুমণির বিষয়ে চলমান তদন্তের ‘অগ্রগতি প্রতিবেদন’ দাখিলের তারিখ ধার্য করেন আগামী ২৬ জুলাই। ওইদিন ট্রাইব্যুনাল তার জামিন আবেদন শুনবেন-মর্মে জানান তার আইনজীবী।
লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে, অসুস্থ একজন ব্যক্তিকে ক্যামেরার সামনে হাজির করে অতঃপর জামিন আবেদন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দীপুমণির জামিন-আবদারের পক্ষে এক ধরনের মানবিক যৌক্তিতা সৃষ্টি। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, তৌফিক নেওয়াজ দীপুমণি মন্ত্রী থাকার সময় থেকেই গুরুতর অসুস্থ, শয্যাশায়ী। কিন্তু ওই সময় তিনি অসুস্থ স্বামীর পাশে কদ্দিন ছিলেন-তার পরিবার সংশ্লিষ্ট, কাছের মানুষরাই জানেন। তবে দেশের মানুষ নিশ্চয়ই ভুলে যায়নি যে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মন্ত্রী থাকাকালে দীপুমণি ১৮৭টি দেশ ভ্রমণ করেছেন। ৫১৭ দিন দেশের বাইরে কাটিয়েছেন। ওই সফরগুলোতে তৌফিক নেওয়াজ সফরসঙ্গী ছিলেন বলে জানা যায় না। সর্বশেষ ২০২৪ সালের আমি-ডামি নির্বাচনে দীপুমণিকে করা হয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। স্বামীর সেবা-শুশ্রƒষার জন্য তিনি কোনো ছুটি নিয়েছেন বলে জানা যায় না। মন্ত্রী থাকাকালে স্বামীর শয্যাপাশে তিনি কতক্ষণ সময় কাটিয়েছেন- সেটি তার স্বজনরাই জানেন। কিন্তু কারাজীবনে দীপুমণির প্রদর্শিত আকস্মিক ‘পতিভক্তি’ এক ঢিলে বহু পাখি মারার চেষ্টা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একদিকে এটি জামিন প্রার্থনার পক্ষে সহমর্মিতা-ঢাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। অন্যদিকে মিডিয়ার হাতে একটি ‘মানবিক স্টোরি’র ফুটেজ তুলে দেয়া হয়েছে। যা দীপুমণির অপরাধকে ছাপিয়ে উল্টো রাজনৈতিক ‘ভিকটিম’ হিসেবে প্রতিপন্ন করা হয়েছে। ভাবটা এমন যে, দীপুমণি কোনো অপরাধই করেননি। যেন সরকার তাকে প্রতিহিংসামূলকভাবে জেলখানায় আটকে রেখেছে।
অভিন্ন ইনটেনশন লক্ষ্য করা যায় মানবতাবিরোধী অন্য আসামিদের ক্ষেত্রেও। ফ্যাসিবাদের দোসর, তৎকালীন আওয়ামী মন্ত্রী লাঠি নিয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছেন- এমন ফুটেজ বারবার দেখানো হচ্ছে বিশেষতঃ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায়। অথচ গত ৩০ এপ্রিল তিনি ঘটালেন কী এক অদ্ভুত কা-। দেড় বছর কারাগারে থেকে সিঙ্গাপুর চিকিৎসা গ্রহণের প্রেসক্রিপশন দেখিয়েছেন কামরুল। আদালতকে দেখিয়েছেন নিজ সংসদীয় এলাকা কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাগজপত্র। ‘গ্যাস্ট্রিক ক্যান্সার’র কথা বলে চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন এভারকেয়ারে। সন্দেহ হওয়ায় প্রবল আপত্তি তোলেন চীফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, পিজি হাসপাতালের পরিবর্তে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার অনুমতি চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলেন আসামিপক্ষ। এ প্রেক্ষিতে গত ৯ এপ্রিল একটি আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। আদেশ পর্যালোচনা করতে গিয়ে প্রসিকিউশনের চোখে গুরুতর অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এভারকেয়ারে কোনো প্রিজন সেল নেই। এছাড়া আসামি (কামরুল ইসলাম) চলতি বছর ১২ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি দুটি মেডিকেল রিপোর্ট জমা দেন আসামিপক্ষ, যা সন্দেহজনক বলে মনে হয়েছে। কারণ, ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে কারাগারে রয়েছেন কামরুল ইসলাম। এ অবস্থায় ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছাড়া তিনি কীভাবে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে এসব প্রতিবেদন সংগ্রহ করেছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তিনি বলছিলেন, একটি কাগজে ‘গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার’ উল্লেখ রয়েছে। যা চিকিৎসা বিজ্ঞানে প্রচলিত নির্দিষ্ট কোনো রোগের নাম নয়। একটি প্রত্যন্ত এলাকার আরেকটি প্রতিবেদন আনা হয়েছে সিঙ্গাপুর থেকে। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি ছাড়া এটি কী করে সম্ভব?
