Image description

ফারজানা-হেলাল দম্পতির বিয়ের ১১ বছর পর কোলজুড়ে আসে শিশু তাজিম। শিশুটি পৃথিবীতে আসার পর পরিবারটি সবসময় উৎসবমুখর ছিল। কিন্তু আট মাস বয়সী চাঁদপুরের শিশু তাজিম গত ২২ এপ্রিল হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে। নিমিষেই পরিবারটিতে শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৃত সন্তান কোলে ফারজানা-হেলাল দম্পতির সেদিনের বুকফাটা কান্নার ছবি দেখে চোখের পানি আটকাতে পারেনি দেশবাসী। শুধু ফারজানা-হেলাল দম্পতিই নয়; দেশে হামে এ পর্যন্ত ৪৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

শুধু কি হাম! আগামীতে বাংলাদেশ যেন অপুষ্টির দেশ হওয়ার পথে ধাবিত হচ্ছে। বিগত দিনগুলোতে ভিটামিন-এ ক্যাম্পিং হয়নি, শিশুদের কৃষির ওষুধ খাওয়ানো হয়নি এমনকি মায়েদের গভকালীন ফলিত এসিড দেয়া হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যা হয়েছে তা শুধুই কথামালা আর দোষারোপের চর্চা। অন্তর্বর্তী সরকার হামের টিকা দেয়নি; বর্তমান সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী কেবল কথামালা চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতিদিন হামে কয়েকজন করে শিশু মারা যাচ্ছে; অথচ দায়িত্বশীলদের সেদিকে ভ্রƒক্ষেপ নেই। অতীতে বৈশ্বিক মহামারি করোনার সময় প্রথম দিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীলরা এমনই আচরণ করেছেন। এমনকি কয়েক বছর আগে ডেঙ্গুর মহামারির প্রথম দিকে এমন চিত্রই ছিল। গত দেড় মাসে হামে প্রাণ হারিয়েছে ৪৩২ জন শিশু। তারপর সরকারের টনক নড়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে হামে আর কতশত শিশুর মৃত্যু হলে সরকারের টনক নড়বে?

বাংলাদেশে কার্যত হামের মৃত্যু থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১২৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে এবং নতুন করে ভর্তি হয়েছে আরো এক হাজার ৬১৫ জন। দৈনিক হিসাবে মহামারি করোনার সময়েও এত মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। স্বাস্থ্য অধিদফতর জানিয়েছে, গত একদিনে হামের উপসর্গ নিয়ে সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে ময়মনসিংহ বিভাগে দুইজন ছাড়াও ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে হামের উপসর্গে একজন করে মোট দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে সরকারি হিসাবে শুধু গত ৫৮ দিনেই সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত রোগী ৫৩ হাজার ছাড়িয়েছে। এই সময়ে মোট সাত হাজার ১৫০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। গত ৪ মে একদিনে রেকর্ড ১৭ জন শিশু মৃত্যুর খবরও স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ তথ্যের সঙ্গে বাস্তবে অনেকটা অমিল রয়েছে। কারণ হাম ও হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর অনেক তথ্য সারাদেশ থেকে অনেক সময় আসে না। আবার অনেক শিশুই কিছু বোঝার আগেই মারা যাচ্ছে। এসব শিশুর তথ্য নেই স্বাস্থ্য অধিদফতরের কাছে। এদিকে বাংলাদেশের হামের প্রাদুর্ভাবকে অনেক আগেই ‘উচ্চ ঝুঁকি’ সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), যা এক অর্থে মহামারিই। এক সময়ে বাংলাদেশ থেকে যেই হাম পরিপূর্ণভাবে নির্মূল হয়েছিল সেটি এত ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লো কীভাবে সে প্রশ্নও সামনে আসছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হয়নি যথাযথভাবে। ভ্যাকসিনের সংকটে এমন পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে। শতভাগ না হোক অন্তত ৮০ শতাংশও শিশুকেও যদি সঠিকভাবে ভ্যাকসিন দেওয়া হতো তাহলে হয়তো পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছত না। তাদের মতে, হামের টিকার তীব্র সংকট ও ক্রয় সংক্রান্ত জটিলতায় দেশে হামের প্রাদুর্ভাব ও শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বেড়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তাদের রিপোর্টে বলেছে, আক্রান্তদের বড় অংশের টিকা নেওয়া ছিল না। আবার কোনো কোনো শিশু প্রথম ডোজ নিলেও দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। যে কারণে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।

হামে এভাবে প্রতিদিন শিশু মৃত্যুর ঘটনা এবং এই রোগের টিকা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গাফিলতিকে দুষছেন এ খাতের বিশেষজ্ঞরা। যদিও বর্তমান সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব কমাতে এ নিয়ে যথাযথ পদক্ষেপ বিশেষ করে লক্ষণ দেখা দিলে করণীয় বা জনসচেতনতা তৈরিতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা কার্যক্রম নেই বললেই চলে। একই সঙ্গে শিশুদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা বা হাসপাতালগুলোতে বিশেষ তৎপরতা নেই। এমনকি স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে কোনো নির্দেশনাও নেই হাসপাতালগুলোর জন্য।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন মনে করছেন, বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি এতটা জটিল আকার ধারণ করার পেছনে টিকা ছিল বড় কারণ। যে কারণে হাসপাতালগুলোর বাইরেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান এবং বিমানবন্দর ও স্থল বন্দরগুলোতেও কর্মসূচি চালু করা জরুরি।

