পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে হওয়া অবস্থান কর্মসূচিতে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের ওপর হামলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে দুমকী উপজেলা যুবদলের বহিষ্কৃত সদস্যসচিব সালাউদ্দিন রিপন শরীফের নেতৃত্বে বহিরাগতরা এ হামলা চালায়। গতকাল সকাল ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এতে বিএনপিপন্থি আটজন শিক্ষকসহ ১১ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন- মৃত্তিকাবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, হর্টিকালচার বিভাগের অধ্যাপক ড. আবদুল মালেক, ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান, কৃষি রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন, কর্মকর্তা ড. হাসিব মোহাম্মদ তুষার, আরিফুর রহমান নোমান ও নাসরিন আক্তার। এর মধ্যে আটজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থি শিক্ষক ও কর্মকর্তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা উপাচার্যের অপসারণ দাবি জানান। এ সময় উপাচার্যের সমর্থনে সালাউদ্দিন রিপন শরীফের নেতৃত্বে অর্ধশতাধিক বহিরাগত ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে কর্মসূচিতে বাধা দেন। এ সময় আটজন শিক্ষকসহ ১১ জনকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। ঘটনার পর ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে শিক্ষকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল হয়। পরে বিকাল ৪টায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনায় বিচার না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণাও দেন শিক্ষক নেতারা।
হামলার পর ক্যাম্পাসে অবস্থানরত অভিযুক্ত সালাউদ্দিন রিপন শরীফ সাংবাদিকদের বলেন, আমরা শুনেছি যে, কিছু আওয়ামী লীগের দোসর ভিসি সাহেবকে এখানে আসতে দিচ্ছে না। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে আমরা এখানে এসেছি। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে। তারা মব সৃষ্টিকারী। হামলায় আহত ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এটি শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর নজিরবিহীন হামলা। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াতপন্থি উপাচার্য এ হামলা করিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, হামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। বর্তমানে তিনি ঢাকায় রয়েছেন, ক্যাম্পাসে ফিরে এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।