হাসিনা অনুগত ঘৃণ্য প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে কেন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে- এ প্রশ্নের মুখোমুখিও করা হচ্ছে সরকারকে। আওয়ামী মতলবী কথিত মানবতাবাদীরা এখন খায়রুল হকেরও ‘ন্যায় বিচার’ চান। তিনি নাকি কোনো হত্যাকা-ের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নন! যদিও বাস্তবতা হচ্ছে, হাসিনাকে দানবে পরিণত করেছে তারই দেয়া ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত’করণ সংক্রান্ত বহুল বিতর্কিত রায়। এ রায়ই দেশে আগুন জ্বালিয়েছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানকে অনিবার্য করে তুলেছে। তাকে কারাগারে রাখাই যদি ‘অন্যায্য’ হয়- তাহলেতো শেখ হাসিনার কোনো অপরাধই নেই! নিজে সরাসরি সাধারণ ছাত্র-জনতার ওপর কোনো গুলি করেননি- এমন দাবি শেখ হাসিনাও করতে পারেন। ‘সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি’ বলেও আইনি শাসন ব্যবস্থায় থাকতো না।
হাসিনার ফ্যাসিবাদের দোসর, তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। গত ২৮ এপ্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় তাকে। ওইদিন তার সঙ্গে সাক্ষাতে আসেন ইনুর স্ত্রী আফরোজা হক রীনা। মিডিয়াগুলো তার চিন্তিত, করুণ মলিন বদনের ফুটেজ নিলো ক্যামেরা ভরে। পরে সেটি ছড়িয়ে যায় মূল ধারার মিডিয়া থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
আ’লীগ নেত্রী সেলিনা হায়াত আইভি জামিন পেলেও কেন নতুন মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে রাখা হচ্ছে- এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হচ্ছে সরকারকে। একইভাবে ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত মহাসমাবেশে সংঘটিত মাদরাসা ছাত্র ও আলেমদের ওপর সংঘটিত গণহত্যা মামলার আসামি ফারজানা রূপাকে কেন এখনো কারাগারে রাখা হচ্ছে- উত্তর দিতে হচ্ছে এ প্রশ্নেরও। বিচার বিভাগ কিংবা সরকারের কাছ থেকে কী অদ্ভুত আবদার! এখন বিচার বিভাগ থেকে ‘ন্যায় বিচার’ চাওয়া হচ্ছে। যে দলটিকে হিংস্র হাসিনা নিশ্চিহ্ন করে দিতে চেয়েছিলেন, সেই দলীয় সরকারের কাছ থেকে হাসিনা এবং তার দোসরদের বিষয়ে ‘অহিংস’ আচরণ প্রত্যাশা করছে। সুশাসন, বিচার ব্যবস্থা এবং অর্থনীতিকে নির্বাসনে পাঠানো হাসিনার ল্যাসপেন্সারদের সকল প্রত্যাশা এখন তারেক রহমান নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে। তিনটি অবৈধ নির্বাচনের গঠিত সংসদের স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরীর জামিন, ফ্যাসিবাদী চেতনার ‘সাংবাদিক’ আনিস আলমগীরের জামিন, দেশত্যাগের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া, মুন্নীসাহাকে অদ্যাবধি গ্রেফতার না করার মধ্যে ‘মানবাধিকার কর্মী’র মুখোশ পরা হাসিনার ল্যাসপেন্সাররা কোনো ন্যায় বিচার, কিংবা বর্তমান সরকারের কোনো সুশাসনই দেখছেন না।