তিনি বলেন, এখন থেকে যদি কোনো বাচ্চার জ্বর হয় তাহলে আগেই তাকে আইসোলেশনে নেওয়া উচিত। এর পাশাপাশি যারা আক্রান্ত হয়নি তাদেরও ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়াতে হবে। এছাড়া হাম প্রতিরোধে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা রাখার তাগিদ দেন তিনি। সংক্রমণের সংস্পর্শে আসা ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের তিন দিনের মধ্যে হামপ্রতিরোধী টিকা প্রদানসহ টিকা, সিরিঞ্জ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের পর্যাপ্ত মজুদ রাখারও পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

সূত্র মতে, দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন বর্তমানে চলমান রয়েছে। দেশে প্রায় এক কোটি ৮০ লাখ শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। তিনি বলেন, এটি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার প্রায় শতভাগ। প্রথম পর্যায়ের টিকাদানের ফলে শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রতিটি শিশুর জীবন অমূল্য এবং তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। তিনি বলেন, ডব্লিউএইচও’র তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে হামের সংক্রমণ বেড়েছে এবং বাংলাদেশেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দ্রুত ও সমন্বিতভাবে দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

অবশ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সব পৌর এলাকায় হামপ্রতিরোধী টিকার প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজে অন্তত ৯৫ শতাংশ সমান ও টেকসই কভারেজ বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে হাম ও রুবেলা সংক্রমণের ওপর নজরদারি জোরদার করতে বলেছে, যাতে সরকারি, বেসরকারি ও সামাজিক নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সব সন্দেহভাজন রোগী দ্রুত শনাক্ত করা যায়। এ বিষয়টিতে বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদফতরের ঘাটতি উঠে এসেছে।

তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গাফিলতির অভিযোগ মানতে নারাজ তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) প্রফেসর ডা. সায়েদুর রহমান। তার দাবি, হাম নিয়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনো সংস্থা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সতর্ক করেনি। যদিও ইউনিসেফের কর্মকর্তারা বলছেন, বিষয়টি নিয়ে তারা তৎকালীন সরকারকে সতর্ক করেছিলেন। অবশ্য একাধিক বিশেষজ্ঞ ডা. সায়েদুর রহমানের বক্তব্যকে অমূলক বলেছেন। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের একটি সিস্টেম ভেঙেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনিসেফ সতর্কও করেছে। কিন্তু সতর্ক করতে হবে কেন। এটা তো পরিষ্কার বিষয় ছিল শিশুদের জন্য হামের টিকা দেশের স্বার্থে যথাসময়ে প্রয়োজন হবে।

গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিকা কেনার জটিলতা, বিশেষ ক্যাম্পেইন না হওয়ার কারণ, অপারেশন প্ল্যান (ওপি) থেকে সরে আসা এবং হামে রেকর্ড মৃত্যুসহ সামগ্রিক বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. সায়েদুর রহমান। ২০২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে হামের টিকা ক্যাম্পেইন আয়োজন সম্ভব না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আগের দু’টি বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি হয়েছিল ২০১৪ ও ২০২০ সালে, অর্থাৎ মাঝে ছয় বছরের ব্যবধান ছিল। পরবর্তী বিশেষ কর্মসূচি ২০২৪ সালে হওয়ার কথা ছিল। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের প্রেক্ষাপট ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ছয় মাস স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অত্যন্ত জটিল, জরুরি ও সংবেদনশীল অনেক বিষয় মোকাবিলা করতে হয়েছিল। বিশেষ করে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতদের তথ্য যাচাই এবং আহতদের দেশ-বিদেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা-ব্যবস্থাপনার সমন্বয় করতে হয়েছে।

পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হলে ২০২৫ সালের মার্চে বিশেষ হাম কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় এমআর ভ্যাকসিন বরাদ্দ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তপত্র স্বাক্ষর করে ভ্যাকসিন ব্যবস্থাপনার বৈশ্বিক জোট গ্যাভি। তখন ভ্যাকসিনের চালান দুই ধাপে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর এবং ২০২৬ সালের মার্চে দেশে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা হয়। এই পরিকল্পনার বিষয়ে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, সে সময় কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিশেষ হাম কর্মসূচি জরুরি ভিত্তিতে অবিলম্বে শুরু করার মতো কোনো সতর্কতা, বার্তা, লাল সংকেত বা পরামর্শ ছিল না।
ডা. সায়েদুর রহমানের এমন দাবির সঙ্গে অবশ্য একমত নন ইউনিসেফের কর্মকর্তারা। ইউনিসেফের ভারপ্রাপ্ত বাংলাদেশ প্রতিনিধি স্ট্যানলি গুয়াভুইয়া বলেন, ইউনিসেফ একাধিকবার অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেছে। প্রতিটি বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক চিঠির মাধ্যমে টিকার সম্ভাব্য ঘাটতি, রোগের প্রাদুর্ভাব, জটিলতা বৃদ্ধি এবং মৃত্যুহারের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে।

হামে এভাবে শত শত শিশুর মৃত্যুর দায় অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর বর্তায় কি নাÑ এমন প্রশ্নে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, দায় বিষয়ে আলোচনাটা খুব সংবেদনশীল এবং এখন এটি নির্ধারণ করাও জটিল। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হামের প্রাদুর্ভাবের কারণ নির্ণয়ের উদ্দেশ্যে বৈজ্ঞানিক ও প্রশাসনিক ঘটনাবলির বিশ্লেষণ এবং তার ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ।

এদিকে অন্তবর্তী সরকারের সময় হামের টিকার তুলনামূলকভাবে কম কাভারেজ ছিল। ২০২৪ সালে হামের টিকার প্রথম ডোজের কাভারেজ ছিল ৯৭ দশমিক ৯৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজের ৯৬ দশমিক ১৫ শতাংশ। তবে ২০২৫ সালের কাভারেজ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। স্বাস্থ্য সহকারীরা দেশব্যাপী প্রায় তিন মাস টিকাদানের তথ্য নিয়মিত আপলোড করেননি। ফলে ড্যাশবোর্ডে কাভারেজ ৫৯ শতাংশ দেখাচ্ছিল, যা পরে অপসারণ করা হয়। এই গ্যাপের কারণেই হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের মত।

সূত্র মতে, ১৯৯৮ সাল থেকে চলে আসা বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত না করেই ওপি থেকে সরে আসার অভিযোগ রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর। ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে প্রথমবারের মতো সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) টিকা কেনার প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদের অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত কমিটিতে উত্থাপন করা হলে একটি গোষ্ঠীর স্বার্থ হাসিলে কমিটি পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ অনুসরণের কথা জানায়। পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে কমিটি ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে সরাসরি টিকা কেনার অনুমোদন দেয়, যাতে স্বার্থান্বেষী ওই গ্রুপটি লাভবান হতে পারে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ৮৪২ কোটি টাকার টিকা ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনার অনুমতি চাওয়া হলে কমিটি ৫০ শতাংশের অনুমোদন দেয়। বাকি অংশের জন্য উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণের নির্দেশ দেয়। সেই অনুযায়ী নভেম্বরে ৪১৯ কোটি টাকার টিকা ডিপিএম পদ্ধতিতে ইউনিসেফের কাছ থেকে কেনার অনুমোদন পাওয়া যায়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণ থেকে আরো ৬০৯ কোটি টাকার টিকা ডিপিএম পদ্ধতিতে কেনার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে এক হাজার ২৮ কোটি টাকার টিকা কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়। তবে ইউনিসেফের সঙ্গে ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ অর্থবছরের অর্থ সমন্বয় করতে দেরি হওয়ায় বরাদ্দকৃত অর্থ ছাড় করাতেও সময় লাগে। এক কথায় স্বার্থান্বেষী গ্রুপটির স্বার্থের বলি দেশের শিশুরা। এছাড়া ওই সময়ে উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে ধারণা না থাকা এবং একটি গ্রুপের স্বার্থে তিনিও ইউনিসেফ থেকে টিকা ক্রয়ে আগের নিয়ম বাদ দিয়ে দেন। অবশ্য এক্ষেত্রে আগের নিয়ম বাদ দিতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান। দীর্ঘদিন ওপিনির্ভর ব্যবস্থায় থাকলে হঠাৎ করে নতুন প্রস্তাবের বিষয়ে অধিদপ্তর, মন্ত্রণালয় ও দাতা সংস্থাগুলো এটি চূড়ান্ত করতে অনেক সময় নিয়ে নেয়। পরে মন্ত্রিপরিষদ ও একনেকের অনুমোদন পেতেও দেরি হয়, যা সঠিক সময়ে টিকা পেতে অন্যতম প্রতিবন্ধক হিসেবে কাজ করে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমানের এককভাবে হস্তক্ষেপ করে টিকা ক্রয়ে ইউনিসেফের সঙ্গে আগের চুক্তির ধারা থেকে বের হয়ে আসেন।

এদিকে ডিপিএম পদ্ধতিতে বাকি ৫০ শতাংশ টিকা কেনার বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ইউনিসেফ লিখিতভাবে ডিপিএম পদ্ধতি অনুসরণের অনুরোধ করে। ৩০ ডিসেম্বর ডিপিএম সুবিধা ব্যাখ্যা করে ইমেইল পাঠায়। পরের বছর ১১ ফেব্রুয়ারি ডিপিএম ও ওটিএম পদ্ধতিতে সময়ের পার্থক্য তুলে ধরে আবারও যোগাযোগ করে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ইউনিসেফের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাওয়ার পর নির্বাচনকেন্দ্রিক ব্যস্ততার ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয়টি নির্বাচিত সরকারের বিবেচনার জন্য রেখে দেওয়া হয়। আর নির্বাচনের পরেই হামের প্রাদুর্ভাব শুরু হয়ে যায়।